php glass

ভুল চিকিৎসায় চোখ গেল নির্মাণ শ্রমিকের

39 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
জসিম উদ্দিন(৪৭)। পেশায় নির্মাণ শ্রমিক। ২৭ আগস্ট রাস্তায় হেটে যাওয়ার সময় বালু পড়ে চোখে। চোখ পানি দিয়ে পরিস্কার করার চেষ্টা করেন। পরে ছুটে যান নগরীর বহদ্দারহাট বনি হাসান চক্ষু চিকিৎসালয়ে। শিকার হন ভুল চিকিৎসার। নষ্ট হয় চোখ।

চট্টগ্রাম: জসিম উদ্দিন(৪৭)। পেশায় নির্মাণ শ্রমিক। ২৭ আগস্ট রাস্তায় হেটে যাওয়ার সময় বালু পড়ে চোখে। চোখ পানি দিয়ে পরিস্কার করার চেষ্টা করেন। পরে ছুটে যান নগরীর বহদ্দারহাট বনি হাসান চক্ষু চিকিৎসালয়ে। শিকার হন ভুল চিকিৎসার। নষ্ট হয় চোখ।

বিষয়টি জানান ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু কোন সুরাহা পান না। উল্টো হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। চিকিৎসক নেতারাও বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ফলে চোখ হারানোর বিচার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন অসহায় এ নির্মাণ শ্রমিক।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জসিম উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, ‘বাম চোখে বালি পড়ার পর ক্লিনিকটিতে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক চোখ ওয়াশ করে ব্যান্ডেজ করে দেন এবং ২৪ ঘণ্টা পর ব্যান্ডেজ খুলতে বলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টা পর ব্যান্ডেজ খুললে বাম চোখে আর দেখতে পাই না। বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা পরদিন সকালে ক্লিনিকে যেতে বলেন। পরদিন ক্লিনিকে গেলে তারা চোখ দেখার পর চক্ষু হাসপাতালে যেতে বলে। চক্ষু হাসপাতালে না গিয়ে আমি আরেকজন বিশেষজ্ঞকে দেখায়। ওই চিকিৎসক চোখ দেখার পর হতবাক হয়ে যান এবং যিনি ওয়াশ করেছেন সে চোখ নষ্ট করে দিয়েছে বলে জানান। এরপর আরো কয়েকজন চিকিৎসকের কাছে গেলে তারাও একই কথা জানান।’

জসিম বলেন, ‘চিকিৎসকরা চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা বললে আমি ঘাবড়ে যায়। পরে বনি হাসান চক্ষু চিকিৎসালয়ের মালিক ডা. মো. কাশেমের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দেন। কিন্তু চিকিৎসার করানোর কথা বলে বারবার সময়ক্ষেপন করেন। বিষয়টি বিএমএসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে জানায়। কিন্তু ক্লিনিকটির মালিকের অসহযোগিতার কারণে কোন সুরাহা না পেয়ে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস্ ফাউন্ডেশনের(বিএইচআরএফ) দ্বারস্থ হয়। তাদের মাধ্যমে  আদালতে মামলা দায়ের করি।’

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোশিয়েশন(বিএমএ) চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান বাংলানিউজকে বলেন,‘চিকিৎসকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসাবে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ক্লিনিকটির মালিক কোন সহযোগিতা না করায় সুরাহা করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ভুক্তভোগীও কোন চিকিৎসক চোখ ওয়াশ করেছিল তার নাম বলতে পারছে না।’

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস্ ফাউন্ডেশনের আইনজীবী জিয়া হাবিব আহসান বাংলানিউজকে বলেন,‘ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির চোখ নষ্ট করে দিয়েছে ক্লিনিকটির চিকিৎসক। বিষয়টি জানার পর ক্লিনিকটির মালিকের কাছে আইনি নোটিশ পাঠায় এবং ওইদিনের কর্তব্যরত চিকিৎসকের নাম জানতে চাওয়া হয়। এছাড়া বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তিরও চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা কোনো প্রকার রেসপন্স না করায় মঙ্গলবার বিজ্ঞ মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট নূরে আলম ভূইয়ার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত শুনানী শেষে মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য চান্দগাঁও থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।’

জসিম উদ্দিন ও রোকসানা বেগমের সংসারে এক ছেলে-তিন মেয়ে। থাকেন নগরীর শুলকবহর এলাকায়। বড় মেয়ে রিজা আকতারের বিয়ে হয়েছে। মেঝ মেয়ে রওশন আকতার ঝর্ণা পড়েন ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে। ছোট মেয়ে সাজু আকতার নাজমা পড়েন পঞ্চম শ্রেণীতে। সবার ছোট মতিনুল ইসলাম জনি। পড়েন দ্বিতীয় শ্রেণীতে। সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটির চোখ নষ্ট হওয়ায় সংসারটিতে দারিদ্রতা ছোবল দিয়েছে। ছেলে মেয়ের পড়াশোনাও বন্ধের উপক্রম।

রোকসানা বেগম বাংলানিউজকে বলেন,‘চোখ নষ্ট হওয়ার পর থেকে সে কোন কাজ করতে পারছে না। মানুষের কাছে ধারদেনা করে চিকিৎসা ও সংসারের খরচ চালাতে হচ্ছে। ছেলে মেয়েদের পড়ালেখাও বন্ধের পথে। ক্লিনিকটির ভুল চিকিৎসার কারণে চোখ গেলেও তারা চিকিৎসার জন্য কোন সহায়তা করছে না। উল্টো তারা আমাদের দেখে নিবে বলে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।’

বাংলাদেশ সময়: ২১১৮ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১৪

ksrm
দ্বিজেন শর্মা নিসর্গ পুরস্কার-১৯ পেলেন ড. মনোয়ার হোসেন
মানিকগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, সেবাবঞ্চিত রোগীরা
প্রকৃতির সান্নিধ্যে যেখানে পড়াশোনা 
উলিপুরে নছিমনের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু, আহত ৩
ময়লার স্তূপে নবজাতকের মরদেহ, হঠাৎ উধাও!


সবাই থাকতেও ‘সম্বল’ শুধু লাঠি
‘হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য নৌকাবাইচ’
দুই পিলারেই শেষ ব্রিজের সব টাকা!
থানায় ডেকে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে: সত্যতা মিলেছে তদন্তে
মেহেরপুরে ফেনসিডিলসহ আটক ২