চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ

বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত চিকিৎসকরা

462 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

walton
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমের শুরু হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে দ্বিধাবিভক্ত চট্টগ্রামের চিকিৎসক সমাজ।
php glass

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমের শুরু হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে দ্বিধাবিভক্ত চট্টগ্রামের চিকিৎসক সমাজ।

একপক্ষ বলছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা চট্টগ্রামবাসির দীর্ঘদিনের দাবি। যারা বিরোধীতা করছে তারা না বুঝে করছে।

অন্য পক্ষের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরিত হলে রোগীদের দুভোর্গ বাড়বে। তাছাড়া বর্তমানে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যের যেসব সেবা চালু আছে তা বন্ধ হয়ে যাবে। পৃথক অবকাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার দাবি তাদের।
 
মঙ্গলবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছেন। একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নে কি কি প্রয়োজন তা নিরুপণ করে কমিটি প্রতিবেদন জমা দিবে। আশা করছি আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করবেন।’

মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন,‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার মাধ্যমে বাণিজ্যিকীকরণের পাঁয়তারা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণার মধ্যেও অস্পষ্টতা রয়েছে সরকারকে তা স্পষ্ট করতে হবে। কিন্তু তা না করে বিএমএ নেতারা মুখে মুখে বলে যাচ্ছেন হাসপাতালকে বিশ্ববিদ্যালয় করা হচ্ছে না শুধুমাত্র কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা হচ্ছে। কিন্তু গেজেট আকারে কিছু প্রকাশ করা হচ্ছে না। ২০১০ সালের প্রস্তাবনা অনুযায়ী যদি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন হয় তাহলে এটা সাধারণ মানুষের  হাসপাতাল থাকবে না। এটা উচ্চবিত্তের হাসপাতালে পরিণত হবে।’

তিনি বলেন,‘যেসব চিকিৎসক এর পক্ষে কথা বলছেন তারা নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা করছেন সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবার চিন্তা তারা করছেন না। ওই প্রস্তাবনা অনুযায়ী হাসপাতালের বিভিন্ন সেবায় আর্থিক খরচ প্রায় পনের গুণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া বিভিন্ন টেস্টের ফি বাড়ানো, বিনামূল্যে প্রাপ্ত আইসিইউ সেবা বন্ধ, ক্যান্সারের জন্য রেডিওথেরাপী সেবা বন্ধ, বিনামূল্যে অপারেশন বন্ধ সহ বিদ্যমান বিনামূল্যের বা স্বল্পমূল্যের সব সেবা বন্ধ করে দেয়ার প্রস্তাব রয়েছে। যা বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীকে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করবে।’

মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। কিন্তু তা আলাদা জায়গায় করা হোক। একই সাথে এ কলেজটিতে গ্র্যাজুয়েশন ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন চালু করা হলে শিক্ষার মানও বিঘ্নিত হবে। এক পর্যায়ে এমবিবিএস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। যা আমরা অতীতে দেখেছি।’

বিএমএ’র কেন্দ্রীয় নেতা ডা. শেখ শফিউল আজম বলেন,‘মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার এই দাবি চট্টগ্রামবাসী বহু দিন ধরে জানিয়ে আসছেন। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কিন্তু হাসপাতালকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়া হবে না স্বতন্ত্রভাবে পরিচালনা করা হবে এ সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। আমরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বলেছি যাতে স্বতন্ত্রভাবে হাসপাতালকে পরিচালনা করা হয়। সুতরাং এখানে বিরোধীতা করার কিছু নেই।’

তিনি বলেন,‘বিশ্ববিদ্যালয় হলে এই এলাকার জনগণ উন্নততর স্বাস্থ্যসেবা পাবে।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বাংলানিউজকে বলেন, ‘হাসপাতাল আর কলেজ সম্পূর্ণ পৃথক অংশ। এখানে ভুল বুঝাবুঝির কোনো কারণ নেই। শুধুমাত্র একাডেমিক অংশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপান্তর করা হবে। হাসপাতালকে নয়। হাসপাতাল এখন যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে তখনও সেভাবে হবে।’

ডা. সুভাষ চন্দ্র সুত্রধর বলেন, ‘কয়েকটি মেডিকেল কলেজ থাকলে তখন একটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত মানা যেতো। কিন্তু কুমিল্লা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত চারকোটি মানুষের নির্ভরতার জায়গা এ হাসপাতাল। চিকিৎসা সেবা হুমকির মুখে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর করা কোনভাবেই যৌক্তিক হবে না।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণ হাসপাতালকে রূপান্তর করে পিজি হাসপাতাল করার কোন যৌক্তিকতা নেই। পিজি হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের খরচের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলেই এ বিষয়টি বোঝা যাবে।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর থেকে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই ঘোষণার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। চমেককে বিশ্ববিদ্যালয় করা হলে তাদের সুযোগ-সুবিধা কমে যাবে বলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করছেন। এছাড়া এতে করে সেবার মান কমবে বলে তারা প্রচার করছেন। প্রগতিশীল ‍চিকিৎসক ফোরামের ব্যানারেও একদল চিকিৎসক এর বিরোধীতা করছেন। বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের প্রতিবাদে সমাবেশেরও আহবান করেছে তারা। 

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৭ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৮, ২০১৪

অস্ত্রসহ গ্রেফতার ছিনতাইকারী
প্রস্ততি ম্যাচে আফগানদের কাছে হারলো পাকিস্তান
তিন গুণ দামে কাপড় বিক্রি মিমিতে, লাখ টাকা জরিমানা
আশুলিয়ায় মলমপার্টির সদস্য আটক
৫৪ রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠালো পুলিশ


৩ জেলায় বজ্রপাতে নিহত ৫
বৃষ্টিতে ডুবলো চট্টগ্রাম
উদ্বোধনের অপেক্ষায় ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ 
কাউকে ভুল প্রমাণ করার সুযোগ খুঁজি না: মাশরাফি
নরসিংদীতে টয়লেট থেকে কিশোরী ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার