php glass

ফ্লাইওভারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সন্দিহান গণপূর্তমন্ত্রী

1152 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
বাস্তবায়নাধীন মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার ফ্লাইওভারের আদৌ প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান স্বয়ং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

চট্টগ্রাম: বাস্তবায়নাধীন মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার ফ্লাইওভারের আদৌ প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান স্বয়ং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

শনিবার রাতে আইইবি সেমিনার কক্ষে ‘চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন: যানজট নিরসন ও অন্যান্য বিষয়’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় এ প্রশ্ন তুলেন তারা। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ চট্টগ্রাম কেন্দ্র এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়ার উপস্থাপনায় যানজট সমস্যার সমাধান চলে এসেছে। আমি নিজেও অনেক কিছু জানতে পেরেছি। তিনি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যেসব কথা বলেছেন তা বাস্তবায়ন করা হলে যানজট অনেকাংশে কমে যাবে।’

এর আগে কি নোট পেপার উপস্থাপন করেন পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহ সভাপতি নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া ও প্রকৌশলী আলী আশরাফ।

সুভাষ বড়ুয়া তার উপস্থাপনায় ২নং গেইট-জিইসি মোড়ে ঘণ্টায় কত গাড়ি চলাচল করে, কি পরিমান গাড়ি চলাচল করলে ফ্লাইওভার প্রয়োজন এসব পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, যানজট নিরসনে চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারের কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। ফ্লাইওভার হলো লাস্ট অপশন। বিকল্প অনেকগুলো ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো ব্যবহার না করে কেন আমরা শেষ অপশনে যাব।

একই তথ্য উপস্থাপন করেন প্রকৌশলী আলী আশরাফ। তিনি বলেন, ১৯৬১ ও ৯৫ সালের মাস্টার প্ল্যানে শহরের বাইরে যেসব নতুন সড়ক করার কথা বলা হয়েছিল সেসব না করে কোটি কোটি টাকা খরচ করে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। নগর পরিকল্পনাবিদরা ফ্লাইওভারের কারণে যানজট আরো বাড়বে বলে মন্তব্য করেন। তারা ইতিমধ্যে যেসব ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে কি পরিমান গাড়ি চলাচল করছে তা জরিপ করে দেখার জন্য মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(সিডিএ) মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার ফ্লাইওভারটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, এ ফ্লাইওভার দিয়ে কয়টা গাড়ি চলবে তা জরিপ করে দেখা হবে। গাড়িগুলো কোন জায়গায় থেকে কোন জায়গায় যাবে। উঠা-নামার ব্যবস্থা(ল্যান্ডিং) কোথায় কোথায় থাকবে। এসব বিষয় চিন্তা করতে হবে। উঠা-নামার ব্যবস্থা যদি না দিতে পারি তাহলেতো হবে না। যাই হোক এসব আমরা আরো বিস্তারিতভাবে ভেবে দেখবো।

তিনি বলেন, ফ্লাইওভারের বিষয়টি প্রথমে আমি দেখিনি। যখন ডিপিপি হয়ে গেছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর আমি সিডিএ চেয়ারম্যানকে ডেকেছি। বলেছি আপনি আমাকে সম্পূর্ণ ড্রয়িংটা দেখান। তিনি গত বৃহস্পতিবারে আমার অফিসে কনসাল্টেন্টদের নিয়ে আসেন। আমি পুরো ড্রয়িংটা দেখেছি।

তিনি বলেন, ফ্লাইওভারটি নির্মাণে আমার আরো কিছু পরামর্শ থাকবে। যারা নগর পরিকল্পনাবিদ আছেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করবো। তাদের কাছ থেকে কিছু পরামর্শ নিব। পরামর্শ নিয়ে এ ফ্লাইওভার যেন যথাযথ ব্যবহার হয় সে দিকটি আমরা দেখবো।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র পাঁচ মাস। মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের ডিপিপি পাশ হয়েছে নবম সংসদে। মান্নান সাহেব যখন মন্ত্রী ছিলেন তখন। একনেক প্রি একনেক তখন হয়ে গেছে। এবার জাতীয় পরিসংখ্যান কাউন্সিলের(এনএসসি) সভায় আমি যাই। আমি দেখলাম যে এবারের বাজেটে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

যানজট নিরসনে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে কঠোর হওয়ার অনুরোধ জানান মন্ত্রী । ফুটপাত ও সড়ক দখল করে যারা ব্যবসা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। নগরীর কয়েকটি সড়ক থেকে রিকশা তুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বসবো সেখানে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   

এমপি জানেন না তার এলাকায় ফ্লাইওভার

চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদল বলেন, আমার এলাকায় ফ্লাইওভার হচ্ছে আমিই জানি না। বহদ্দারহাট আমার সংসদীয় এলাকা। এখানে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে আমার সঙ্গে কোন কথা বলা হয়নি। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী ফিতা কাটার সময় আমাকে ডাকলো। আমি আসলাম। বললাম আমিতো কিছু জানি না। তখনই বলেছি এ ফ্লাইওভার কেন করেছেন?

তিনি বলেন, ফ্লাইওভারের সঙ্গে মোটা অংকের বাজেটের সম্পর্ক তাই এসব প্রকল্পের দিকে একটু ঝোঁক বেশি। হোক তা অবাস্তব। ফ্লাইওভার যে যানজট নিরসন করতে পারবে না বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার ও দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার তার বড় উদাহরণ। এ দুটি ফ্লাইওভারে কি পরিমান গাড়ি চলাচল করে তা জরিপ করার অনুরোধ করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সভাপতি মোহাম্মদ হারুনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক মোহাম্মদের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, দৈনিক পূর্বকোণের সম্পাদক স্থপতি তছলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ,  নগর পুলিশের উপ কমিশনার(ট্রাফিক) ফারুক আহমেদ, আইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সভাপতি মনজারে খোরশেদ আলম, সিডিএ’র প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খান, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম।

এছাড়া আলোচনা সভায় নগর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, পেশাজীবী পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১১৫২ ঘণ্টা, জুন ০৮, ২০১৪

টেকনাফে ইয়াবা কারবারিদের গুলিবিনিময়কালে নারী নিহত
মহাসড়কে পশুর হাট বসতে না দিতে ডিসিদের নির্দেশনা
খালেদা জিয়ার ১১ মামলার শুনানি ফের পেছালো
জিপিএ-৫ ও পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা
শাহবাগ ছেড়েছেন আন্দোলনকারীরা


মৎস্য সম্পদে ঘাটতি নয়, উদ্বৃত্ত থাকবে: খসরু
দালাইলামার জন্মদিন: ভারতে ঢুকে শাসিয়ে গেলো চীনা সৈন্যরা
 মেসি ফুটবলের আদর্শ: গ্রিজম্যান
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে খালেদার মুক্তির বিকল্প নেই
তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচলে বাধা