ভারত-চীনের অর্থায়নে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের প্রস্তাব

309 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও চীনের অর্থায়নে মহেশখালী সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের পক্ষে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি এ বন্দরটি নির্মাণের আগে এর ব্যবহারকারী কারা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার বিসয়েও মত দিয়েছেন তারা।
php glass

চট্টগ্রাম: পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও চীনের অর্থায়নে মহেশখালী সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের পক্ষে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি এ বন্দরটি নির্মাণের আগে এর ব্যবহারকারী কারা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার বিসয়েও মত দিয়েছেন তারা।

বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ব্যবহারকারীরা বলছেন, সোনাদিয়ায় বিশাল একটি গভীর সমুদ্র বন্দর হবে। কিন্তু সেটির ব্যবহারকারী না থাকলে লাভবান হওয়া যাবে না।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচারক (পরিবহন) গোলাম সরওয়ার বলেন, বন্দরটি নির্মাণে বাংলাদেশের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও চীন অর্থায়ন করতে পারে। এতে তারাও বন্দরটি ব্যবহারে আগ্রহী হবে।

তিনি বলেন,‘এত বড় একটি বন্দর নির্মাণ করা হবে। এতে প্রচুর পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে। কিন্তু ব্যবহারকারী না থাকলে তো লাভবান হবে না। তাই বন্দরটি নির্মাণের আগে কারা ব্যবহার করবে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া দরকার।‘

রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম চেম্বার মিলনায়নে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ মতামত তুলে ধরেন তারা। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার ও নেদারল্যান্ডস দূতাবাস যৌথভাবে ‘ডিপ সীপোর্ট এন্ড চিটাগাং পোর্ট অপারেশন’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে।

সভায় বক্তারা ডিপ সীপোর্টের গুরুত্ব তুলে ধরে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহায়তা বৃদ্ধি, ইন্টারনাল কান্টেক্টিভিটি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী ব্যবস্থা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির অভিমত ব্যক্ত করেন।

কারিগরি সহায়তা দেবে নেদারল্যান্ডস:
সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে নেদারল্যান্ডস কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সেদেশের রাষ্ট্রদূত গার্বেন ডি ইয়ং।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের ক্ষেত্রে রটের্ডেম ডিপ সীপোর্ট একটি উৎকৃষ্ট মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডাচ কোম্পানী গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ ও পরিচালনায় সমাদৃত।

তাদের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতা অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ওয়াটার ম্যানেজম্যান্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছে নেদারল্যান্ডস। তাদের মাধ্যমে আমরা গারিগরী সহযোগিতা দিতে পারবো।

গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের আগে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলপথ ছাড়াও বন্দর থেকে যাতে পণ্য সহজে আনা-নেওয়া যায় সেজন্য সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যা বিশ্বের অন্যান্য ডিপ সীপোর্টে রয়েছে।

সভায় স্টেকহোল্ডারদের উত্থাপিত মতামত ও পরামর্শের বিষয়ে সরকারকে অবহিত করবেন বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

সক্ষমতা বাড়াতে হবে চট্টগ্রাম বন্দরের:

ডিপ সীপোর্ট নির্মাণ প্রকল্পটি দীর্ঘ মেয়াদি উল্লেখ করে সভায় নেদারল্যান্ডেস’র রাষ্ট্রদূত বলেন,‘এটি বাস্তবায়নে অনেক সময়ের দরকার হবে। এছাড়া ডিপ সীপোর্ট হলে বন্দরের কার্যক্রম আরো বাড়বে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।‘

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি না পেলে গভীর সমুদ্র বন্দর হলেও তার সুফল পাওয়া যাবে না।

সভাপতির বক্তব্যে চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, সমুদ্র বাণিজ্য আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ৭ থেকে ৮ কোটি টনে উন্নীত হবে যা চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিশ্চিত করেও হ্যান্ডেল করা সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহ, চীনের কুনমিং ও মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যসহ এ অঞ্চলের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে  সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর সবচেয়ে উপযোগী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ বন্দর নির্মাণ করা সম্ভব হলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে মনে করেন চেম্বার সভাপতি।

চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ উভয় সরকারের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্পকে এগিয়ে নেয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ জলপথে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ উন্নয়নে নদী শাসন ও ড্রেজিং এবং সমুদ্র থেকে ভূমি উদ্ধারে নেদারল্যান্ডস’র কারিগরী সহায়তা কাজে লাগানোর আহবান জানান। 

চিটাগাং চেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রটের্ডেম’র সিনিয়র পোর্ট প্ল্যানার জ্যান ইয়ান উইল্যাম কোম্যান, প্রাইভেটাইজেশন এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল মডেলিং এক্সপার্ট ফ্র্যাংক ম্যাসন, চট্টগ্রাম বন্দরের চীফ প্ল্যানিং মো. মনিরুজ্জামান, কোস্ট গার্ডের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন শহীদুল ইসলাম, কাস্টমস’র জয়েন্ট কমিশনার মাহমুদুল হাসান ও আবু ফয়সাল মুরাদ, বিজিএমইএ’র পরিচালক অঞ্জন শেখর রায়, বিকেএমইএ’র শওকত ওসমান, ফিলিপিনস্’র অনারারী কনসাল এম এ আউয়াল, ইঞ্জিনিয়ার এস কে ঘোষ, বাফা’র আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, বিকডা’র রুহুল আমিন সিকদার, আতাউল করিম চৌধুরী, ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 

সভায় অন্যান্যের মধ্যে চেম্বার পরিচালক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী , মো. জহুরুল আলম, বেলাল আহমেদ, নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি-পলিটিক্যাল এন্ড ইকনোমিক এ্যাফেয়ার্স হেনরিক ভ্যান এসছ, ইকনোমিক এন্ড কমার্শিয়াল এ্যাফেয়ার্স এডভাইজার মন্নুজান খানম উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫০ঘণ্টা, এপ্রিল ০৬, ২০১৪ 

নদীপাড়ের বাণিজ্যকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী উৎরাইল হাট!
বরিশালের সড়কে প্রথমবার থ্রিডি জেব্রা ক্রসিং
প্লেনের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছুটবে চীনের ট্রেন!
প্রিয় নজরুল 
ত্রিশালে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসব


তাকে চাই আগে | আলেক্স আলীম
নিহত ১২ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে সম্মান জানালো জাতিসংঘ
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার
বাসে নারীকে যৌন হয়রানি, গোল্ডেন লাইনের চালক আটক
ফ্রান্সে পার্সেল বোমা হামলা, আহত ১৩