রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ, সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

19 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় দায়ের হওয়া দু’টি মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষে করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী ও মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ। যুক্তি উপস্থাপন শেষে মহানগর পিপি আদালতের কাছে এ মামলার সব আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

php glass

চট্টগ্রাম: দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় দায়ের হওয়া দু’টি মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষে করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী ও মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ। যুক্তি উপস্থাপন শেষে মহানগর পিপি আদালতের কাছে এ মামলার সব আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস এম মুজিবুর রহমান দু’টি মামলায় আসামীপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য সোমবার সময় নির্ধারণ করেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ২৫ নভেম্বর মহানগর পিপি রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেছিলেন। হরতাল এবং অবকাশের কারণে প্রায় দেড় মাস পর রোববার যুক্তি উপস্থাপন করতে গিয়ে মহানগর পিপি বলেন, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা দু’টি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা। সামারি ট্রায়ালে যুক্তি উপস্থাপনের কোন সুযোগ নেই। আইনের বরখেলাপ করে আমি যুক্তি উপস্থাপন করতে চাইনা।

এসময় আসামীপক্ষের আইনজীবীরা একদিন যুক্তি উপস্থাপনের বিষয়টি তুলে ধরে তারাও সমান সুযোগ চান। জবাবে পিপি বলেন, আসামীপক্ষ যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছেন। হরতালের কারণে ৩৯ কার্যদিবস মামলার কার্যক্রম চালাতে পারিনি। শুরু থেকেই আসামীপক্ষের মোটিভ ছিল যে কোনভাবে সময়ক্ষেপণ করা। এখন আসামীপক্ষকে সুযোগ দিলে তারা আরও সময়ক্ষেপণ করবে। আইন যেহেতু কাভার করেনা, তাই যুক্তিতর্ক বাদ দিয়ে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা উচিৎ।

এরপরও আসামীপক্ষের আইনজীবীরা সংক্ষিপ্তভাবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য সময় প্রার্থনা করলে মহানগর পিপি লিখিতভাবে যুক্তি আদালতের কাছে জমা দেয়া যেতে পারে বলে মত দেন। আদালত আসামীপক্ষের সব আইনজীবীর যুক্তি উপস্থাপনের জন্য একদিন সময় নির্ধারণ করেন। একদিনের মধ্যে শেষ করতে না পারলে লিখিতভাবে দেয়ার পক্ষে মত দেন আসামীপক্ষের আইনজীবীরা।

রাষ্ট্রপক্ষের অসমাপ্ত যুক্তি
এরপর আদালতের নির্দেশে অসমাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন করতে গিয়ে মহানগর পিপি বলেন, তৎকালীন জোট সরকারের পররাষ্ট্র নীতি ছিল প্রচণ্ডভাবে ভারতবিদ্বেষী। পরেশ বড়ুয়াসহ উলফা সংগঠনটি আসামকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল, সেজন্য জোট সরকার উলফাকে সমর্থন দিয়েছিল। জোট সরকারের আমলে উলফার অনেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের খাওয়া-পড়া থেকে প্রশিক্ষণ পর্যন্ত সবকিছুই এখানে হত। একটি গবেষণাপত্রে পড়েছি, জোট সরকারের আমলে পাঁচ হাজার দু’শ জনেরও বেশি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার চর বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল।

পিপি বলেন, এ মামলার আসামী মতিউর রহমান নিজামীর পাকিস্তানের প্রতি প্রচণ্ড দুর্বলতা আছে। তারা একাত্তরের দেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলেন। তারা অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। সুতরাং তাদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ থাকতেই পারে এবং সেজন্যই সরকারের জ্ঞাতসারেই অস্ত্রগুলো আনা হয়েছিল।

পিপি বলেন, আমি আগেও বলেছি ভারত শুধু পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র নয়, তারা আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রশিক্ষণ এবং এক কোটি বাংলাদেশীকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সাহায্য করেছে। কিন্তু অস্ত্র আনার এ কাজে মনে হচ্ছে আমরা জাতি হিসেবে কৃতঘ্ন। যারা আমাদের উপকার করেছে আমরা তাদের অপকার করেছি। এটা দু:খজনক। জাতি এর দ্রুত বিচার চাই, আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ও চাই।

তিনি বলেন, আমি সব আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তি চায় যাতে আর কোনদিন কেউ নিজ দেশের জলসীমা, ভূমিকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে না পারে।

এর আগে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) জেটিঘাটে দশ ট্রাক অস্ত্রের চালানটি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় অস্ত্র আইনে ও চোরাচালানের অভিযোগে দু’টি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় ঘাট শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, ট্রলারের সারেং, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ প্রায় অর্ধশত লোককে আসামী করা হয়।

মামলা দু’টির সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তৎকালীন অতিরিক্ত মহানগর পিপি হুমায়ন কবির রাসেলের আবেদনে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন আদালত।

প্রায় সাড়ে তিন বছর অধিকতর তদন্তের পর ২০১১ সালের ২৬ জুন নতুনভাবে আরও ১১ আসামীর নাম অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডি’র চট্টগ্রাম অঞ্চলের তৎকালীন এএসপি মো.মনিরুজ্জামান।

এরপর ওই বছরের ১৫ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচার।

বাংলাদেশ সময়: ১৮০০ঘণ্টা, জানুয়ারি ১২, ২০১৪
সম্পাদনা: তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর

নিষ্ক্রিয় করার সময় শ্রীলঙ্কায় ফের বোমা বিস্ফোরণ
শ্রীলঙ্কায় হতাহতদের পরিবারকে অর্থ সহায়তা দেবে সরকার
হামলাস্থল পরিদর্শন লঙ্কান পুলিশের
পাকুন্দিয়ায় বাসচাপায় পথচারীর মৃত্যু
ঢাকা-কলকাতা প্রেসক্লাবের দুই নেতার সৌজন্য সাক্ষাৎ


কলম্বো বাস স্টেশন থেকে ৮৭ বিস্ফোরক উদ্ধার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২ ফার্মেসিকে জরিমানা-সিলগালা, আটক ৩
শ্রীলঙ্কা হামলায় ড্যানিশ ধনকুবেরের ৩ সন্তানের মৃত্যু
ফিলিপাইনে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্প
মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কায় রাষ্ট্রীয় শোক