ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭, ০২ মার্চ ২০২১, ১৮ রজব ১৪৪২

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

পিপি’র অভিমত

খালেদার বিষয়ে তদন্তের জন্য নতুন মামলা লাগবে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৩৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৪
খালেদার বিষয়ে তদন্তের জন্য নতুন মামলা লাগবে ছবি: অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ

চট্টগ্রাম: দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তদন্ত করতে চাইলে থানায় নতুনভাবে মামলা করতে হবে বলে মত দিয়েছেন এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী ও মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হলেও নতুনভাবে মামলা করে তারপর অগ্রসর হওয়া যাবে বলে মত দেন তিনি।



বুধবার চট্টগ্রাম আদালতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মত দেন কামাল উদ্দিন আহমেদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সংসদে বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়টি তদন্তের কথা বলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিপি কামাল বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারা অনুযায়ী একবার যাদের বিচার হয়েছে তাদের দ্বিতীয়বার বিচারের সুযোগ নেই। তবে রায়ের অবজারভেশন ও ফাইন্ডিংস দেখে কোন বিষয় তদন্তের প্রয়োজন মনে করলে সেটি করা যাবে। এক্ষেত্রে কোনভাবেই আগের আসামীদের সম্পৃক্ত করা যাবেনা।

পিপি বলেন, নতুনভাবে তদন্ত শুরুর ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে যে কোন সরকারী কর্মকর্তা অথবা আগের মামলার বাদি কিংবা তদন্তকারী কর্মকর্তা আবারও বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করতে পারেন।

পিপি কামাল উদ্দিন বলেন, সরকার চাইলে বেগম খালেদা জিয়া ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত কি না অথবা বিষয়টিতে সরাসরি সম্পৃক্ত কিনা তা তদন্ত করে দেখতে পারে। এজন্য পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর সিআইডি, ডিবি কিংবা যে কোন সরকারি তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে মামলা দায়েরের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিতে পারে।  

নতুনভাবে মামলা করার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের কোন নির্দেশনার প্রয়োজন নেই বলেও জানান পিপি কামাল উদ্দিন।

খালেদা জিয়ার ‘রহস্যজনক নীরবতা’র বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন মন্তব্য করে রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন ডিজি সাদিক হাসান রুমি আদালতে এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন, তিনি (রুমি) ঘটনার পরপরই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করলেও তিনি তেমন গুরুত্ব দেননি এবং নীরব ছিলেন।  

গত ৩০ জানুয়ারি দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় চোরাচালান (বিশেষ ক্ষমতা আইনে) ও অস্ত্র আইনে দায়ের হওয়া পৃথক দুটি মামলার রায় দেন বিচারক।

চোরাচালান মামলার রায়ে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদন্ড দেন আদালত। একই রায়ে তাদের পাঁচ লক্ষ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

একই ঘটনায় অস্ত্র আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় একই আসামীদের ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯ (এ) ধারায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ১৯ (সি) ও ১৯ (এফ) ধারায় সাত বছর কারাদন্ড দেন বিচারক। উভয় সাজা একসঙ্গে চলবে বলে বিচারক আদেশে উল্লেখ করেন। এছাড়া তাদের হাজতবাসের মেয়াদ দণ্ড থেকে বাদ যাবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে রায়ে।

২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএল জেটিঘাটে দশ ট্রাক অস্ত্রের চালানটি ধরা পড়ে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬০০ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৫,২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa