গোপনে কথিত শ্রমিক লীগ নেতাদের প্লট দিলেন সিডিএ চেয়ারম্যান

1008 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
নিজের ইচ্ছানুযায়ী কথিত শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীদের গোপনে প্লট বরাদ্দ দিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। বোর্ড সদস্যদের অন্ধকারে রেখে সোমবার নিজ অনুসারী শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীদের ডেকে এসব প্লট বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

চট্টগ্রাম: নিজের ইচ্ছানুযায়ী কথিত শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীদের গোপনে প্লট বরাদ্দ দিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। বোর্ড সদস্যদের অন্ধকারে রেখে সোমবার নিজ অনুসারী শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীদের ডেকে এসব প্লট বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। 

তবে মূলধারার শ্রমিক লীগ নেতাদের দাবি, শ্রমিক লীগের নামে যাদের প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তারা আসলে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং চেয়ারম্যানের পোষ্য। এ বিষয়ে তারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

এর আগে কোন ধরনের বিজ্ঞপ্তি এবং লটারি ছাড়াই গোপনে মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালীদের প্লট বরাদ্দ দিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। 

এবার গোপনে বরাদ্দ পাওয়া পাঁচজন হলেন- জয়নাল আবেদীন, আবদুর রশিদ, স্বপন ভৌমিক, মঈনুল ইসলাম খান টনি, মো.আলমগীর। পাঁচজন  সিডিএ চেয়ারম্যান সৃষ্ট কর্মচারী লীগের বিভিন্ন পদে আছেন।

সিডিএ সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে ৩৮৪ তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নগরীর অনন্যা আবাসিক প্রকল্প থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত ১১১টি প্লট একই সঙ্গে কর্মচারীদের অনুকূলে ‘নো-লস, নো প্রফিট’ ভিতিত্তে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এসব প্লট বরাদ্দের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সিডিএ কর্মচারী লীগ ও শ্রমিক লীগের নেতারা আন্দোলন করে আসছেন। সোমবার দুপুরে ৫০টি প্লট বরাদ্দের ঘোষণা দেন চেয়ারম্যান। এদের মধ্যে ৪৫টি প্লট সিডিএ কর্মচারীদের ও ৫টি প্লট গোপনে কথিত শ্রমিকলীগ নেতাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব তাহেরা ফেরদৌস বাংলানিউজকে বলেন, ‘৪৫টি প্লটের বরাদ্দ পত্রে স্বাক্ষর করেছিলাম।’

আরো পাঁচটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ মুহুর্তে ঠিক মনে পড়ছে না।’

প্লট বরাদ্দের বিষয়টি জানে না স্বয়ং প্লট বরাদ্দ কমিটির চেয়ারম্যান ও বোর্ড সদস্য ইউনুস গণি চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কর্মচারীদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান কোন বোর্ড সদস্যের সঙ্গে কথা বলেন নি। নিজের ইচ্ছেমতো দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’

সিডিএ কর্মচারী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন,‘সিডিএ কর্মচারী লীগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩৮৪তম বোর্ড সভায় ১১১টি প্লট বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্লট বরাদ্দের মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার রয়েছে। কিন্তু সিডিএ চেয়ারম্যান বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে তার পোষ্য জামায়াত-শিবিরের লোকদের গোপনে প্লট বরাদ্দ দিয়েছেন। কোন শ্রমিক লীগ ও কর্মচারী লীগের লোকজন প্লট বরাদ্দ পায়নি। এ বিষয়ে আমরা আইনের আশ্রয় নেব।’

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কর্মচারীদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ম থাকায় বোর্ড মেম্বারদের জানানো হয়নি।’

কয়টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন,‘সরকারি নিয়মে যতটা রয়েছে ততটা প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কয়টা ঠিক এ মুহূর্তে মনে নেই।’

এর আগে ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর নিয়ম না মেনে কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী’র উপদেষ্টা, মন্ত্রী ও এমপিসহ প্রভাবশালীদের প্লট বরাদ্দ দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নজিরবিহীন অনিয়মের মাধ্যমে সিডিএ’র ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোন ধরনের বিজ্ঞপ্তি এবং লটারি ছাড়াই এসব প্লটের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে নগরীর কুয়াইশ ও চান্দগাঁও মৌজায় একটি আবাসিক এলাকা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সিডিএ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের জন্য চান্দগাঁও এলাকায় ১১৭ দশমিক ৭৩৫ একর এবং কুয়াইশ এলাকার ৫২ দশমিক ২২ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। তখন ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২৮৪ কোটি ৬১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয় ২০০৫ সালের জুলাই থেকে ২০১০ সালের জুন পর্যন্ত।
কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ নানা কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। তাই ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফাইল (ডিপিপি) সংশোধন করা হয়। সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারিত হয় ৩৭৬ কোটি দুই লাখ তিন হাজার টাকা। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সিডিএর খরচ বেড়েছে ৯১ কোটি ৪০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় তিন বছর বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত।

অনন্যা আবাসিক এলাকায় বিভিন্ন আকারের প্লট রয়েছে এক হাজার ৭৩৩টি। এসব প্লটের বরাদ্দ দেওয়া হয় ২০০৮ সালের জুলাই মাসে। তিন, চার ও পাঁচ কাঠার এসব প্লটের দাম নির্ধারণ করা হয় যথাক্রমে সাড়ে চার লাখ, পাঁচ লাখ এবং ছয় লাখ টাকা। এ ছাড়া কর্নার প্লটের জন্য বাড়তি ২৫ হাজার টাকা করে দিতে হয়। একক ও যৌথ নামে প্লটের গ্রাহকসংখ্যা আড়াই হাজারেরও বেশি বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৪ ঘণ্টা, জুন ৩০, ২০১৪

নজরুলজয়ন্তীতে ছায়ানটের নিবেদন
মঈনুল আহসান সাবেরের জন্ম
ইতিহাসের এই দিনে

মঈনুল আহসান সাবেরের জন্ম

চট্টগ্রামে ঈদের দিন করোনায় আক্রান্ত ১৭৯ জন
গান-আড্ডায় করোনা রোগীদের ঈদ উদযাপন ফিল্ড হাসপাতালে
প্লেন চালুর শুরুতেই ধাক্কা ভারতে, একের পর এক ফ্লাইট বাতিল


দেশবাসীকে ঘরে থাকার আহবান খালেদা জিয়ার
নারায়ণগঞ্জে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত
আড়াইহাজারে মাজার খাদেমের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
গণস্বাস্থ্যের কিটের ট্রায়াল স্থগিত
৫ হাজার মানুষকে ঈদ উপহার দিলেন সালমান খান