চট্টগ্রাম নগরীতে পানির হাহাকার

288 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নগরীতে তীব্র হয়ে উঠছে পানি সংকট। গরমের কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ওয়াসাকে পানি সরবরাহে রেশনিং করতে হচ্ছে।
php glass

চট্টগ্রাম: গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নগরীতে তীব্র হয়ে উঠছে পানি সংকট। গরমের কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ওয়াসাকে পানি সরবরাহে রেশনিং করতে হচ্ছে।

এর ফলে নগরীর কোন কোন এলাকায় দু’তিনদিন আবার কোন এলাকায় ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত পানি না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে রান্না-বান্না, গোসলসহ গৃহস্থালির কাজ  সারতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে।

নগরীর দক্ষিণ কাপাসগোলা টুপিওয়ালা পাড়ার বাসিন্দা মো. শাহজাহান বাংলানিউজকে জানান, অন্তত পঁচিশ দিন ধরে ওই এলাকায় পানি নেই।

তিনি বলেন, ‘আমরা একাধিকবার ওয়াসার কাছে গিয়ে এ বিষয়ে অবহিত করেছি, লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু পানি সমস্যার কোন সমাধান হয়নি।’

বহদ্দারহাট খাজা রোডের বাসিন্দা মো. জাহেদুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, তার এলাকায় প্রায় একমাস ধরে পানি সরবরাহে অনিয়ম চলছে।  দুই একদিন পর পানি আসলেও আধ ঘণ্টা-এক ঘণ্টার বেশী সময় থাকে না।

একই ধরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে নগরীর চকবাজার, বন্দর, হালিশহর, ডবলমুরিং, এনায়েতবাজার সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের কাছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ বাংলানিউজকে জানান, নগরীতে ৫০-৫৫ কোটি লিটার চাহিদার বিপরীতে ওয়াসার সরবরাহ ২০ কোটি লিটারের মতো। গরমে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ চাহিদা আরো বেড়ে যায়। ফলে, রেশনিং করেও পানি সংকট সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, ‘অনেক এলাকায় পানি নিয়মিত সরবরাহ হচ্ছে না অভিযোগ সত্য। কিন্তু ২০-২৫ দিন বন্ধ থাকার কথা শুনিনি। আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।’

ওয়াসা সূত্র জানায়, গরমে পানি সংকট বাড়ায় রেশনিং বেড়েছে। সপ্তাহে মাত্র ১২ ঘণ্টা ও ৪ দিন পানিও সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু এর মধ্যেও সরবরাহ লাইনে পানি চাপ কম থাকায় অনেক এলাকার, বিশেষ করে উঁচু এলাকার, বাসিন্দাদের মধ্যে পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বর্তমানে ওয়াসা মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্প ও প্রায় ৯৫টি গভীর নলকুপ থেকে নগরবাসীর পানির চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে আসছে। ১৯৮৭ সালে মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্পটি চালুর ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো প্রকল্প চালু করতে না পারাকেই ওয়াসার পানি সংকটের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পানি সংকট সমাধানে কর্ণফুলি পানি সরবরাহ প্রকল্প ‍নামে একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। তিন দফা সময় বাড়ানোর পর ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু, কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় ২০১৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দৈনিক ১৩ কোটি লিটার পানি পাওয়া যাবে বলে দাবি করছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।

ওয়াসা কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন প্রকল্প চালু না হওয়ার পাশাপাশি সিস্টেম লসের নামে পানি চুরি এবং ক্রমবর্ধমান নতুন সংযোগের কারণেও  পানি সংকট বাড়ছে।

ওয়াসার হিসেব মতে,  জরাজীর্ণ সরবরাহ লাইনসহ বিভিন্ন কারণে সিস্টেম লসের পরিমাণ প্রায় ২৫ শতাংশ। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে পানি চুরির ঘটনাকেও সিস্টেম লসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বর্তমানে ওয়াসার পানির সংযোগের পরিমাণ প্রায় ৫১ হাজার। প্রতিটি সরবরাহ লাইনে ২০টি করে সংযোগ থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ লাইনেই তা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। ফলে, সরবরাহ লাইনে কমছে পানির চাপ। এছাড়া, পানির সরবরাহ না বাড়লেও নতুন সংযোগ বাড়ায় পানি সংকট ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬২৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ৬, ২০১৪

মোরা সব সময়ই সরকারের আইন মাইন্যা চলি
প্রশিক্ষণ পাল্টে দিচ্ছে হিজড়াদের জীবন
যে ১২ ট্রেনের টিকিট মিলছে কমলাপুরে
ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু
ছোটপর্দায় আজকের খেলা


অ্যাপসে রেলের টিকিট সাড়ে ১৩ হাজার, ‘মিলছে না একটিও’
দিনাজপুরের সুস্বাদু লিচু এখন বাজারে
অপেক্ষার পালা শেষ, কমলাপুরে টিকিট বিক্রি শুরু
গাংনীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত
নেই চিরচেনা রূপ, তবুও কমলাপুরে রাত জেগে টিকিটের অপেক্ষা