php glass

অবস্থান জানে পুলিশ, নথিপত্রে ‘পলাতক’

1249 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

মুফতি ইজাহারুল ইসলাম

walton
পুলিশের খাতায় তিনি পলাতক। কমপক্ষে চারটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। ঘনিষ্ঠজনদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জ্ঞাতসারেই তিনি অবস্থান করছেন চট্টগ্রামে। ক্ষমতাধর এই ব্যক্তি হলেন ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের সভাপতি মুফতি ইজাহারুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম: পুলিশের খাতায় তিনি পলাতক। কমপক্ষে চারটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। ঘনিষ্ঠজনদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জ্ঞাতসারেই তিনি অবস্থান করছেন চট্টগ্রামে। ক্ষমতাধর এই ব্যক্তি হলেন ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের সভাপতি মুফতি ইজাহারুল ইসলাম।

ইজাহারের ঘনিষ্ঠদের মতে, সরকার এবং প্রশাসনের একটি অংশের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে তিনি ‘মুক্ত’ অবস্থায় আছেন। রাজনৈতিকভাবে তিনি সরকারবিরোধী অবস্থান নেবেন না এমন আশ্বাস পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবেনা বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এরপরও চাপে রাখার জন্যই তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো নিয়ে এত তোড়জোড় পুলিশের।

তবে কোন ধরনের নেপথ্য সমঝোতার কথা জানেন না বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বনজ কুমার মজুমদার।

তিনি বলেন, মুফতি ইজাহার সম্পর্কে আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। বিভিন্ন সময় তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। সুযোগ পেলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

হেফাজতে ইসলামের ভেতরে কট্টর সরকারবিরোধী অংশের নেতৃত্বদাতা সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ইজাহারুল ইসলাম ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর নগরীর লালখানবাজারে তার পরিচালিত মাদ্রাসায় গ্রেনেড বিস্ফোরণের পর থেকে ‘আত্মগোপনে’ আছেন।

অনুসন্ধানে ‍জানা গেছে, মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের প্রায় ছয় ঘণ্টা পর পুলিশের চোখের সামনেই পালিয়ে যান ইজাহার। সেখান থেকে রাউজান, হাটহাজারী হয়ে পটিয়ায় অবস্থান করেন কিছুদিন। সেখান থেকে গিয়ে কক্সবাজারে অবস্থান করেন কিছুদিন। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি লালখানবাজার মাদ্রাসায় ফিরে আসেন। মাদ্রাসায় এখনও অনিয়মিতভাবে তিনি যাওয়া-আসা করেন বলে জানা গেছে। 

এক মাস আগে ইজাহারের মাদ্রাসায় ফিরে আসার কথা শুনে এলাকার লোকজন থানায় খবর দিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ মাদ্রাসায় অভিযান চালায়নি। ইজাহারের মাদ্রাসায় আসার খবর পেয়ে নগর পুলিশের একজন অতিরিক্ত উপ কমিশনার ও এক ওসি তাকে গ্রেপ্তারে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৭ অক্টোবরের পর পুলিশ মাদ্রাসায় আর একবারও অভিযান পরিচালনা করেনি। তবে তদন্তের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা কয়েকবার মাদ্রাসায় গেছেন। 

নগর পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, মুফতি ইজাহারের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুললে সিনিয়ররা তা এড়িয়ে যেতে চান। এতে বুঝতে পেরেছি ইজাহারকে গ্রেপ্তারে সিনিয়র কর্মকর্তাদের আগ্রহ নেই।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বাংলানিউজকে বলেন, সরকার সমঝোতার চেষ্টা করেছে বলে শুনেছি, পত্রপত্রিকায়ও পড়েছি। তবে সমঝোতা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। অতীতেও আলেম-ওলামাদের বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখানো হয়েছে। কিন্তু একদিকে সমঝোতা করবে, আরেকদিকে মামলা ঝুলিয়ে রাখবে সেটা তো হতে পারেনা। 

মুফতি ইজাহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি আত্মগোপনে আছেন। বেশ কয়েক মাস আগে যোগাযোগ হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি কোথায় আছেন আমি জানিনা।

চট্টগ্রামের গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়কারী শরীফ চৌহান বাংলানিউজকে বলেন, মুফতি ইজাহারকে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সবাই চেনে। এ ধরনের উগ্র মৌলবাদী ব্যক্তির সঙ্গে সমঝোতা করা আর বিষধর সাপের সঙ্গে বসবাস করা একই কথা। যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, মৌলবাদী, জঙ্গিবাদীদের সঙ্গে সমঝোতার খেসারত একদিন সবাইকে দিতে হবে।

গত বছরের ৭ অক্টোবর নগরীর লালখানে মুফতি ইজাহারুল ইসলাম পরিচালিত জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসায় হ্যান্ডগ্রেনেড বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে তিনজন মারা যায়। পরে পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালিয়ে চারটি তাজা গ্রেনেড, ১৮ বোতল এসিড এবং বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নগরীর খুলশী থানায় বিস্ফোরক আইনে, এসিড নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং খুনের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরক আইনের মামলায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে আসামি হিসেবে আছেন মুফতি ইজাহার ও তার ছেলে হারুন ইজাহারসহ ৯ জন। অভিযোগ গঠনের পর এ মামলায় বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

এসিড নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় মুফতি ইজাহার ও তার ছেলেকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে গত ২৮ মে। মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে আছে।

খুনের মামলা তদন্ত শেষে ইজাহার ও তার ছেলেসহ পাঁচজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি তিন আসামি হলেন তাদের সহযোগী জুনায়েদ, হাবিবুর রহমান ও মোহাম্মদ ইসহাক। অভিযোগপত্রে ১৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ বাংলানিউজকে বলেন, অভিযোপত্র চূড়ান্ত করে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের মতামত নিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। দ্রুত অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।

এর বাইরে দুর্নীতি দমন কমিশনের নোটিশ অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী জমা না দেয়ার অভিযোগে মুফতি ইজাহারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলায় গত ২৯ মে থেকে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চারটি মামলাতেই মুফতি ইজাহারের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে।

মুফতি ইজাহারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার বাংলানিউজকে বলেন, মুফতি ইজাহারের বিরুদ্ধে যেসব মামলা দায়ের হয়েছে সবগুলোই রাজনৈতিক মামলা। শুধু রাজনৈতিকভাবে তাকে চাপে রাখার জন্যই এসব মামলা দেয়া হয়েছে।

মুফতি ইজাহার পলাতক থাকলেও তার ছেলে হারুন ইজাহারকে পুলিশ গত বছরের অক্টোবরে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছিল। বর্তমানে কারাগারে থাকা হারুন ইজাহার গত বছরের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের লংমার্চে ঢাকার শাপলা চত্বরে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া বেশ কয়েকটি মামলারও আসামি।

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে একসময় পরিচয় দিতেন মুফতি ইজাহারুল ইসলাম। বাংলাদেশে হরকাতুল জিহাদের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত ইজাহারের মাদ্রাসায় সংগঠনটির কর্মীরা প্রশিক্ষণ নিয়েছিল বলে পুলিশের কাছে তথ্য আছে।

এক দশক আগে ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসে প্রয়াত কবি শামসুর রাহমানের প্রাণনাশের অভিযোগে আটক হওয়া কয়েক জঙ্গি জানিয়েছিল, তারা মুফতি ইজাহারুল ইসলামের লালখান বাজার মাদ্রাসায় ট্রেনিং নিয়েছিল। 

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর ই তৈয়বার সামরিক শাখার সঙ্গে মুফতি ইজহারের ছেলে মুফতি হারুনের ঘনিষ্ঠতারও অভিযোগ আছে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতে ডাউকি এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া লস্কর ই তৈয়বার দু’জঙ্গি টি নাজের ওরফে নাজের পারবন এবং শফিক ওরফে সাহাফাজ শামসুদ্দিন সেদেশের পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, দু’জঙ্গির সঙ্গে ২০০৯ সালের নভেম্বরে মুফতি হারুনের বাংলাদেশে কয়েক দফা বৈঠক হয়। এমনকি তারা মার্কিন ও ভারত দূতাবাসে হামলারও পরিকল্পনা নিয়েছিল।

২০১০ সালের ডিসেম্বরে মুফতি ইজাহার ও মুফতি হারুনকে আটক করে ৠাব। চারমাসের মাথায় জামিনে বের হন তারা।

বাংলাদেশ সময়: ১৪০০ ঘণ্টা, জুন ১০, ২০১৪

এজলাস কক্ষে খুন, গাফিলতি আছে কিনা খোঁজা হচ্ছে
এবার আসছে ‘লেডি কিলার ২’
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আইনজীবী নিয়োগ
এজলাসে বিচারকও নিরাপদ নন: রিজভী
গাজীপু‌রে তুরাগ নদ থে‌কে ক‌লেজছা‌ত্রের মর‌দেহ উদ্ধার


অনলাইনে পোশাক কেনার সময় করণীয়
ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিত করতে ডিসিদের নির্দেশ
বিশ্বের সবচেয়ে দুরূহ সড়কের রেকর্ড ‘হার্লেক স্ট্রিট’র 
বোদায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
আত্রাই নদের পানি বিপদসীমার ৫০ সে.মি.ওপরে