php glass

ব্যালট বাক্স ছিনতাই, কেন্দ্র দখল

চট্টগ্রামের ৭ উপজেলায় ভোট গ্রহণ সম্পন্ন

140 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
ব্যালট বাক্স ছিনতাই, ব্যালট পুড়িয়ে দেয়া, কেন্দ্র দখল, গোলাগুলি, নির্বাচনী কর্মকর্তাকে মারধরসহ বিভিন্ন তাণ্ডবের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। চলছে ভোট গণনা।

চট্টগ্রাম: ব্যালট বাক্স ছিনতাই, ব্যালট পুড়িয়ে দেয়া, কেন্দ্র দখল, গোলাগুলি, নির্বাচনী কর্মকর্তাকে মারধরসহ বিভিন্ন তাণ্ডবের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। চলছে ভোট গণনা।

বিতর্কিত ভূমিকা পালনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশ এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের বিরুদ্ধেও।

রোববার সকাল সাড়ে দশটার দিকে উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ছোটহাতিয়া হাজী লক্ষ্মী বিবি আদর্শ এবতাদিয়া মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয় পক্ষের সমর্থকরা ৬টি ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে যায়। দু’ঘণ্টা পর আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা ৫টি ব্যালট বাক্স ফিরিয়ে দিয়ে যায়। এ ঘটনায় এক শিবির কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুপুরে উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের একটি ভোট কেন্দ্রে ৮টি ব্যালট বক্স পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসময় বাধা দেওয়ায় এক পোলিং অফিসারকেও মারধর করে তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নুরুল আবছার চৌধুরী (কাপ-পিরিচ) সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। 

এছাড়া এ উপজেলার আরো কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাই ও জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে আ. লীগ সমর্থিত প্রার্থী তৌহিদুল হক চৌধুরীর সমর্থকরা দখলে নিয়ে জাল ভোট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ভোটারদের ভয় ভীতি দেখানোসহ ২৭টি কেন্দ্র থেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছে চেয়ারম্যান প্রার্থী জালাল উদ্দিন আহমেদ।

জালাল উদ্দিন আহমেদ সংবাদ সম্মেলন করে সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।

ফটিকছড়ি উপজেলার রোসাংগিরি ইউনিয়নের আজিমনগর আহমদিয়া রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে আ. লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় কয়েক ঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে এ কেন্দ্রে। এছাড়া ধুরং খুলশী লায়ন উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে এক পোলিং অফিসারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর (মোটর সাইকেল) এর অনুসারীরা এ হামলা চালায়।

রাঙ্গুনিয়ায় আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নিশ্চিন্তপুর কালীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, আল আমিন পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩নং রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের শীলপাড়া সরকারী প্রথমিক বিদ্যারয়, শান্তি নিকেতন সুবল প্রাথমিক বিদ্যালয়, মরিয়মনগর ইউনিয়নের কাটাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মরিয়মনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয়, বিআইজেড হাইস্কুল ও দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ফুল বাগিচা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র দখলে নিয়ে জাল ভোট দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবু আহমেদ হাসনাত।

দুপুরে বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি ঘোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকরা ব্যালট বক্স ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় ওই কেন্দ্রে কয়েক ঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া চাঁপাছড়ি, মধ্যম ইলশা ও পুকুরিয়াসহ কয়েকটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকরা জোরপূর্বক কেন্দ্রে ঢুকে জাল ভোট দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাউজান উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকরা কেন্দ্র দখলে নিয়ে জাল ভোট দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সহকারি রিটার্নিং অফিসারকে অভিযোগ করার পরও কোনো প্রতিকার পায়নি বলে অভিযোগ করেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী।

বোয়ালখালী উপজেলায়ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাত উপজেলায় মোট ১০২ জন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট যুদ্ধে জয়ের অপেক্ষায় আছেন। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩১ জন প্রার্থী। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৫ জন প্রার্থী আছেন।

বোয়ালখালী
বোয়ালখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মো.আতাউল হক (মোটর সাইকেল) এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বদরুছ মেহেরের (টেলিফোন) মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

বোয়ালখালীতে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭৭টি। এ উপজেলায় ৮১ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৪১৬ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৮৩২ জন পোলিং অফিসার নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আনোয়ারা
আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত তৌহিদুল হক চৌধুরীর (দোয়াত কলম) সঙ্গে বিএনপি সমর্থিত জালাল উদ্দিন আহমেদের (কাপ-পিরিচ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। 

আনোয়ারা উপজেলায় কেন্দ্রের সংখ্যা ৬৬টি। এই উপজেলায় ভোটগ্রহণের জন্য ৬৯ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৪৬৭ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১৩৬৯ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

সাতকানিয়া
জামায়াত-শিবিরের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সাতকানিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (আনারস), আওয়ামী লীগ সমর্থিত ন‍ূরুল আবছার চৌধুরী (কাপ-পিরিচ) এবং জামায়াত সমর্থিত মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মধ্যে (মোটর সাইকেল) ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

সাতকানিয়া উপজেলায় মোট ১১১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণের জন্য ১১৭ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৭৫৭ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৫১৪ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী
বাঁশখালী উপজেলার মোট ভোট কেন্দ্র ১১০টি। এ উপজেলার ১১৬ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৭৬৫ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১৫৩১ জন পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন।

এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মো. খোরশেদ আলম (দোয়াত-কলম), বিএনপি সমর্থিত আলমগীর কবির চৌধুরী (কাপ-পিরিচ) এবং জামায়াত সমর্থিত মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের (আনারস) মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

রাউজান
রাউজান উপজেলায় মোট ৮৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণের জন্য ৮৭ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৬৮৫ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১৩৬৯ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

রাউজান উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এ কে এম এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল (দোয়াত-কলম) এবং বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের (আনারস) মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

রাঙ্গুনিয়া
রাঙ্গুনিয়ায় মোট ৮৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপজেলায় ভোটগ্রহণের জন্য ৯০ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৫৬৭ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১১৩৪ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় চেয়ারম্যান পদে চর্তুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন সেখানকার সাধারণ ভোটাররা। এ উপজেলায় চারজন শক্তিশালী প্রার্থী আছেন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী শাহ (দোয়াত-কলম), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ জসিম (ঘোড়া), বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবু আহমেদ হাসনাত (টেলিফোন) এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী পরিবারের সমর্থিত প্রার্থী কুতুব উদ্দিন বাহার (কাপ-পিরিচ)।

ফটিকছড়ি
ফটিকছড়ি উপজেলায়ও প্রার্থীদের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী এম তৌহিদুল আলম বাবু (আনারস), বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর (মোটর সাইকেল), জামায়াত সমর্থিত মাওলানা হাবিব আহমদ (দোয়াত-কলম) এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছালাহ উদ্দিনের (কাপ-পিরিচ) মধ্যে চর্তুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলায় ভোট গ্রহণের ১৪০ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৮৭২ জন সহকারী প্রিসাইডিং এবং ১৭৪৩ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এ উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৩ টি।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৫০ঘণ্টা, মার্চ ২৩, ২০১৪

না’গঞ্জে ডাকাতি মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন
পাঁচ দিনে ৩৯৩ কোটি টাকার বেশি আয়কর আদায় চট্টগ্রামে
গণস্বাস্থ্যে অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক নেফ্রোলজি সম্মেলন
ব্যাঙ ও বিড়ালছানা | সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্
জলপাইয়ের টক-ঝাল-মিষ্টি আচার 


স্মার্টসিটি হচ্ছে আগরতলা
টাঙ্গাইলে ধর্ষণ মামলায় এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন
এশিয়া প্যাসিফিক সামিটে যোগ দিতে কম্বোডিয়া গেলেন স্পিকার
পাকিস্তানে হামলাচেষ্টার অভিযোগে ভারতের ‘জেমস বন্ড’ আটক
চুয়াডাঙ্গায় বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রীদের দুর্ভোগ