ফিজিবিলিটি স্টাডি ছাড়াই ফ্লাইওভার নির্মাণ, দুভোর্গে নগরবাসি

216 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
সম্ভাব্যতা যাচাই(ফিজিবিলিটি স্টাডি) ছাড়াই যানজট নিরসনের নামে নগরীতে যত্রতত্র ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তারা বলছেন, ফ্লাইওভার নির্মাণে যানজট নিরসন হয়নি বরং যানজট ও জনগণের দূভোর্গ আরো বেড়েছে।

চট্টগ্রাম: সম্ভাব্যতা যাচাই(ফিজিবিলিটি স্টাডি) ছাড়াই যানজট নিরসনের নামে নগরীতে যত্রতত্র ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তারা বলছেন, ফ্লাইওভার নির্মাণে যানজট নিরসন হয়নি বরং যানজট ও জনগণের দূভোর্গ আরো বেড়েছে।

মানুষকে ধোকা দিয়ে চমক সৃষ্টি করায় এসব নিমার্ণযজ্ঞের একমাত্র উদ্দেশ্য মনে করছেন তারা।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম আয়োজিত ‘চট্টগ্রামের ট্রাফিক সমস্যা ও ফ্লাইওভার নির্মাণের যথার্থতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সভাপতি ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ সিকান্দার খান ও সাধারণ সম্পাদক স্থপতি জেরিনা হোসেন।

প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া বলেন,‘কয়েক বছর আগে থেকে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ফ্লাইওভার নির্মাণের এক মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছে। বিশ্বের কোথাও ফিজিবিলিটি স্টাডি ছাড়াই এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সাথে মতবিনিময় ছাড়া কোন প্রকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয় না। কিন্তু চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর কোনটিই করেনি।’

তিনি বলেন,‘চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারগুলো নির্মাণের আগেই আমাদের যথেষ্ট উদ্বেগ হয়েছিল এবং মিডিয়াতে আমরা প্রকাশও করেছিলাম। চউক ফিজিবিলিটি স্টাডি ছাড়াই যেসকল ফ্লাইওভার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তাতে টাকার অপচয় হবে, চট্টগ্রামবাসির সার্বিক কল্যাণে আসবেনা। আমাদের উদ্বেগ যে সঠিক ছিল তা প্রমাণিত হলো বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার উন্মুক্ত হবার পর। আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে সারাদিন খুব নগণ্য সংখ্যক যানবাহন ফ্লাইওভার দিয়ে চলাচল করছে।’

তিনি বলেন,‘ফ্লাইওভার এলাকার লোকজনে এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনও সরেজমিন পরিদর্শন করে এই সত্যটুকু উপলব্ধি করতে পেরেছেন। বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার নির্মাণে যানজট নিরসন হয়নি বরং জনগণের দূভোর্গ আরো বেড়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিভিন্ন  তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, একটা জাংশানে ঘণ্টায় ৫ হাজার যানবাহন চলাচল করলে গোল চক্কর ও সাড়ে আট হাজার থেকে ১০ হাজার যানবাহন চলাচল করলে চ্যানালাইজড জাংশান তৈরি করতে হবে। এর বেশি চলাচল করলে তখন ফ্লাইওভাররের কথা চিন্তা করা যেতে পারে।

নগর পরিকল্পনাবিদ সুভাষ বড়ুয়া বলেন,‘সিডিএর করা সমীক্ষা অনুযায়ী বহদ্দারহাট মোড়ে প্রতি ঘণ্টায় যানবাহন চলাচল করে ২হাজার ৭৯১টি, জিইসি মোড়ে প্রতি ঘণ্টায় যানবাহন চলে ৪ হাজার ৯০৪টি ও মুরাদপুর মোড়ে ২হাজার ৭৭০টি। পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের ২০১২ সালের করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, জিইসি মোড়ে প্রতি ঘণ্টায় যানবাহন চলাচল করে ৫হাজার ২২৮টি। চট্টগ্রাম নগরের কোন জাংশানে ফ্লাইওভার নির্মাণের মতো সমপরিমান যানবাহন চলাচল করে না। এরপরও কার স্বার্থে এসব ফ্লাইওভার নির্মাণ আমাদের বোধগম্য নয়।’

তিনি বলেন,‘এসব বাস্তবতার পরেও গত ১৫ মে মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার ৫.২ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের টেন্ডার উন্মুক্ত করে কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শাহ আমানত সেতুর উত্তর দিক থেকে বিমান বন্দর পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল সড়ক নির্মাণের প্রক্রিয়াও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে এর সিকি ভাগ টাকাও যদি ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্টে খরচ করা হয় তাহলে নগরীর যানজট নিরসন হয়ে যাবে।’  

অধ্যাপক সিকান্দার খান বলেন,‘জনগণকে ধোকা দিয়ে চমক সৃষ্টি করার জন্য এসব প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। মানুষকে চমকে দিয়ে ভোট আদায়ের একটা কৌশল মাত্র। বিকৃতি রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে দেশীয় সম্পদের অপব্যবহার করা হচ্ছে।’

স্থপতি জেরিনা হোসেন বলেন,‘মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলাম আমি। ২০১৫ সাল পর্যন্ত এ মাস্টার প্ল্যানের কার্যকারিতা রয়েছে। মাস্টার প্ল্যানের কোথায় উল্লেখ আছে ফ্লাইওভার নির্মাণের কথা একটু দেখাতে বলেন। মাস্টার প্ল্যানকে উপেক্ষা করে এসব করা হচ্ছে। একটি সুন্দর শহরকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে।’

নগরীর যানজট নিরসনে চারটি করণীয় তুলে ধরেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। এগুলো হলো-মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী সিডিএতে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগতভাবে একটা যথার্থ প্ল্যানিং ইউনিট প্রতিষ্ঠা এবং এই আলোকে দীর্ঘ মেয়াদে স্ট্রাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানিং ‌ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা। যার দায়িত্ব হবে নিয়মিত ট্রাফিক জরিপ, যানজটের কারণ নির্ধারণ, যাত্রীর চাহিদা অনুযায়ী যানবাহনের চাহিদা নির্ধারণ।

নির্মিতব্য সকল ফ্লাইওভার এবং সড়কের ফিজিবিলিটি রিপোর্ট তৈরি করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের মতামতের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা নির্ধারণ করা। প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি গ্রহণ।

এরপর সঠিকভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং, এনফোর্সমেন্ট এবং এডুকেশন বাস্তবায়ন করা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী এ বি এম এ বাসেত, স্থপতি বিধান বড়ুয়া, কাজী সামসুদ তৌহিদ, শিক্ষক সুরাইয়া ইসলাম, নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও শাহরিয়ার খালেদ।

বাংলাদেশ সময়:  ১৪৫৮ মে ২৫, ২০১৪

রামগতিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাংবাদিক নিহত
করোনায় সিরিয়ায় প্রথম মৃত্যু
স্বল্প পরিসরে চেক ক্লিয়ারিং করার নির্দেশ
করোনায় ইতালিতে আরও ৭৫৬ জনের মৃত্যু
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর বার্তা


প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ১ দিনের বেতন দিলেন সেনা সদস্যরা
মাঠে নেমে সহায়তা করছেন বলিউড তারকারা
ল্যাব না থাকলেও সিংড়ায় গেল দুই'শ করোনা টেস্টিং কিট
মানুষকে টেলিফোনে চিকিৎসাসেবা দিতে ফারাজের উদ্যোগ
রাজশাহীতে এলো আরও ১ হাজার পিস পিপিই