php glass

‘নিষ্প্রাণ’ ভোট উৎসবের অপেক্ষায় চট্টগ্রাম

42 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

পোস্টার, লিফলেটের বাড়াবাড়ি নেই, প্রচারণায়ও কোন জৌলুস ছিলনা, অন্যরকম এক ‘নিষ্প্রাণ’ ভোট উৎসবের জন্য উদ্বেগ, আতংক আর আশংকা নিয়ে অপেক্ষায় আছেন বন্দরনগরীর মানুষ।

চট্টগ্রাম: পোস্টার, লিফলেটের বাড়াবাড়ি নেই, প্রচারণায়ও কোন জৌলুস ছিলনা, অন্যরকম এক ‘নিষ্প্রাণ’ ভোট উৎসবের জন্য উদ্বেগ, আতংক আর আশংকা নিয়ে অপেক্ষায় আছেন বন্দরনগরীর মানুষ।

১৮ দলের ভোট ঠেকানোর ঘোষণা, অব্যাহত সহিংসতাসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত চারটি উপজেলায় সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ আছে প্রশাসনের মধ্যে। চট্টগ্রামের কমপক্ষে সাড়ে তিন’শ কেন্দ্রকে নিরাপত্তার জন্য স্পর্শকাতর বলে বিবেচনা করছে প্রশাসন। তবে ভোটকেন্দ্র ঘিরে তিন থেকে চার স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রিটার্ণিং অফিসার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বাংলানিউজকে বলেন, ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সকল নির্বাচনী এলাকায় আমরা আগেই ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠিয়ে দিয়েছি। আজ (শনিবার) তা কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।

নির্বাচন নয় আসনে, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২৬ জন
বিএনপিসহ সরকার বিরোধী বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করছে। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ইতোমধ্যে সাতটি আসনের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন। একক প্রার্থী থাকায় ওই সাতটি আসনে নির্বাচন হচ্ছেনা।

বাকি নয়টি আসনেই রোববার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে তিনটি আসন মহানগরীর আওতাধীন। সেগুলো হচ্ছে, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড), চট্টগ্রাম-৯ (কোতয়ালী-বাকলিয়া) এবং চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা)।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তিনটি আসনের নির্বাচনে রিটার্ণিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলার আওতায় পড়েছে ৬টি আসন। সেগুলো হচ্ছে, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ), চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া), চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-পশ্চিম পটিয়া), চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)।

জেলায় রিটার্ণিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান।

ফটিকছড়িতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নৌকা প্রতীকে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ড.মাহমুদ হাসান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো.নাজিম উদ্দিন।

সন্দ্বীপে আওয়ামী লীগের মাহফুজুর রহমান মিতা, জাতীয় পার্টির এম এ ছালাম ও জাসদের নূরুল আক্তার প্রতিদ্বন্দ্বিত‍া করছেন।

সীতাকুণ্ড আসনে আওয়ামী লীগের ‍দিদারুল আলম, ওয়ার্কার্স পার্টির দিদারুল আলম চৌধুরী, জাসদের আ ফ ম মফিজুর রহমান এবং জেপি (মঞ্জু) থেকে অ আ ম হায়দার আলী চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নগরীর কোতয়ালী-বাকলিয়া আসনে জাতীয় পার্টি থেকে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, ন্যাপের আলী আহমেদ নাজির এবং বিএনএফ’র অধ্যাপক আরিফ মঈনুদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বন্দর-পতেঙ্গা আসনে আওয়ামী লীগের এম এ লতিফ এবং জাসদের মো.জসীম উদ্দিন বাবুল এবং জাতীয় পার্টির কামাল উদ্দিন চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পটিয়ায় আওয়ামী লীগের সামশুল হক চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আনোয়ারা-পশ্চিম পটিয়ায় আওয়ামী লীগের সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, জাতীয় পার্টির তপন চক্রবর্তী ও বিএনএফ থেকে নারায়ণ রক্ষিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় আওয়ামী লীগ থেকে ড.আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভি এবং বিএনএফ থেকে জয়নাল আবেদিন কাদেরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বাঁশখালীতে আওয়ামী লীগ থেকে মোস্তাফিজুর রহমান এবং জেপি (মঞ্জু) থেকে অ আ ম হায়দার আলী চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন তারা হলেন, চট্টগ্রাম-১ আসনে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন (আ’লীগ), চট্টগ্রাম-৫ আসনে জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম ৬ ও ৭ আসনে আওয়ামী লীগের এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ও ড.হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৮ আসনে জাসদের মঈনউদ্দিন খান বাদল, চট্টগ্রাম-১০ ও ১৪ আসনে আওয়ামী লীগের ডা.আফছারুল আমিন ও নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চূড়ান্ত
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে যে ৯টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে, সেসব আসনের সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ২৮ লক্ষ ২৮ হাজার।

নয়টি আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ৪৪টি, মোট ভোটকক্ষ ৫ হাজার ৫৮৩টি। ভোটগ্রহণের কাজে প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৫ জন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ৫ হাজার ৫৮৩ জন এবং ১১ হাজার ১৬৬ জন পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সন্দ্বীপ আসনে ৪৬০ জন প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৭৫৬ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

ফটিকছড়ি আসনে ৭৬৭ জন প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং এক হাজার ২৫৪ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।  

সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে ৮৩৫ জন প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং এক হাজার ৫০৩ জন পোলিং অফিসার ভোটগ্রহণের কাজে নিয়োজিত থাকবেন।  

বাঁশখালী আসনে ৬৯৮ জন প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং এক হাজার ১৬৫ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

পটিয়া আসনে ৬৫৬ জন প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং এক হাজার ১০৫ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

আনোয়ারা-পশ্চিম পটিয়া আসনে ৭০৫ জন প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং এক হাজার ২০৭ জন পোলিং অফিসার ভোটগ্রহণের কাজে নিয়োজিত থাকবেন।

সীতাকুণ্ড আসনে ৮১৫ জন প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং এক হাজার ৪১৫ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

কোতয়ালী-বাকলিয়া আসনে ভোটগ্রহণের জন্য ৫৮৫ জন প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৯৩৫ জন পোলিং অফিসার নিয়োজিত থাকবেন।

বন্দর-পতেঙ্গা আসনে ৬১২ জন প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৫৪ জন পোলিং অফিসার চূড়ান্ত নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, স্পর্শকাতর ৩৫০ কেন্দ্র
নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলাগুলো হচ্ছে, সীতাকুণ্ড, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এবং বাঁশখালী। চারটি উপজেলার পাশাপাশি ফটিকছড়ির কিছু ভোটকেন্দ্র নিয়েও উদ্বেগের মধ্যে আছে প্রশাসন।

রিটার্ণিং অফিসার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বাংলানিউজকে বলেন, সব ভোটকেন্দ্রকেই আমরা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছি, আবার একেবারে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছিনা। তবে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকা হওয়ায় সন্দ্বীপ এবং মহাসড়কের পাশে হওয়ায় সাতকানিয়া-লোহাগাড়াকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বাড়তি নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। বাঁশখালীতেও বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে। সেখানেও বাড়তি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্পর্শকাতর সাড়ে তিন’শ কেন্দ্রের প্রত্যেকটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৪ জন করে সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এদের মধ্যে পুলিশ আছে ৫ জন এবং বাকিরা আনসার সদস্য। সন্দ্বীপ উপজেলার প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে ১৪ জন করে নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে।

এছাড়া জেলা ও নগরীর কম ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুলিশ ও আনসার সদস্য মিলিয়ে কোথাও ১২ জন আবার কোথাও ১৩ জন করে মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যেক আসনে কাছাকাছি দু’তিনটি ভোটকেন্দ্র মিলে একটি মোবাইল টিম এবং ইউনিয়ন ও পৌরসভায় দু’টি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স টহল দেয়া শুরু করেছে। ‌উভয় টিমে ১৫ জন করে পুলিশ সদস্য আছে। এর বাইরে র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাসদস্যরা ভোটকেন্দ্রের বাইরে টহল দিচ্ছে। তবে স্পর্শকাতর বিবেচনায় কিছু ভোটকেন্দ্রে বিজিবি সদস্যও সার্বক্ষণিক মোতায়েন আছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বাংলানিউজকে বলেন, প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে তিন থেকে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। কেন্দ্রের দশ গজের মধ্যে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব থাকবে। সেনাবাহিনী টহল দেবে।

এছাড়া প্রত্যেক উপজেলায় অথবা সংসদীয় আসনে ৪ থেকে ৬ জন ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রত্যেক ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে  স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে বলে জেলা প্রশাসক জানান।

ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা
নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আছেন সাধারণ মানুষ। অনেকের মতে, ভোটকেন্দ্রে যেতে কোন সমস্যা না হলেও নির্বাচনের পরে সহিংসতার শিকার হতে পারেন সাধারণ মানুষ। সেক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়াকেই নিরাপদ মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

লোহাগাড়ার সুখছড়ি এলাকার বাসিন্দা কাপড় ব্যবসায়ী জিয়াউল আমিন ভোট দিতে যাবেন না বলে জানান। এমনকি তিনি পরিবারের সদস্যদেরও নিষেধ করে দিয়েছেন। জিয়াউল বাংলানিউজকে বলেন, এটা তো ভোট নয়, পাতানো খেলা। এ খেলায় অংশ নিতে চাইনা।

বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা উজ্জ্বল সিকদার বাংলানিউজকে বলেন, বাঁশখালীতে সংখ্যালঘুরা কেউ ভোট দিতে যাবেন না। কারণ ভোটের দিন নিরাপত্তা থাকলেও ভোটের পরে নিরাপত্তা কে দেবে ?

প্রার্থীদের মধ্যেও নানা শংকা
নিরুত্তাপ নির্বাচনেও কেন্দ্র দখল কিংবা নিরাপত্তাহীনতার শংকায় আছেন অনেক প্রার্থী। কয়েকজন ভিআইপি প্রার্থীও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন।

শেষ মুহুর্তে নির্বাচনী সাতকানিয়া উপজেলায় নির্বাচনী সরঞ্জামবোঝাই দু’টি পিকআপ ভ্যান আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভোটের দিন প্রতিহত করা যাবে কিনা তা নিয়েও আশংকায় আছেন প্রার্থীরা।

সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ড.আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভি বাংলানিউজকে বলেন, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মানুষ আমাকে ভালবাসেন, তারা আমাকে অবশ্যই ভোট দিতে আসবেন। কিন্তু এখানে যারা নৌকার বিরোধী তারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারে। আমি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছি।

ফটিকছড়ি আসনের প্রার্থী তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারি বাংলানিউজকে বলেন, ভুজপুর থানার বাগানবাজার ও দাঁতমারা ইউনিয়নে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা কেন্দ্র দখল অথবা নির্বাচন বানচালের পরিকল্পনা করছে। এজন্য আমি শংকিত। আতংকে আছেন এলাকাবাসী।

শেষ মুহুর্তে চাপের মুখে নদভি, ভাণ্ডারি, মোস্তাফিজ
আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা মার্কা নিয়ে ফটিকছড়িতে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারি, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভি, বাঁশখালীতে মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের বিএনপি-জামায়াত সমর্থন দিয়েছে বলে এলাকায় প্রচার আছে।

মাইজভাণ্ডারির বিপরিতে প্রার্থী আছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতা ড.মাহমুদ হাসান। ইতোমধ্যে মাইজভাণ্ডারি অভিযোগ তুলেছেন, মাহমুদ হাসানকে বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজত সমর্থন দিয়েছে। জামায়াত ফটিকছড়িতে কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

নদভির বিপরিতে প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে আছেন বিএনএফ’র প্রার্থী জয়নাল আবেদিন কাদেরি। এলাকায় জোরালো প্রচার আছে, তাকে নেপথ্যে সমর্থন দিচ্ছে জামায়াত-শিবির। জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় শেষ মুহুর্তে বিএনএফ’র প্রার্থী চাপের মুখে ফেলেছে একসময়ের জামায়াতের কাছের লোক হিসেবে পরিচিত নদভি।

বাঁশাখালীতে মোস্তাফিজুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জেপি (মঞ্জু) দলের অ আ ম হায়দার আলী চৌধুরী নেপথ্যে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থন পেয়েছেন। হায়দার আলী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর নিকটাত্মীয়। আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে তাকে বিএনপি নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছে বলেও প্রচার আছে। তবে জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও হায়দার আলী সরাসরি এ প্রচারণা অস্বীকার করেছেন।

ফলাফল ঘোষণার জন্য দু’টি কন্ট্রোল রুম
চট্টগ্রামে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার জন্য দু’টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর তিনটি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়ামে স্থাপিত অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে। আসনগুলো হচ্ছে, সীতাকুণ্ড, কোতয়ালী-বাকলিয়া এবং বন্দর-পতেঙ্গা।

এছাড়া জেলার বাকি ছয়টি আসনের ফলাফল ঘোষণা হবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ থেকে। আসনগুলো হচ্ছে, ফটিকছড়ি, সন্দ্বীপ, পটিয়া, আনোয়ারা-পশ্চিম পটিয়া, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া এবং বাঁশখালী।

বাংলাদেশ সময়: ১৯১০ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৪,২০১৪
সম্পাদনা: তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর

হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণ
ইতিহাসের এই দিনে

হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণ

শেষ হলো জেলা প্রশাসক সম্মেলন
শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ করলো ছাত্রলীগ
বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার করা হবে: হানিফ
যমুনার পানি বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপরে


‘হ্যাঁলো ওসি’ বুথে এসে মাদক ব্যবসায়ীর আত্মসমর্পণ
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গেলেন নৌবাহিনীর ৮০ সদস্য
বিমা খাতের অতিরিক্ত কমিশন বাণিজ্য বন্ধে সভা
চট্টগ্রামেই বেগম জিয়ার কারামুক্তি আন্দোলনের সূচনা হবে
জাতীয় মৎস্য পুরস্কার পেলো নৌবাহিনী