php glass

বছরজুড়ে নিস্ক্রিয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন

35 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

১৩জুন, ২০১০। গভীর রাত। মুষলধারে বৃষ্টি। কোমর পানি পেরিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালান এম মনজুর আলম। বলেন, ‘নগরের প্রধান সমস্যাটি দূর করতে কোনো ব্যবস্থা নেননি মহিউদ্দিন। নির্বাচিত হলে নগরের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসন করবো।’ ১৭ জুনের নির্বাচনে রাজনৈতিক শিষ্যর কাছে হারেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

চট্টগ্রাম: ১৩জুন, ২০১০। গভীর রাত। মুষলধারে বৃষ্টি। কোমর পানি পেরিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালান এম মনজুর আলম। বলেন, ‘নগরের প্রধান সমস্যাটি দূর করতে কোনো ব্যবস্থা নেননি মহিউদ্দিন। নির্বাচিত হলে নগরের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসন করবো।’ ১৭ জুনের নির্বাচনে রাজনৈতিক শিষ্যর কাছে হারেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

এম মনজুর আলম নগর পিতা নির্বাচিত হওয়ার সাড়ে তিন বছর পার হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে খরচ করা হয়েছে শতকোটি টাকা। কিন্তু এখনো নগরীর প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। সময়ের আবর্তে ভোল পাল্টেছে মেয়রও।

এভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিস্কার-পরিচ্ছনতাসহ ২০১৩ সালে সেবা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য কোনো সফলতা দেখাতে পারেনি সিটি করপোরেশন। নিস্ক্রিয়ভাবেই পার করেছে বছরটি। তোড়জোড় থাকলেও সুফল ভোগ করতে পারেনি নগরবাসী। তবে বিভিন্ন উচ্ছেদ অভিযানে সফলতা থাকলেও তাও বাধাগ্রস্থ হয়েছে রাজনৈতিক সহিংসতায়।

জলাবদ্ধতা নিরসন: জলাবদ্ধতা নিরসনে তিন বছরে ১শ কোটিরও বেশি টাকা খরচ করা হয়েছে। ২০১৩ সালেও এ খাতে ব্যয় করেছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। এরপরও জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই মেলেনি। বরং বেড়েছে জলাবদ্ধতার বিস্তৃতি। বর্ষা মৌসুমে নগরীর নিন্মাঞ্চল ছিল জলমগ্ন। শুস্ক মৌসুমেও আগ্রাবাদসহ বেশকটি এলাকায় জোয়ারের পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

করপোরেশনের সহকারি প্রকৌশলী(যান্ত্রিক) সুদীপ বসাক বাংলানিউজকে বলেন,‘ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন ছাড়া জলাবদ্ধতা সম্পূর্ণ নিরসন সম্ভব নয়। তবে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আনতে কাজ করছে সিটি করপোরেশন। এ জন্য চাক্তাই খালসহ বেশকটি খাল পুনঃ খনন করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে ২০১৩ সালে প্রায় দেড়কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এখন বৃষ্টি হলে সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পরে তাৎক্ষনিকভাবে পানি নেমে যায়। এটাই করপোরেশনের সফলতা।’

এ প্রসঙ্গে মেয়র এম মনজুর আলম বিভিন্ন সময় যুক্তি দেখিয়ে বলেন, ‘নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে তিনবছর প্রাথমিক পর্যায়ে বেশকিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে করপোরেশন। এছাড়া ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসন নগরীর উন্নয়ন সহযোগী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয়। খাল নালা নর্দমাগুলো যদি অবৈধ দখল ও স্থাপনা থেকে মুক্ত করে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা যায় তাহলে জলাবদ্ধতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে।’  

শিক্ষা: ২০১৩ সালে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে তিনটি বিদ্যালয়ে কলেজ চালু করা হয়েছে। এছাড়া বছরজুড়ে শিক্ষা সম্প্রসারণে উল্লেখ করার মতো কোন কার্যক্রম নেই করপোরেশনের। তবে মেয়রের দাবি ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, শিক্ষকদের বেতন ভাতা ও অবকাঠামোসহ অন্যান্য খাতে করপোরেশন তার রাজস্ব আয়ের বিরাট একটি অংশ ব্যয় করে যাচ্ছে। এই উপমহাদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন একমাত্র প্রতিষ্ঠান যা শিক্ষা প্রসারে বছরে ১৭ কোটি টাকা ভুর্তকি দিয়ে ৭০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে। এই উদ্যোগের মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা-দীক্ষায় জ্ঞান-বিজ্ঞানে স্বনির্ভর করা।’

স্বাস্থ্য: এ খাতে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি ছিল না সিটি করপোরেশনের। বরং উল্টোটিই ঘটেছে। ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত ৪৩টি আরবান স্বাস্থ্য কেন্দ্র এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক(এডিবি) এর অর্থায়নে ২০০১ সালের জানুয়ারি থেকে সেবা কার্যক্রম শুরু করে।

দুই মেয়াদে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে। পরবর্তীতে এর মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু ২০১৩ সালে এডিবি নতুন করে আর মেয়াদ না বাড়ানোর কারণে আরবান প্রকল্পের ৩৬টি কেন্দ্রের প্রায় ৫৯০জন কর্মকর্তা কর্মচারী তাদের চাকরি করপোরেশনে আত্তীকরণের দাবিতে আন্দোলনে নামে। পরে তাদের বেতন ভাতা করপোরেশনের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। করপোরেশনে আত্তীকরণের পর থেকে অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতন-ভাতা কমে যায়। হতাশ হয়ে পড়ে তারা। ফলে স্বাস্থ্য সেবার মান কমতে থাকে।

পরিস্কার-পরিচ্ছনতা: নগরীকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে নগরীর ৬টি জোনকে ভেঙ্গে ৮টি পরিচ্ছন্ন জোনে বিভক্ত এবং ৮টি জোনকে দুই ভাগে অর্থাৎ উত্তর ও দক্ষিণ জোনে বিভক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও আবর্জনা অপসারণ কাজে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ১৩কোটি টাকা। কিন্তু এর সুফল পায়নি নগরবাসি। এছাড়া চোখে পড়ার মতো ছিলনা মশক নিধন কার্যক্রমও। রাতেই বর্জ্য অপসারণের কথা থাকলেও দিনের বেলা চোখে পড়ে বিভিন্ন ময়লা আবর্জনার স্তুপ। সারাদেশে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের খ্যাতি থাকলেও বর্তমানে সে অবস্থা আর নেই। নগরের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ দেখা যায়। ডাস্টবিনগুলো থেকে সময়মতো ময়লা পরিষ্কার করা হয় না বলে নগরবাসীর অভিযোগ।

এ প্রসঙ্গ মেয়রের বক্তব্য ‘নগরবাসীকে প্রতিদিন পরিচ্ছন্ন সকাল উপহার দিতে ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনা রাতে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১ নভেম্বর রাত ১২টা থেকে দুই শিফটে এ কার্যক্রম শুরু হয়। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে আবর্জনা অপসারণের জন্য ইতিমধ্যে ১৯টি ড্রাম ট্রাক কেনা হয়েছে। নভেম্বরে চারটি কনটেইনার মুভার আবর্জনা অপসারণ কাজে যুক্ত হয়েছে।’

উচ্ছেদ অভিযান: সিটি করপোরেশনে নতুন ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিন যোগদানের পর অবৈধ বিলবোর্ডসহ বিভিন্ন উচ্ছেদ অভিযান জোরদার হয়। কিন্তু করপোরেশনের অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়। ২০১৩ সালে ৩’শ ৩৯টি অবৈধ বিলবোর্ডের মধ্যে অপসারণ করা হয় ২১টি। এছাড়া ৬৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু বছর পেরিয়ে গেলেও দু’টি ভবন অপসারণ করেই নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম।

করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিন বাংলানিউজকে বলেন, ‘এপ্রিলে আমি দায়িত্বগ্রহণ করি। কিন্তু দায়িত্ব পেতে পেতে আরো একমাস কেটে যায়। পরে কার্যক্রম শুরু করি। কিন্তু রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে পুলিশের ফোর্স না পাওয়ায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।’

রিকশা’র নতুন লাইসেন্স: ২৫ বছর পর গত ২৬-২৮ অক্টোবর পর্যন্ত অনুমোদিত রিকশা নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স দেয় করপোরেশন। কিন্তু এ সময়ে মাত্র ২৬ হাজার ২১টি রিকশা লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স নিয়েছে ১৩ হাজার ৫৭৯ জন রিকশা মালিক। এর আগে ৩৫ হাজার নতুন রিকশা’র অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় করপোরেশন। যদিও নগরীতে অবৈধভাবে চলাচল করছে প্রায় আড়াই লাখ রিকশা।

চাকরি স্থায়ী: শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে অস্থায়ী শ্রমিকদেরকে স্থায়ী করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ৫ সেপ্টেম্বর ২২টি শাখায় ৯৯৯টি শূন্য পদ পূরণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় করপোরেশন। এর বিপরীতে ৫৯৩১ জন আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ডিসেম্বরে তাদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২৯ ডিসেম্বর চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ২০১৪ সালের শুরুর দিন তারা চাকরিতে যোগদান করবে।

চাক্তাই খালের মোহনায় স্লুইস গেট নির্মাণ, জালালাবাদ শহীদ নগর এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কবরস্থান নির্মাণ, ডিসি রোডের সংস্কার, ভাসমান লোকদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণসহ বেশ কিছু উন্নয়ন কার্যক্রম ছিল সিটি করপোরেশনের। এছাড়া দেড়শ বছর পূর্তি উদযাপন করে সিটি করপোরেশন।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৩
সম্পাদনা: তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর

হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণ
ইতিহাসের এই দিনে

হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণ

শেষ হলো জেলা প্রশাসক সম্মেলন
শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ করলো ছাত্রলীগ
বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার করা হবে: হানিফ
যমুনার পানি বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপরে


‘হ্যাঁলো ওসি’ বুথে এসে মাদক ব্যবসায়ীর আত্মসমর্পণ
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গেলেন নৌবাহিনীর ৮০ সদস্য
বিমা খাতের অতিরিক্ত কমিশন বাণিজ্য বন্ধে সভা
চট্টগ্রামেই বেগম জিয়ার কারামুক্তি আন্দোলনের সূচনা হবে
জাতীয় মৎস্য পুরস্কার পেলো নৌবাহিনী