php glass

রেণু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে হালদা পাড়ের জেলেরা

103 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে সোমবার মা মাছ ডিম ছেড়েছে। ডিম আহরণের পর ডিম ফুটিয়ে হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার সরকারি হ্যাচারি ও কুয়ায় এখন চলছে পরিচর্যার কাজ। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ রেণুগুলো ছড়িয়ে যাবে সারা দেশের বিভিন্ন মৎস্য খামারে।

চট্টগ্রাম :  দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে সোমবার মা মাছ ডিম ছেড়েছে। ডিম আহরণের পর ডিম ফুটিয়ে হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার সরকারি হ্যাচারি ও কুয়ায় এখন চলছে পরিচর্যার কাজ। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ রেণুগুলো ছড়িয়ে যাবে সারা দেশের বিভিন্ন মৎস্য খামারে।


মঙ্গলবার হালদা পাড়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ঘুম সময় কাটছে ডিম আহরনকারীদের। হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট, শাহ মাদারী, মাছুয়াগোনা এবং রাউজানের কাগতিয়া, মোবারকখীল ও পশ্চিম গহিরাসহ সরকারি হ্যাচারিগুলোতে সহকারি হ্যাচারি ও স্থানীয় ডিম আহরনকারী সংগঠনগুলোর সদস্যরা রেণু পরিচর্যার কাজ করছে। সরকারি হ্যাচারিগুলোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত কুয়াগুলোতে সনাতন পদ্ধতিতে রেণু পরিচর্যার কাজ চলছে। তবে কুয়াগুলোতে সনাতনি পদ্ধতিতে রেণু বেশি নষ্ট হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

মাছুয়া গোনার ডিম আহরণকারী মো. লোকমান সওদাগর বাংলানিউজকে বলেন,‘গত কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করেছি। সোমবার কাঙ্খিত ডিম সংগ্রহ করতে পেরে ভালো লাগছে। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ডিম কম পেয়েছি।

তিনি বলেন, ‘সরকারি হ্যাচারিগুলোতে রেণু পরিচর্যা করা খুব সহজ। সরকার যদি হালদার মা  মাছ রক্ষার ব্যাপারে আরো সক্রিয় হত তবে আমরা আরো বেশী ডিম আহরণ করতে পারতাম।’

তবে মদুনাঘাট হ্যাচারির আশু বড়ুয়া বাংলানিউজকে জানান, এবার গত বছরের তুলনায় বেশী ডিম আহরন করেছি। সোমবার সারাদিনে ১২টা নৌকায় পানি ছাড়া প্রায় ২৬ বালতি ডিম সংগ্রহ করেছি। ডিম গুলো ফুটিয়ে এখন পরিচর্যা করা হচ্ছে। আগামী শুক্রবার বা শনিবার থেকে রেণুগুলো বিক্রি করা হবে।

মদুনাঘাটের খোকন জলদাস জানান, গত বছর এক কেজি রেণু ৫০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছিল। এবার দাম আরো বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার সরকার বোর্ড করে বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করবে। এবার ভাল দাম পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন খোকন।

হালদা বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বাংলানিউজকে বলেন, ‘ডিম ফুটানোর ৯৬ঘণ্টা পর রেণুগুলো বিক্রির উপযোগী হয়। ফলে ডিম আহরণকারীরা এখন রেণু পরিচর্যায় ব্যস্ত। গত বছরের তুলনায় বেশী ডিম আহরিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হাটহাজারী উপজেলা সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা কাজী আবুল কালাম বাংলানিউজকে বলেন, উপজেলার সকল হ্যাচারিগুলো তদারকি করছি। যেন আহরিত রেণু নষ্ট না হয়। তিনি বলেন শুক্রবার থেকে রেণু বিক্রি শুরু হবে।

তবে হ্যাচারি গুলোতে অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করে মাছুয়াগোনা মৎস্য হ্যাচারি কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম বাংলানিউজকে বলেন, মৎস্য বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্ব অবহেলার কারনে হ্যাচারিগুলো ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, মাছুয়াগোনা হ্যাচারিতে কুয়াগুলোর নিচে ছিদ্র দিয়ে পানি ও রেণু বাইরে বের হয়ে যাচ্ছে। এতে ডিম আহরণকারীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হবে।  

বাংলা সনের শেষ মাস থেকে ফাল্গুন মাসের শেষ দিকে সাংগু, মাতামুহুরী, কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন শাখা নদী ও খাল থেকে মা মাছ ডিম ছাড়ার জন্য হালদা নদীতে চলে আসে। অমাবস্যা, পূর্ণিমা ও অষ্টমী তিথিতে বজ্রসহ প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল থাকলে নদীর উজানে মা-মাছ ডিম ছাড়ে।

হাটহাজারী উপজেলা হ্যাচারি সহকারী ছোটন দাশ বাংলানিউজকে বলেন, আজকে পূর্ণিমা শেষ । আগামীকাল থেকে অমাবস্যা শুরু হবে। যদি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আবার বৃষ্টি হয় এবং পাহাড়ি ঢল নামে তাহলে মা মাছ দ্বিতীয় দফায় ডিম ছাড়তে পারে।

বাংলাদেশ সময় : ১৮৫৬ ঘন্টা, ১৩ মে, ২০১৪

বিজয়ের অনুষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধীদের আমন্ত্রণ না দিতে নির্দেশ
জিম্বাবুয়েতে তীব্র খরায় ২০০ হাতির মৃত্যু
বাগেরহাটে দুস্থদের মধ্যে জাকাতের চেক বিতরণ
বাবু ভাইয়ের কাছে রাজনীতি শিখুন: তথ্যমন্ত্রী
পঞ্চগড়ে ট্রাকের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু


ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ টাকা-টেউটিন বিতরণ
সিনেমা মুক্তির আগে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র: মাসুদ পথিক
‘যেখানেই অনিয়ম, সেখানেই হোক হাততালি’
 কারি লাইফ অ্যাওয়ার্ড পেল প্লাটিনাম লাউঞ্জ
নিজেকে বলিভিয়ার ‘অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা আনিয়েজের