php glass

জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত ৩৫০ কেন্দ্র ‘স্পর্শকাতর’

28 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ৮টি উপজেলার মধ্যে চারটিকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। নির্বাচনের দিন নিরাপত্তার পরিকল্পনায় এসব উপজেলার কমপক্ষে সাড়ে তিন’শ ভোটকেন্দ্রকে ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ৮টি উপজেলার মধ্যে চারটিকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। নির্বাচনের দিন নিরাপত্তার পরিকল্পনায় এসব উপজেলার কমপক্ষে সাড়ে তিন’শ ভোটকেন্দ্রকে ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম এবার নয়টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে। এসব আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা এক হাজার ৪৪টি। এর মধ্যে চারটি উপজেলায় কমপক্ষে সাড়ে তিন’শ ভোটকেন্দ্র আছে যেগুলো জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। এসব ভোটকেন্দ্রকেই স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।

চরম ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলাগুলো হচ্ছে সীতাকুণ্ড, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এবং বাঁশখালী। চারটি উপজেলার পাশাপাশি ফটিকছড়ির কিছু ভোটকেন্দ্র নিয়েও উদ্বেগের মধ্যে আছে প্রশাসন।

রিটার্ণিং অফিসার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বাংলানিউজকে বলেন, সব ভোটকেন্দ্রকেই আমরা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছি। তবে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকা হওয়ায় সন্দ্বীপ এবং মহাসড়কের পাশে হওয়ায় সাতকানিয়া-লোহাগাড়াকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বাড়তি নিরাপত্তার আওতায় আনা হচ্ছে। বাঁশখালীতেও বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে। সেখানেও বাড়তি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, ‘স্পর্শকাতর ভোটকেন্দ্রগুলোতে আমরা গোলযোগের আশংকা করছি। সবচেয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের যে ধরনের প্রস্তুতি থাকতে হয়, সেই ধরনের প্রস্তুতি নিয়েই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সেসব ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হবে।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর থেকেই সীতাকুণ্ড, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালী উপজেলা অশান্ত হয়ে উঠে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীর জনপ্রতিনিধিরা ভোটের দিন সহিংসতার আশংকা করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্পর্শকাতর দু’ইউনিয়ন কিংবা তিন ইউনিয়ন করে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপাররা ভোটের আগের দিন এলাকায় চলে যাবেন।

এজন্য সিআইডি, পিবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে কমপক্ষে আরও ৫ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে জেলা পুলিশে সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হচ্ছে। উপজেলায় অবস্থান করে পুলিশ সুপারসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি মনিটরিং করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্পর্শকাতর সাড়ে তিন’শ কেন্দ্রের প্রত্যেকটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৪ জন করে সদস্য মোতায়েন থাকবে। এদের মধ্যে পুলিশ থাকবে ৫ জন এবং বাকিরা আনসার সদস্য। সন্দ্বীপ উপজেলার প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে ১৪ জন করে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

এছাড়া জেলার কম ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুলিশ ও আনসার সদস্য মিলিয়ে কোথাও ১২ জন আবার কোথাও ১৩ জন থাকবেন।

প্রত্যেক আসনে কাছাকাছি দু’তিনটি ভোটকেন্দ্র মিলে একটি মোবাইল টিম এবং ইউনিয়ন ও পৌরসভায় দু’টি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। ‌উভয় টিমে ১৫ জন করে পুলিশ সদস্য থাকবেন। এর বাইরে র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাসদস্যরা ভোটকেন্দ্রের বাইরে থাকবেন। তবে স্পর্শকাতর বিবেচনায় কিছু ভোটকেন্দ্রে বিজিবি সদস্যও সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ‍পুলিশের এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ নিরাত্তায় থাকবে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। আর কেন্দ্রের বাইরে বেস্টনি করে থাকবে র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাসদস্য। স্পর্শকাতর প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রকে ঘিরে এ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত পরিকল্পনায় কিছুটা হেরফের হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলার সাতটি আসনে ৭১৩টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ ও ৫ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান বাংলানিউজকে বলেন, নাশকতা, সহিংসতা কিংবা অপ্রীতিকর যে কোন পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সেসময় কি ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে সেটা মাথায় রেখে মোকাবেলায় বিভিন্ন কৌশল আমরা নিয়েছি।

নির্বাচন উপলক্ষে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে সেনাবাহিনীর টহল শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী পৌঁছে গেছে। সন্দ্বীপে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে কোস্টগার্ডও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে এবার সাতটি আসনে একক প্রার্থী থাকায় সেখানে ভোটগ্রহণ হচ্ছেনা। বাকি নয়টি আসনে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে জেলায় আছে সাতটি আসন এবং নগরীতে আছে দু’টি আসন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৪২ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০১, ২০১৪
সম্পাদনা: তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর

ধর্ষণ মামলায় অব্যাহতি পেলেন রোনালদো
রাতে শেষ হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা, সাগরে যেতে প্রস্তুত জেলেরা
২৯ জুলাই থেকে রেলের আগাম টিকিট, ফিরতি ৫ আগস্ট
মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেসবিহীন গাড়ি ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩২০
সীমান্ত থেকে দু’বার রাশিয়ান জেট তাড়ালো দক্ষিণ কোরিয়া 


সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় পুঁজিবাজারে লেনদেন
ঢাবিতে অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে যাত্রার প্রস্তুতি জেলেদের
অর্থের বিচারে রিয়াল-বার্সার পেছনে পড়লো ম্যানইউ
বরিশালে পৃথক ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু