php glass

বিশেষজ্ঞ মতামতকে পাত্তা দিচ্ছেন না ছালাম

6135 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
নগরীর যত্রতত্র ফ্লাইওভার নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। স্বয়ং গণপূর্তমন্ত্রী নির্মিত ফ্লাইওভারগুলো ব্যবহার উপযোগী করতে নগর পরিকল্পনাবিদদের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেন।

চট্টগ্রাম: নগরীর যত্রতত্র ফ্লাইওভার নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। স্বয়ং গণপূর্তমন্ত্রী নির্মিত ফ্লাইওভারগুলো ব্যবহার উপযোগী করতে নগর পরিকল্পনাবিদদের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু নগরীতে এসব অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের প্রধান ব্যক্তি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের যেন এনিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই। বিশেষজ্ঞদের মতামতকে পাত্তাই দিলেন না তিনি।

বক্তব্যে তিনি কৌশলে তার কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

স্বয়ং মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের মতামতকে উপেক্ষা করে ছালাম বলেন,‘যারা এখানে আছেন তারা আমার চেয়ে অনেক বেশি যোগ্য। অনেক বেশি অভিজ্ঞ। তারপরও বলছি, সিডিএ বেশি কিছু করেনি। পাঁচটি বছর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন করার জন্য সিডিএর উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চট্টগ্রামের চেহারাই পাল্টে দিয়েছে।’

শনিবার রাতে নগরীর আইইবি সেমিনার কক্ষে ‘চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন: যানজট নিরসন ও অন্যান্য বিষয়’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বিশেষজ্ঞ মতামত ও প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে এভাবেই নিজের কাজের বৈধতা নিজেই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ চট্টগ্রাম কেন্দ্র এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে ছালামের এ ধরণের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।

সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন,‘সিডিএর কার্যক্রমের কারণে প্রথম এই  বৈঠক সম্ভব হয়েছে। সিডিএ যখন কাজ শুরু করেছে, তখন সারা চট্টগ্রামে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সিডিএ যদি কাজ শুরু না করতো তাহলে এ অনুষ্ঠান আয়োজন হতো না আমার বিশ্বাস। সিডিএ’র আজকে আনন্দের দিন। উৎসবের দিন।’

এর আগে কী নোট পেপার উপস্থাপন করেন পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহ সভাপতি নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া ও প্রকৌশলী আলী আশরাফ।

সুভাষ বড়ুয়া তার উপস্থাপনায় ২নং গেইট-জিইসি মোড়ে ঘণ্টায় কত গাড়ি চলাচল করে, কি পরিমান গাড়ি চলাচল করলে ফ্লাইওভার প্রয়োজন এসব পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, যানজট নিরসনে চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারের কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। ফ্লাইওভার হলো লাস্ট অপশন। যানজট নিরসনে অনেকগুলো সাশ্রয়ী বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। সাশ্রয়ী কাজগুলো না করে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণে চউক কেন এত উৎসাহী? বিকল্প ব্যবস্থাগুলো কার্যকর না করে কেন আমরা শেষ অপশনে যাব? এসময় তিনি যানজট নিরসনে বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বহদ্দারহাট ও দেওয়ানহাট ফ্লাইওভারগুলো নির্মাণের আগেই আমরা উদ্বেগ জানিয়েছিলাম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা প্রকাশ হয়েছিল। সেই আশঙ্কা যে সঠিক ছিল, তা প্রমাণিত হয় বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার উন্মুক্ত হওয়ার পর। ওই ফ্লাইওভার দিয়ে নগণ্যসংখ্যক যানবাহন চলাচল করছে। ফ্লাইওভার নির্মাণে যানজট নিরসন হয়নি বরং জনগণের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। তার পরও এ বিষয়ে বিস্তারিত খতিয়ে না দেখে আরো একাধিক ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে।

এ নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন,‘এসব প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে এর সিকি ভাগ টাকাও যদি ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্টে খরচ করা হয় তাহলে নগরীর যানজট নিরসন হয়ে যাবে।’

একইভাবে  প্রকৌশলী আলী আশরাফও ছালামের অপরিকল্পিত নগরায়নের বিরোধীতা করে পেপার উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ১৯৬১ ও ৯৫ সালের মাস্টার প্ল্যানে শহরের বাইরে যেসব নতুন সড়ক করার কথা বলা হয়েছিল সেসব না করে কোটি কোটি টাকা খরচ করে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ এসব সড়ক নির্মাণ করতে এসব টাকার অর্ধেকও খরচ হতো না। নগর পরিকল্পনাবিদরা ফ্লাইওভারের কারণে যানজট আরো বাড়বে বলে মন্তব্য করেন। তারা ইতিমধ্যে যেসব ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে কি পরিমান গাড়ি চলাচল করছে তা জরিপ করে দেখার জন্য মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন খান বাদলও এসময় ফ্লাইওভার নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, কেন এসব ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে বুঝি না। ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে মানুষ মরলো। এখন বলছে এর জন্য কেউ দায়ী না।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও জনপ্রতিনিধিদের এসব মতামতের কোন তোয়াক্কায় করেননি ছালাম। তাদের মতামতের কোন উত্তর দেওয়াও প্রয়োজন মনে করেননি।

প্রসঙ্গত আবদুচ ছালাম ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল দুই বছরের জন্য সিডিএর চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান। ২০১১ সালের ২৬ এপ্রিলে তার মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ দ্বিতীয় দফা এক বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত ২২ এপ্রিল তৃতীয় দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

২০০৫ সালে তৎকালীন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর হাত ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন শিল্পপতি আবদুচ ছালাম। মহিউদ্দিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি সিডিএ চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হন। ছালামকে নিয়োগের মাধ্যমে সিডিএ’র ইতিহাসে প্রথমবারের মত রাজনৈতিক নিয়োগের ঘটনা ঘটে।

২০১০ সালের মাঝামাঝিতে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মহিউদ্দিন পরাজিত হবার পর নগর আওয়ামী লীগে বিভক্তি দেখা দেয়। ছালাম তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আফছারুল আমিনের হাত ধরে মহিউদ্দিন বিরোধী গ্রুপে যোগ দেন।

এরপর থেকে মহিউদ্দিনের অনুসারী সিডিএ কর্মচারী লীগ, নগর শ্রমিক লীগ সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের পদত্যাগ দাবি করে আসছে। তাদের অভিযোগ, সিডিএ চেয়ারম্যান নজিরবিহীন দুর্নীতি ছাড়াও জামায়াত-শিবিরকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন।

২০১২ সালের নভেম্বরে নগরীর বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার ধসে পড়ার পর সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের গ্রেপ্তার দাবি করেছিলেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

এছাড়া ২০১৪ সালের শুরু থেকে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকে দুর্নীতিবাজ ও আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী উল্লেখ  করে  তার পদত্যাগ দাবি করে আসছেন শ্রমিক লীগ নেতারা।

** ফ্লাইওভারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সন্দিহান গণপূর্তমন্ত্রী

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫০ ঘণ্টা, জুন ০৮, ২০১৪

এইচএসসিতে অকৃতকার্য হয়ে বরগুনায় ছাত্রের আত্মহত্যা
খুলনায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারী আটক
কাজিপুরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ফাটল, আতঙ্ক
পঞ্চগড়ে অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার, অটোচালক গ্রেফতার
জেমস-আইয়ুব বাচ্চুর গানে মঞ্চ মাতালেন নোবেল


টাইগারদের জন্য নিজেকে যোগ্য কোচ মনে করেন সুজন
লালবাগে ছুরিকাঘাতে নিহত ১
সাস্ট ক্লাবের সভাপতি কামরুল ও সম্পাদক রিন্টু
প্রিয়া সাহার অভিযোগ নিশ্চয়ই চক্রান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর আ’লীগ