‘সওজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটি বাতিল’

890 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিশ্চিত করতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

চট্টগ্রাম: আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিশ্চিত করতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহষ্পতিবার নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। ‘একুশ শতকের সাংবাদিকতায় প্রযুক্তি: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।

মন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করছে। বৃষ্টি দেখলেই আমি ভাবি রাস্তা নষ্ট হবে, যানজট বাড়বে। তারপরও রমজানে রাস্তা ঘাট যানজটমুক্ত রাখতে সামর্থ্য অনুযায়ী সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ও ঈদের ছুটি বাতিল করবো।’

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। বর্ষার কারণে এখন বিটুমিনের কাজ করা যাচ্ছে না। তারপরও ইতোমধ্যে সড়কের প্রায় ৭২ কিলোমিটারের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি কাজ সমাপ্ত করা হবে।’

অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়ক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রবল ইচ্ছা স্বত্ত্বেও বাজেট স্বল্পতার কারণে অক্সিজেন-হাজাহাজারী সড়কের কাজ শেষ করা যায়নি। এ সড়কের কাজ শেষ করতে নতুন করে প্ল্যানিং কমিটি গঠিত হয়েছে। শীঘ্রই এ প্রকল্পে নতুন করে বরাদ্দ দেয়া হবে।’

কর্ণফুলী টানেল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘কর্ণফুলী টানেল বাস্তবায়িত হলে দেশের জন্য পদ্মাসেতুর মতো একটি বিরাট অর্জন হবে। বহুল প্রত্যাশিত এ টানেলটি নির্মাণের জন্য চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। চীনের সাংহাইয়ের মতো নদীর দুই পাড়ে দু’টি বাণিজ্যিক শহর তোলা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামে পোর্ট কানেকটিং ফ্লাইওভারের মতো অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়েছে। আমি জানি না এগুলো কেন করা হচ্ছে। এসব ফ্লাইওভারের চেয়ে টানেল-মেট্রো রেল অনেক জরুরী। এগুলো জাতীয় অর্থনীতির জন্য সমৃদ্ধির দ্বার খুলে দিবে।’

অনুষ্ঠানে রাজনীতিই দেশের সব সমস্যার মূল বলে মন্তব্য করে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা ভালো মানুষ হলে দেশও ভালো মানুষ দ্বারা পরিচালিত হবে, তাতে দেশ আরো দ্রুত সামনে এগিয়ে যেতো। রাজনীতি ঠিক থাকলে আমরা ঠিক হয়ে যেতাম। কিন্তু রাজনীতিতে এখন সৌজন্যতাবোধ কমে গেছে। যা আছে তা সৌজন্য তোরণ-পোস্টার। শিক্ষকসহ সব ধরণের পেশাজীবীদের নিয়েই নোংরা রাজনীতি চলছে, সবখানেই কোন্দল, মশারীর ভেতর অসংখ্যা মশারী।’

সকাল ১১টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ।

চট্টগ্রাম বিশবিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হুমায়ন মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য্য ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী।

ইফতেখার ফয়সালের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক শাহাব উদ্দীন নিপু।

প্রবন্ধের উপর আলোচনায় অংশ নেন এটিএন নিউজের এডিটর আউটপুট প্রণব সাহা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজীব মীর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি বেনু কুমার দে, দৈনিক মুক্তবাণী পত্রিকার প্রকাশক ববিতা বড়ুয়া, টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেন, ‘সাংবাদিকতা শুধু একটা পেশায় নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। গণমাধ্যম যতো গণমুখী হবে, দেশে অপতৎপরতা ততো কমবে।’

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘প্রযুক্তির কারণে সংবাদ এখন মুহুর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে সাংবাদিকদের দায়বোধ অনেক বেড়ে গেছে। তাদের প্রতিটি সংবাদ পরিবেশনের সময় খেয়াল রাখতে হবে সংবাদটি সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে যায় কিনা।’

মূল প্রবন্ধে শাহাব উদ্দীন নিপু বলেন, ‘সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টতার বৈশ্বিক চিত্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকতাও এগিয়ে যাচ্ছে। মূলধারায় সাংবাদিকতায় যেমন প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে তেমনি প্রযুক্তি নির্ভর অনলাইনভিত্তিক বিকল্প ধারার সাংবাদিকতার বিকাশ হচ্ছে।’

অনলাইনের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়া আশাজনক। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে সংবাদের ক্ষেত্রে চৌর্যবৃত্তি মহাকার ধারণ করেছে। প্রযুক্তির নানা সুযোগ ও সম্ভাবনার অপব্যবহারও লক্ষ্যণীয়।

প্রণব সাহা বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে সাংবাদিকতায় প্রযুক্তির ব্যবহারে ব্যাপকতা লক্ষ্য করা গেছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে অতি দ্রুত সময়ে একটা সংবাদ এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা সমাজের বাইরে না, তারাও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে, কোন সংবাদ যেন রাজনৈতিক প্রভাবিত না হয়। আমরা যাই করি না কেন আমাদের বস্তুনিষ্ট ও সত্যনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।’

রাজীব মীর বলেন, ‘প্রযুক্তি সাংবাদিকতাকে গতি দিয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার যতো বাড়বে সাংবাদিকতাও ততো জনমুখী হবে।’

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির পক্ষে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন সংগঠনের সদস্যরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫৮ ঘণ্টা, জুন ২৬, ২০১৪

সিটি ব্যাংক প্রোডাক্ট আর সার্ভিসে আনছে প্রযুক্তির ছোঁয়া
প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেলো ৩৯৭টি মসজিদ
সিআরপিকে ১০ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী
তামাদির বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা চেয়ে নোটিশ
বিএনপি নেতার মৃত্যুতে মির্জা ফখরুলের শোক


আইপিএল আয়োজন করতে চায় আরব আমিরাত
চার কার্যদিবস পর সূচক বাড়লো পুঁজিবাজারে
পেশা পরিচালনা করতে পারবেন গাইবান্ধার সেই ১৭ আইনজীবী
করোনায় মারা গেলেন সাংবাদিক মোনায়েম খান
পঞ্চগড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু