php glass

সাতকানিয়ায় এবার আওয়ামী লীগের তাণ্ডব !

99 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
পাঁচ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ঠেকাতে সাতকানিয়া উপজেলাজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছিল জামায়াত-শিবির। এর আড়াই মাস পর সাতকানিয়ায় অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে সরকারী দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।

সাতকানিয়া থেকে: পাঁচ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ঠেকাতে সাতকানিয়া উপজেলাজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছিল জামায়াত-শিবির। এর আড়াই মাস পর সাতকানিয়ায় অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে সরকারী দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।

রোববার সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সাতকানিয়ার বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, ব্যালট পুড়িয়ে দেয়া, কেন্দ্র দখল, গোলাগুলিসহ বিভিন্ন তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেছে। বিতর্কিত ভূমিকা পালনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশ এবং সহকারী রিটার্ণিং অফিসারের বিরুদ্ধেও।

উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নূরুল আবছার চৌধুরী কাপ-পিরিচ প্রতীকে, জামায়াত সমর্থিত জসীম উদ্দিন চৌধুরী মোটর সাইকেল প্রতীকে, বিএনপি সমর্থিত অধ্যাপক শেখ মো.মহিউদ্দিন আনারস প্রতীকে এবং স্বতন্ত্র পরিচয়ে রকিবউদ্দিন চৌধুরী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

তবে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে।

বর্তমানে জেলে থাকা জামায়াত প্রার্থী জসীম উদ্দিন চৌধুরী প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ৫০ শতাংশ কেন্দ্রের কোনটিতে নূরুল আবছারের সমর্থকরা সকাল থেকে আবার কোনটিতে দুপুর ১টার পর থেকে কেন্দ্র দখল করে কাপ-পিরিচ মার্কায় সিল মেরেছে। বাকি ৫০ শতাংশ কেন্দ্রে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে।

বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং স্থানীয় সাংসদ প্রভাব বিস্তার করেছেন। তারা জোরপূর্বক কেন্দ্র দখল করে ভোটের নামে প্রহসন করেছে। নির্বাচনের উপর থেকে যাতে মানুষের আস্থা চলে যায় সেজন্য পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এসব অভিযোগ খণ্ডন করে আওয়ামীলীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বাংলানিউজকে বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে ভোট দিয়েছেন। পরাজয় নিশ্চিত জেনে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। বরং, সত্য হলো বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতই হামলা ও তাণ্ডব চালিয়েছে। এমনকি আমাদের প্রার্থীর উপরও হামলা হয়েছে, তার গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে।

ভোটগ্রহণ শুরুর পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাতকানিয়ায় সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ছোট হাতিয়া হাজী লক্ষ্মী বিবি আদর্শ এবতেদিয়া মাদ্রাসায় আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় প্রার্থীর সমর্থকরা ৬টি বুথ থেকে ব্যালটভর্তি ৬টি বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যায়। প্রায় দু’ঘণ্টা পর আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা ৫টি ব্যালট বাক্স ফিরিয়ে দিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কার্যত ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।

ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার বেলাল উদ্দিন চৌধুরী বাংলানিউজকে জানান, রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলামের নির্দেশে ভোট গণনা না করেই বাক্সগুলো ইউএনও’র কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষের গোলাগুলিতে জামায়াত সমর্থক একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ছৈয়দ হোসেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নূরুল আবছারের গাড়ি ভাংচুর করে উত্তেজিত জামায়াত কর্মীরা।
 
বিকেল ৩টার দিকে ঢেমশা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৮টি বুথ থেকে ৮টি ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে সরকার দলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় তারা একজন পোলিং অফিসারকেও মারধর করেছে বলে জানিয়েছেন ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মেহেদি হাসান চৌধুরী।

এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার কেওচিয়া ইউনিয়ের জনার কেওচিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি বুথে কয়েকজন যুবক অতর্কিত এসে কাপ-পিরিচ প্রতীকে সিল মারা শুরু করে বলে জানান ওই কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তামো.কাজিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি অনেক চেষ্টা করেও তাদের প্রতিরোধ করতে পারেনি। পুলিশকে বারবার ডাকলেও তারা আসেনি। শেষ মুহুর্তে এসে অন্য প্রার্থীর এজেন্টদের হয়রানি শুরু করে।’

এসময় ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আবু রায়হান মো.আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমি ইউএনও সাহেবকে ২০-২৫বার কল করেছি। তিনি রিসিভ করেননি। পুলিশও কোন সহযোগিতা করেনি। তাই ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছি।

ঘটনাস্থলে থাকা সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার একেএম এমরান ভুঁইয়া বাংলানিউজকে বলেন, আমরা তো প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতি ছাড়া ভেতরে ঢুকতে পারিনা। আসলে সমস্যা নির্বাচন কর্মকতাদের। তারা ইচ্ছে করে ভোটগ্রহণ বন্ধ করেছে।

এসময় ওই ভোটকেন্দ্রের ভেতর থেকে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর একজন এজেণ্টকে পুলিশ পেটাতে পেটাতে গাড়িতে তুলতে দেখা গেছে।

এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছদাহা ইউনিয়নের কেফায়েত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ১০৯টি ব্যালট পেপার ছিনতাই করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এসময় প্রায় ২০ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল বলে বাংলানিউজকে জানান প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অজিত কান্তি দাশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যালট ছিনতাইকারীরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থক।

উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের বড়ুয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সহিংস তাণ্ডব চালিয়েছিল জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। এসময় প্রিজাইডিং অফিসারসহ তিন নির্বাচনী কর্মকর্তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছিল।

রোববার সকাল পৌনে ১১টার দিকে ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, লাইন ধরে নারী-পুরুষ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিচ্ছে। তবে বিপুল সংখ্যক বৌদ্ধ অধ্যুষিত এলাকার ওই কেন্দ্রে তেমন কোন সংখ্যালঘু ভোটারকে ভোট দিতে দেখা যায়নি।

ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা জালাল আহমেদ (৫০) বাংলানিউজকে বলেন, গতবার ভোট দিতে পারিনি। ভোট দিতে আসব এমন সময় গোলাগুলি শুরু হয়। এবার শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারছি।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৫ঘণ্টা, মার্চ ২৩,২০১৪

**সাতকানিয়ায় ৮টি ব্যালট বক্সে আগুন
**সাতকানিয়ায় দু’পক্ষে গোলাগুলি, ব্যালটবক্স ছিনতাই

ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ
ঘণ্টা বাজিয়ে খেলার উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা
বাংলাদেশে থেকে আম-কাঁঠাল-লিচু নেবে তুরস্ক
আট কেজি স্বর্ণ শাহ আমানত বিমানবন্দরের টয়লেটে
আগের দিন আ’লীগের কমিটিতে, পরের দিন আটক


দুই পরিবর্তন নিয়ে ঐতিহাসিক টেস্টে বাংলাদেশ
ভোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
দিবারাত্রির টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
সেঞ্চুরি বঞ্চিত স্টোকস, চাপে পড়েছে নিউজিল্যান্ড
হাতীবান্ধায় আ’লীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি, সংঘর্ষের আশঙ্কা