php glass

মুক্তির অপেক্ষায় ‘সিরিজ বোমা’ হামলার নায়ক আরশাদুল

173 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের শীর্ষ সংগঠক, দুর্ধর্ষ জঙ্গী আরশাদুল আলম প্রকাশ টি আলম মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। বিস্ফোরক আইনের দু’টি মামলায় সাজাভোগ শেষে ১৪ এপ্রিলের মধ্যে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার ছেড়ে যাবেন।

চট্টগ্রাম: নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের  (জেএমবি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের শীর্ষ সংগঠক, দুর্ধর্ষ জঙ্গী আরশাদুল আলম প্রকাশ টি আলম মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। বিস্ফোরক আইনের দু’টি মামলায় সাজাভোগ শেষে ১৪ এপ্রিলের মধ্যে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার ছেড়ে যাবেন।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট চট্টগ্রামে সিরিজ বোমা হামলার মূল নায়ক  আরশাদুল আলমের (বন্দি কয়েদি নং-৪৪৭৩/এ) মুক্ত হতে যাবার খবর পৌঁছেছে নগর পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো.ছগীর মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, গত ১ এপ্রিল নিয়মিত জেল প্যারেডের সময় আরশাদুল আলমের সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। তার বিরুদ্ধে বিচারাধীন আর কোন মামলা নেই। ১৪ এপ্রিলের মধ্যে যে কোন দিন আরশাদুল আলমের মুক্তিতে কোন বাধা নেই।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ বাংলানিউজকে বলেন, জেল প্যারেডে আরশাদুল আলমের সাজার মেয়াদ শেষ হবার বিষয়টি জানার পর নিয়ম অনুযায়ী নগর পুলিশের বিশেষ শাখা এবং গোয়েন্দা শাখাকে অবহিত করা হয়েছে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার বাবুল আক্তার বাংলানিউজকে বলেন, আরশাদুল আলম দুর্ধর্ষ প্রকৃতির জঙ্গী। সে মুক্তি পেলে বোমাবাজি, নাশকতা বাড়তে পারে। আমরা আরশাদুল আলমের বিষয়টি যাচাইবাছাই করে দেখছি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার পর ৩০ আগস্ট পুলিশ আরশাদুল আলমকে নগরীর খুলশী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। ২০০৫ সালের ৩ অক্টোবর আরশাদুল আলম হাজতি হিসেবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করে। পরে মামলায় সাজা হওয়ার পর আরশাদুল আলম কয়েদি হিসেবে অর্ন্তভুক্ত হয়।

সূত্রমতে, আরশাদুল আলম প্রকাশ টি আলম কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে। চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার দক্ষিণ খুলশী এসবি নগর এলাকায় তার একটি চায়ের দোকান ছিল।

কুমিল্লার একটি মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করা আরশাদুল মূলত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসাদুল্লাহ গালিবের তৈরি করা সংগঠন আহলে হাদিস আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। দক্ষিণ খুলশী এলাকায় ঝাউতলা পাহাড়ের পাদদেশে আহলে হাদিস আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কওমী মাদ্রাসা ছিল। ওই মাদ্রাসার পাশেই ছিল আরশাদুল আলমের চা দোকান।

চট্টগ্রামে জঙ্গী কর্মকাণ্ড নিয়ে তথ্য সংগ্রহকারী একটি সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, আহলে হাদিস আন্দোলনের ওই মাদ্রাসাকেই জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ চট্টগ্রামে তাদের প্রথম ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছিল। গালিবের সঙ্গে বাংলা ভাই ও শায়খ আব্দুর রহমানের সঙ্গে বোঝাপড়ার ভিত্তিতে জঙ্গী সংগঠন জেএমবি এবং জেএমজেবিকে মাদ্রাসাটি ব্যবহার করতে দেয়া হয়েছিল।

২০০৪ সালের শেষদিকে ওই মাদ্রাসায় বৈঠক করতে আসেন জেএমবি’র শীর্ষ নেতা সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই। সেখানেই আরশাদুল আলমের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং এক পর্যায়ে আরশাদুল বাংলা ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসেন। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর ৮টি স্পটে সিরিজ বোমা হামলার দায়িত্ব দেয়া হয় আরশাদুলকে। এজন্য নগরীর আগ্রাবাদে একটি বেসরকারী ব্যাংকের শাখায় আরশাদুল আলমের হিসাব নম্বরে টাকাও পাঠান বাংলা ভাই। সেই টাকা দিয়ে বিস্ফোরক সংগ্রহ করে ওই মাদ্রাসায় বসে বোমা বানিয়ে তা সরবরাহ করা হয় জঙ্গীদের।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার পর প্রথমে পাঁচ জঙ্গীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যমতে নিজ দোকান থেকে আরশাদুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরীর কোতয়ালী থানায় ৩টি, পাঁচলাইশ, বন্দর, পাহাড়তলী, ডবলমুরিং, হালিশহর, খুলশী ও বাকলিয়া থানায় একটি করে মোট ১০টি মামলা দায়ের হয়। এছাড়া কুমিল্লায়ও কয়েকটি মামলা দায়ের হয় আরশাদুল আলমের বিরুদ্ধে।

কারা কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় আরশাদুল আলমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলেও পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাকে খালাস দেয়া হয় কারাগারে তার নিবন্ধন বইয়ে উল্লেখ আছে।

নগরীর পাহাড়তলী থানায় বিস্ফোরক আইনের ৫/৬ ধারায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় (নম্বর-১০ (০৮)০৫) ২০০৯ সালের ৩০ মে এবং বাকলিয়া থানায় বিস্ফোরক আইনের ৩/৬ ধারায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় (নম্বর-৯ (০৮) ০৫) ২০০৯ সালের ১১ জুন আরশাদুল আলমের পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড হয়। উভয় সাজা পরোয়ানা কারাগারে পৌঁছে ২০০৯ সালের ১০ আগস্ট।

বাকি মামলাগুলোতে আরশাদুল আলম প্রকাশ টি আলম খালাস পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, আরশাদুল আলমের মুক্ত হতে যাবায় বিষয়টি বিশেষ বার্তার (নম্বর-৬৭১০) মাধ্যমে নগর পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে ৭ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন কন্ট্রোল বিভাগ, এআইজি (গোপনীয় শাখা) বিশেষ পুলিশ সুপার, বিশেষ শাখা, ঢাকা এবং কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে।  

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো.ছগীর মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, আরশাদুল আলমের মুক্ত হতে কোন বাধা নেই। কিছু দাপ্তরিক প্রক্রিয়া আছে। সেগুলো শেষ করে ১৪ তারিখের মধ্যে যে কোনদিন আমরা তাকে মুক্তি দেব।

বাংলাদেশ সময়: ২০৫০ঘণ্টা, এপ্রিল ০৮,২০১৪

ছাত্র সমাজের সম্মেলন করতে প্রস্তুতি কমিটি
কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
রাজশাহীতে দেশি গরু দিয়েই কোরবানির পশু বিক্রি শুরু
ময়মনসিংহে হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার
ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল ৮টায়


টানা বৃষ্টিতে কপাল পুড়লো মরিচ চাষিদের
ময়মনসিংহে ১৯ জুয়াড়ি আটক
ডেঙ্গুর প্রকোপ, মশা জরিপ হবে চট্টগ্রামে
মহানবী (সা.) শিশুদের ভালোবাসতে শিখিয়েছেন
সুদের হার ৬-৯ শতাংশে নামানোর চাপ নেই: এবিবি চেয়ারম্যান