php glass

দলে অবিশ্বাস, তৃণমূলে নেতৃত্ব বদল

শামসুলের জন্য মাঠে নেই নেতাকর্মীরা

82 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
দলের নগর শাখার আমির এবং সাতকানিয়া-লোহাগাড়া থেকে নির্বাচিত সাবেক সাংসদ হলেও আ ন ম শামসুল ইসলামের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জোরালোভাবে মাঠে নামেননি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ডাক‍া বিক্ষোভ কর্মসূচীও পালিত হয়েছে গোপনে দায়সারাভাবে। এছাড়া চট্টগ্রাম নগরীতে গোপনে জামায়াতের তৃণমূল নেতৃত্ব পাল্টে ফেলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম: দলের নগর শাখার আমির এবং সাতকানিয়া-লোহাগাড়া থেকে নির্বাচিত সাবেক সাংসদ হলেও আ ন ম শামসুল ইসলামের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জোরালোভাবে মাঠে নামেননি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ডাক‍া বিক্ষোভ কর্মসূচীও পালিত হয়েছে গোপনে দায়সারাভাবে। এছাড়া চট্টগ্রাম নগরীতে গোপনে জামায়াতের তৃণমূল নেতৃত্ব পাল্টে ফেলা হয়েছে।

পুলিশ এবং জামায়াতের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে জামায়াতের মধ্যে আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর অনুসারীদের আলাদা দু’টি ধারা আছে। শামসুলের গ্রেপ্তারের পর রাজপথে আসেননি শাহজাহানের অনুসারীরা। আবার বিভিন্ন মামলায় পলাতক শাহজাহান চৌধুরীও শামসুলের জন্য কর্মসূচীতে নেতৃত্ব দিতে মাঠে নামনেনি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগর জামায়াতের নায়েবে আমির মো.আহসানউল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, আকস্মিকভাবে শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারে আসলে আমরা কিছুটা এলোমেলো হয়ে পড়েছিলাম। এরপরও আমরা জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছি। গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় বিভিন্ন জায়গায় মিছিল-মিটিং হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) শহরের সব থানা এবং উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। আসলে ভাংচুর না করলে মিডিয়ার নজরে আসেনা।

তবে জামায়াত নেতা প্রতিবাদ মিছিল-সমাবেশের কথা বললেও বাস্তবে সোমবার রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ফোন করে হরতাল আহ্বান এবং গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শিবিরের একটি বিবৃতি ছাড়া ‍আর কোন কর্মকান্ড চোখে পড়েনি। এমনকি শামসুল ইসলামের নির্বাচনী এলাকা সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় গ্রামাঞ্চলে ছোটখাট দু’একটি মিছিল ছাড়া আর কোন প্রতিবাদ কর্মসূচীর খবর পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমে জামায়াত-শিবির তাদের কর্মকান্ডের কোন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও পাঠায়নি।

তবে হরতালের সমর্থনে মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর প্যারেড কর্ণারে ছাত্রশিবির মহানগর (উত্তর) শাখা মিছিল-সমাবেশ করেছে।

নগর পুলিশের কোতয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার শাহ মো.আব্দুর রউফ বাংলানিউজকে বলেন, পুরো নগরীতেই আমরা অ্যালার্ট আছি। কোথাও জামায়াত-শিবিরের মিছিল-সমাবেশের কোন খবর আমরা পাইনি।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম এমরান ভূঁইয়া বাংলানিউজকে বলেন, সাবেক সাংসদ শামসুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়েই সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জামায়াত-শিবির মহাসড়কে জমায়েত হয়ে নাশকতা করবে বলে আমাদের আশংকা ছিল। কিন্তু তারা জমায়েত হওয়ার কোন চেষ্টা করেননি। তবে নাশকতা প্রতিরোধের প্রস্তুতি আমাদের ছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্নীতির দায়ে কারাগারে আটক থাকায় ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি সাতকানিয়া আসন থেকে দু’বার নির্বাচিত সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী। তখন জামায়াত থেকে সাতকানিয়ায় প্রার্থী করা হয় নগর আমির আ ন ম শামসুল ইসলামকে। সাংসদ নির্বাচিত হয়ে আ ন ম শামসুল ইসলাম সাতকানিয়ায় জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে শাহজাহান অনুসারীদের কৌশলে সরিয়ে দেন। মূলত তখন থেকেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।

এবারও শাহাজাহন চৌধুরী পলাতক থাকা অবস্থায় গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে নগর জামায়াতের আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। নগরীর সব থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটের নেতৃত্ব পাল্টে ফেলা হয়েছে। নগর জামায়াতের নেতৃত্বও পুর্নবিন্যাস করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে নগর জামায়াতের নেতাদের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়েছে।

কোতয়ালী থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম বাংলানিউজকে বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে জামায়াতের সব ইউনিটের নেতৃত্ব পাল্টে ফেলা হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের গ্রেপ্তারের পর আমরা এ তথ্য পেয়েছি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগর জামায়াতের নায়েবে আমির মো.আহসানউল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, জামায়াত রাতারাতি নেতৃত্ব পাল্টে ফেলার দল নয়। এ ধরনের কর্মকান্ডের চর্চা জামায়াতে নেই। যা করা হয়েছে সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই করা হয়েছে।

জামায়াতের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্রমতে, আওয়ামী লীগের গত মেয়াদে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও সংসদ নির্বাচন নিয়ে সহিংসতার মধ্যে গ্রেপ্তার এড়িয়ে থাকা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক আ জ ম ওবায়দুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদউল্লাহসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতার একসঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় সংগঠনের মধ্যেও কিছুটা অবিশ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। নগর জামায়াত পুর্নগঠন প্রক্রিয়া ভন্ডুল করতে শামসুলবিরোধী গ্রুপের লোকজনের এর সঙ্গে যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করছে দলের একাংশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতয়ালী থানার ওসি এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম বাংলানিউজকে বলেন, কার্যালয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডের পরিকল্পনা হচ্ছে বলে খবর পেয়েই আমরা গিয়েছিলাম। আমাদের কে খবর দিয়েছে সেটা তো আমি আপনাকে বলতে বাধ্য নয়।

এ প্রসঙ্গে নগর জামায়াতের নায়েবে আমির মো.আহসানউল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, জামায়াতের ভেতরের কেউ এ ধরনের কাজ করবে বলে আমরা বিশ্বাস করিনা। কেউ এ ধরনের কাজ করলে জামায়াতের ভেতরে তার রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লোহাগাড়ায় পুলিশ হত্যা মামলাসহ নগরী ও জেলায় প্রায় ১২টি ‍মামলার আসামী শামসুল ইসলাম। শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধেও মামলা আছে ১৫টিরও বেশি। শাহজাহান চৌধুরী বর্তমানে পলাতক আছেন। শামসুল ইসলাম বেশ কয়েকটি মামলায় জামিনে ছিলেন।

উল্লেখ্য সহিংসতার ঘটনায় নগরীর ১৬টি থানায় মোট ১৮২টি মামলা দায়ের হয়েছিল। এর মধ্যে কোতয়ালী থানায় ৪১, বাকলিয়া থানায় ১২, চকবাজার থানায় ৩, সদরঘাট থানায় ২, পাঁচলাইশ থানায় ২৬, খুলশী থানায় ৫, বায়েজিদ বোস্তামি থানায় ৬, চান্দগাঁও থানায় ১৪, ডবলমুরিং থানায় ৯, হালিশহর থানায় ৬, পাহাড়তলী থানায় ১৪, আকবর শাহ থানায় ১০, বন্দর থানায় ৭, ইপিজেড থানায় ৩, পতেঙ্গা থানায় ২ এবং কর্ণফুলী থানায় ২টি মামলা আছে।

১৮২টি মামলার মধ্যে ৪৫টি মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। যে ১৬টি মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেগুলো  এখনও তদন্তের পর্যায়ে আছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সহিংসতার অভিযোগে দায়ের হওয়া এসব মামলায় বিএনপি-জামায়াতের চট্টগ্রামের শীর্ষ নেতারা আসামী হিসেবে আছেন।

প্রসঙ্গত সোমবার বিকেলে নগরীর দেওয়ানবাজার এলাকায় জামায়াতের কার্যালয়ে এক বৈঠক থেকে ২১ জনকে আটক করা হয়। এসময় তল্লাশি চালিয়ে বেশকিছু বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়।

আটক হওয়া ২১ জনের মধ্যে আছেন, নগর জামায়াতের আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক আ জ ম ওবায়দুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড.হাবিবুর রহমান, দক্ষিণ জেলা জামায়াত কার্যালয়ের কর্মচারী মো.মাঈনুদ্দিন ও নগর জামায়াতের কার্যালয়ের কর্মচারী আবু বক্কর সিদ্দিক, চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচারী আব্দুল হাকিম, বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণাগারের (বিসিএসআইআর) কর্মচারী এবিএম মনিরুজ্জামান, জামায়াত কার্যালয়ের মসজিদের মুয়াজ্জিন মো.সেলিম উদ্দিন, নগর জামায়াতের সদস্য জাকির হোসেন, ডা.সৈয়দ মো.আলম, আইয়ূব আলী ও আব্দুল মতিন, পতেঙ্গা ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল মোতালেব, ইসলামিয়া একাডেমির কর্মচারী সিদ্দিকুর রহমান, দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড জামায়াতের প্রচার সম্পাদক শাহ আলম, দেওয়ানবাজার মসজিদের খাদেম ইব্রাহিম এবং জামায়াতের সক্রিয় সদস্য তৌহিদুল আলম, আবুল হাশেম ও ফারুক আজম।

জামায়াত কার্যালয় থেকে উদ্ধার করা বিস্ফোরকের মধ্যে আছে, দেড় কেজি পটাশ, দুই লিটার পেট্রল এবং বেশ কয়েকটি বোতল।

সোমবার গভীর রাতে কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) ইমাম হোসেন বাদি হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৬ এর ১ (ক) ধারায় আটক ২১ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৫ ঘণ্টা, মে ১৩,২০১৪

পাবনায় ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে ২ জনের ফাঁসি
বরিশালে দিনে দুপুরে বাসায় চুরি
আগুন নিয়ন্ত্রণের পর চলছে ডাম্পিং
আসছে ‘মিশন এক্সট্রিম’র প্রথম পোস্টার
কুষ্টিয়ায় পৃথক মামলায় একজনের ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন


দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত রেমিট্যান্সে কাগজপত্র ছাড়াই প্রণোদনা
সাক্ষী নিয়ে হাইকোর্টে ওসি মোয়াজ্জেমের আবেদন খারিজ
‘মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা রয়েছে’
যবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষা বৃহস্পতিবার
দেশের ৩৫ ঊর্ধ্ব ১১.৪ শতাংশ মানুষ সিওপিডিতে আক্রান্ত