চোরাই কিসমিসে সয়লাব বাজার, লোকসানে আমদানিকারকরা

1209 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
প্রতিবছর রমজান এলেই বাজারে কিসমিসের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই আমদানিকারকরাও রমজানকে সামনে রেখে কিসমিস আমদানিতে তৎপর হয়ে উঠেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

চট্টগ্রাম: প্রতিবছর রমজান এলেই বাজারে কিসমিসের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।  তাই আমদানিকারকরাও রমজানকে সামনে রেখে কিসমিস আমদানিতে তৎপর হয়ে উঠেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু আমদানিকারকদের মুনাফার আশা গুড়েবালি করে দিয়েছে চোরাই পথে আসা ভারতীয় কিসমিস।

আমদানীকারকরা বলছেন, চোরাই পথে আসা ভারতীয় কিসমিসের কারণে বাজারে আমদানি করা কিসমিসের চাহিদা অনেক কমে গেছে।  ফলে আমদানিকারকদের লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।  অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছে যে, অনেক প্রতিষ্ঠান কিসমিস আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে।

খাতুনগঞ্জের মেসার্স হাজী মোহাম্মদ ইসহাক সওদাগর অ্যান্ড সন্সের মো. সেকান্দার বাংলানিউজকে জানান, গত ১৫ দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে কিসমিসের দাম প্রতি কেজিতে অন্তত ৩০ টাকা কমেছে।  বর্তমানে ৩০০ টাকা দরে তা বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় প্যাকেটজাত কিসমিসের মূল্য এর চেয়ে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কম।



পাইকারি ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা জানায়, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার টন কিসমিসের চাহিদা রয়েছে।  এরমধ্যে রোজায় চাহিদার এক তৃতীয়াংশ কিসমিস বিক্রি হয়।  রোজার বাইরে শীত মৌসুমে সামাজিক অনুষ্ঠান ও পিঠাপুলি  তৈরিতে কিসমিসের ব্যবহার বেশি।

বিশ্ববাজারে  চীন,  ইরান, আরব আমিরাত, পাকিস্তান, ভারত, আফগানিস্তান, তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশ কিসমিস রপ্তানি করে।  তবে বাংলাদেশ মূলত চীন ও ইরান থেকে আসা কিসমিসের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি।

কিন্তু শুকনো খাদ্য আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণে কয়েক বছর ধরে চোরাই পথে মসলা জাতীয় পণ্য ও কিসমিসের চালান আসছে।  ফলে বৈধ চ্যানেলে এখন শুধু চীন থেকেই কিসমিস আমদানি করা হয়ে থাকে।

আমদানিকারকরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতীয় নিম্নমানের কিসমিস দেশের বড় বড় পাইকারি বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে।  এ কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়েছেন।

তাছাড়া কিসমিসসহ শুকনো খাবার আমদানিতে রেগুলেটরি  ডিউটি-আরডি (নিরুৎসায়িতকরণ কর) আরোপ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা শুকনো খাদ্য আমদানিতে লোকসানে রয়েছেন।

২০১২ সালে মার্চ থেকে শুকনো খাবার আমদানিতে আরডি আরোপ করা হয়।  এর আগে শুকনো খাবার আমদানিতে ৬৬ শতাংশ শুল্ক প্রদান করতে হতো তাদের।

আমদানি খরচসহ বিবিধ খরচ  মিলিয়ে আন্তর্জাতিক  বুকিং দরের  দ্বিগুণ দামে দেশের  বাজারে প্রবেশ করে এসব পণ্য।  কিন্তু চোরাইপথে আসায় ভারতীয় কিসমিস অনেক কমদামে বাজারে বিক্রি করা যায়। ফলে শুল্ক দিয়েও বাজারে বৈষম্যের শিকার হন আমদানিকারকরা।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক বছর ধরে পাইকারি কিশমিশের  বাজারে মন্দাভাব বিরাজ করছে।  গত বছর রমজানে  কেজি প্রতি সর্বোচ্চ  ৩৮০ টাকায় কিশমিশ বিক্রি হলেও চলতি বছর তা নেমে  এসেছে ৩০০ টাকায়।

কিন্তু এরপরও দাম কম থাকায় ভারতীয় কিশমিশের দিকে ক্রেতাদের ঝোঁক বেশী।

খাতুনগঞ্জের শুকনো খাবার ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন জানান, বর্তমানে পাইকারী বাজারে কেজিপ্রতি আমদানিকৃত (চীনা) কিশমিশ বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩১০ টাকায়।  যা  গত এক মাস আগে বিক্রি হয়েছিল ৩৩০-৩৩৫ টাকায়।

ভারতীয় আমদানিকৃত কিসমিস বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৩০০ টাকা দামে।  পনের দিন আগে এই কিশমিশ বিক্রি হয়েছে ৩২৫-৩৩০ টাকায়।  অন্যদিকে ভারতীয় চোরাইপথে আসা  কিশমিশ বিক্রি হচ্ছে ২৬৫ থেকে ২৭০ টাকা কেজি দরে।

তিনি বলেন, আমদানিকৃত ও চোরাই পথে আসা কিসমিসের মানে খুব একটা তফাৎ নেই।  তবুও প্রতি কেজিতে মূল্যের ব্যবধান প্রায় ৪০ টাকা।  চোরাই পথে আসা কিসমিসের দাম কম হওয়ায় আমদানিকারকরা লোকসানে রয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১৩০ ঘণ্টা, জুন ২৯, ২০১৪

ঈদে তেঁতুলিয়ায় সব বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ, কড়া অবস্থানে পুলিশ
নগরবাসীকে মেয়র আরিফের ঈদ শুভেচ্ছা
করোনা আতঙ্ক নিয়েই ঘরে ফিরছে মানুষ
সড়কে দায়িত্ব পালনে গর্বিত, আফসোস নেই ট্রাফিক সদস্যদের
দেশবাসীকে ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা সাজেদা চৌধুরীর


‘চির উন্নত শির...’
আজ ১২১তম নজরুলজয়ন্তী

‘চির উন্নত শির...’

সাবেক এমপি মকবুলের মৃত্যুতে তাপসের শোক
হাসপাতাল কর্মচারীদের জন্য আতিকের ঈদ উপহার
সিলেট আওয়ামী পরিবারে করোনার হানা
হাজি মকবুলের মৃত্যুতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর শোক