php glass

চট্টগ্রাম বাণিজ্য মেলা

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে পণ্যের দাম বৃদ্ধি

116 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম চেম্বার আয়োজিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় স্টলের বিদ্যুৎ বিল গ্রহণে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ছোট্ট একটি স্টলের বিদ্যুৎ বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। স্টল মালিকদের অভিযোগ, দিনের অধিকাংশ সময় মেলায় বিদ্যুৎ থাকে না।

চট্টগ্রাম: নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম চেম্বার আয়োজিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় স্টলের বিদ্যুৎ বিল গ্রহণে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
ছোট্ট একটি স্টলের বিদ্যুৎ বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। স্টল মালিকদের অভিযোগ, দিনের অধিকাংশ সময় মেলায় বিদ্যুৎ থাকে না। চার থেকে আটটি এনার্জি ভাল্ব জ্বালানোর বিপরীতে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের জন্যে এখনো অনেক স্টল মালিক তা পরিশোধে অনীহা প্রকাশ করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্টল মালিক বাংলানিউজকে বলেন, ১০ থেকে ১২টি বাল্ব ২৪ ঘন্টা জ্বালালেও চার হাজার টাকার বেশি বিল আসার কথা নয়। কিন্তু আমাকে বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ১৭ হাজার টাকা।

মেলায় কৌশলে চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠেছে। আয়োজকরাও এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। তবে আয়োজকরা বলছেন,নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে কোন সমাধান দিতে না পারা এবং চাঁদাবাজির কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেলায় আসা ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্য মেলার নীতিমালা অনুসরণ না করা, ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি, সেবার মনোভাব না থাকায় এ বাণিজ্য মেলা মানুষের কল্যাণে কোন ভূমিকা রাখছে না।

ব্যবসা-বাণিজ্য অধিকতর প্রসার করাই বাণিজ্য মেলার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বলে মনে করছেন তারা। কিন্তু চট্টগ্রাম বাণিজ্য মেলা বেচা-কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সহ-সভাপতি মাহবুব চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, মেলার আয়োজন করা হয় মূলত: উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে ব্যবসায় উৎকর্ষ সাধনের জন্য। কিন্তু বর্তমানে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে এ মেলায় মানুষের কল্যাণ হচ্ছে না।

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও চাঁদাবাজির বিষয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বাংলানিউজকে বলেন, ব্যবসায়ীদের অনুরোধে এখন রাত ১২টা পর্যন্ত মেলা চলছে। তাই হয়তো বিল একটু বেশি আসছে।

মেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী পিডিবির স্টেডিয়াম ডিভিশনের নির্বাহি প্রকৌশলী অশোক কুমার চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, মেলায় সাব স্টেশন স্থাপনের জন্য ৪০ লাখ টাকার পে-অর্ডার জামানত হিসেবে রাখা হয়েছে। মেলা শেষ হলে চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করলে তা ফেরত দেওয়া হবে।

স্টল মালিকরা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী মেলা শেষ হওয়ার পরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার কথা থাকলেও মেলা শুরুর ১০ দিন পরই পূর্ণ মাসের বিল  দেয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য মতে, মেলায় ৪০০ স্টলের বিপরীতে বিদ্যুৎ বিল প্রায় এক কোটি টাকা আদায় করা হচ্ছে। অথচ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ৪০ লাখ টাকার মধ্যেই বিদ্যুৎ বিল সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। 

মেলায় চাঁদাবাজি, বেড়েছে পণ্যের দাম: 
নগরীর পতেঙ্গা এলাকা থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শাহিদুল হক। ছেলের জন্য ৫০০ মিলি একটি পানির বোতলের দাম দিতে গিয়ে চোখ কপালে তার। ১৫ টাকার পানির দাম রাখা হলো ২৫ টাকা।

প্রতিবাদ করেও কোন লাভ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘বিক্রেতারা বলছেন তাদের বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিতে হয়। তাই বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে।’

বিভিন্ন ধাপে চাঁদা আদায়ের কারণে মেলায় পণ্যের অতিরিক্ত দাম রাখার বিষয়টি স্বীকার করে মাহফুজুল হক শাহ বলেন,‘এ অভিযোগ আমরাও পেয়েছি।’

এসব বিষয় ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট দেখে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা স্টল বরাদ্দ দিয়ে থাকি। এরপর বাকি সব কাজ ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠান করে। তারা হয়তো ব্যবসায় লাভের জন্য অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকতে পারে। 

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দল এসে ধারাবাহিকভাবে চাঁদাবাজি করছেন। তবে মেলার প্রথম দিকে এ হার কম থাকলেও শেষ পর্যায়ে চাঁদাবাজি বেড়েছে।

মালিক ও কর্মচারীরা জীবনের ভয়ে মেলা কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করতে পারছেন না। কারণ চাঁদা নেওয়ার কথা কাউকে বললে মারধর এবং মেলা থেকে উচ্ছেদ করারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে জানা যায়।

জৌলুস হারিয়েছে চট্টগ্রাম বানিজ্য মেলা:
আয়োজক প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতা, দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্বের কারণে জৌলুস হারিয়েছে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। আগে বিভিন্ন দেশ আগ্রহ নিয়ে মেলায় অংশ নিলেও ২২ তম বাণিজ্য মেলায় তেমন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশ অংশগ্রহণ করেনি। ফলে বাণিজ্য মেলার মূল উদ্দেশ্য ব্যর্থই হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দর্শনার্থীদের অভিযোগ এবারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বিদেশী স্টলগুলো কেবল নামের খাতিরেই অংশ নিয়েছে। সেখানে মান সম্পন্ন কোন পণ্য নেই। অন্যদিকে দেশীয় পণ্যেও তেমন কোন বৈচিত্র নেই।

লাভের মনোভাবের কারণেই বাণিজ্য মেলা বৈচিত্র হারিয়েছে বলে মনে করছেন, চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি মাহবুব চৌধুরী বলেন,‘বাণিজ্য মেলা থেকে লাভের মনোভাব পরিহার করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যকে প্রমোট করতে ‘নো প্রফিট নো লস’ নীতিতে চলতে হবে। তবেই মেলার সাফল্য আসবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৮ ঘণ্টা, এপ্রিল ১০, ২০১৪

বন্যার পানিতে ভেসে উঠলো নিখোঁজ শিশুর মরদেহ
পশ্চিম রামপুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ শ্রমিকের মৃত্যু
চাঁদ অভিমুখে মানুষের যাত্রা
ক্রসিংয়ে বিয়ের গাড়িতে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ১০
ইয়াবা মামলার ৩ আসামির জামিন বাতিল, গ্রেপ্তারের নির্দেশ


কোনো বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না: তথ্যমন্ত্রী
রোহিঙ্গা নির্যাতন তদন্তে ঢাকায় আসছে আইসিসি প্রতিনিধিদল
চোখের জল বানের জল একাকার সাতকানিয়ায়
‘কিছু কিছু মানুষের জন্য সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়’
র‌্যাবের অভিযানে ৪০০ টন নকল ‌‘টিএসপি’ সার জব্দ