বেশি ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করবে প্রশাসন

16 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

নির্বাচনবিরোধীদের বাধা মোকাবেলা করে ভোটকেন্দ্রে বেশিসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত কর‍াই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে চট্টগ্রামের প্রশাসন। তাদের ভোটকেন্দ্রে আনতে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হবে।

চট্টগ্রাম: নির্বাচনবিরোধীদের বাধা মোকাবেলা করে ভোটকেন্দ্রে বেশিসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত কর‍াই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে চট্টগ্রামের প্রশাসন। তাদের ভোটকেন্দ্রে আনতে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হবে।

ভোটারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা, ভোটকেন্দ্রে আসার ব্যাপারে তাদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করা, ‘দুর্বৃত্তদের’ গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে। প্রয়োজনে যানবাহনের ব্যবস্থা করে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য প্রার্থীদের অনুমোদন দেবে প্রশাসন।

রোববার বিকেলে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক সমন্বয় সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

সভায় পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নওশের আলী খান বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে বেশি ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে যদিও আমাদের সরাসরি খুব বেশি কিছু করার নেই তারপরও আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমরা কেন্দ্রে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি যাতে থাকে সেজন্য সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

সভায় রিটার্ণিং অফিসার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, ভোটকেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশ আমাদেরকেই তৈরি করতে হবে। এজন্য ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ভোটার যে রাস্তা দিয়ে কেন্দ্রে আসবে সেই রাস্তাকে নিরাপদ রাখতে হবে। প্রয়োজনে প্রার্থীদের গাড়িতে করে ভোটার আনার ব্যবস্থা করার অনুমোদন দেয়ার বিষয় আমরা বিবেচনা করব।

তিনি বলেন, ‘ভোটের আগে ভোটারদের কাছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অন্ত:ত আমাদের এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যে, আপনারা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারবেন, আপনাদের কোন সমস্যা হবেনা।’

ডিআইজি বলেন, ‘ভোটের পর কী পরিস্থিতি হবে এ শংকাও ভোটারদের মধ্যে থাকতে পারে। এজন্য আমাদের নির্বাচন নিয়ে যে প্রস্তুতি একই প্রস্তুতি ভোটের পরও থাকতে হবে। যখন দেখব পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে তখন আমরা হয়ত বাহিনী প্রত্যাহার করে নিয়ে আসতে পারব।’

রিটার্ণিং অফিসার ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ আবদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে এ সভায় সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লে.কর্ণেল শরীফুল ইসলাম, বিজিবি’র মেজর সাব্বির আহমেদ, সিএমপি’র উপ-কমিশনার (সদর) মাসুদ-উল-হাসান, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার, র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের সহকারী পরিচালক সুজ্ঞান চাকমা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খোরশেদ আলমসহ আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিভাগীয় কমিশনার জানান, দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় সন্দ্বীপ, নোয়াখালীর হাতিয়া এবং কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেণ্টমার্টিন দ্বীপকে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন তারা। এজন্য সেখানে পুলিশের পাশাপাশি কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী অতিরিক্ত ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লে.কর্ণেল শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘শীতকালীন মহড়ার কারণে সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে রাস্তায় বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিবছরই আমরা একইভাবে দায়িত্ব পালন করি। এবার পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের অবস্থান নিয়ে একটু বেশি আলোচনা হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মেনে আমরা ২৬ ডিসেম্বর থেকে মাঠে নামব।’

নির্বাচনে পুলিশ, বিজিবিসহ সব বাহিনীকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন বলে জানান এ সেনা কর্মকর্তা।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রাখা এবং সড়কে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে গাছ কাটার বিরুদ্ধে জোরালো প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর উপস্থিতির কারণে মিরসরাই, সীতাকুণ্ড, জোরারগঞ্জ পর্যন্ত এলাকায় মহাসড়কে এখন কোন সমস্যা নেই। লোহাগাড়া, বাঁশখালী আর ফটিকছড়ি উপজেলায় সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, কারণ এসব এলাকা এখনও পুরোপুরি সংকটমুক্ত হয়নি।

বাহিনীগুলোর নিজেদের মধ্যে যাতে কোন ভুল বোঝাবুঝি না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান পুলিশ সুপার।

সিএমপি’র উপ-কমিশনার (সদর) মাসুদ-উল-হাসান বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের যে ফোর্স আছে তাতেই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে পারব বলে আমরা মনে করছি। আমরা আমাদের কৌশল অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছি।

চট্টগ্রাম মহানগরীর চারটি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৯ (কোতয়ালী, বাকলিয়া) আসনে এবং চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে এবার নির্বাচন হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) এবং চট্টগ্রাম-১২ (আনোয়ারা, পশ্চিম পটিয়া) আসনের কিছু অংশও নগরীতে পড়েছে।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদ-উল-হাসান বাংলানিউজকে জানান, সিএমপি’র আওতাধীন ৩৩৩ টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে তিন থেকে পাঁচটি কেন্দ্রকে একটি মোবাইল টিমের আওতায় রাখা হবে। রাস্তায় টহল দেবে র‌্যাব ও বিজিবি। ভোটকেন্দ্রে থাকবে পুলিশ, আনসার, শিল্প পুলিশ ও এপিবিএন’র সমন্বিত টিম।

এর বাইরে কয়েকটি এলাকাকে কেন্দ্র করে স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে তিনি জানান।

সভায় ‍আনসারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যেক ভোটকেন্দ্র ১৭ জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হবে।

ডিআইজি নওশের আলী খান বাংলানিউজকে বলেন, যারা গাছ কাটছে, রেললাইনের পাটাতন খুলে ফেলছে, নাশকতা করছে তাদের দলীয় পরিচয় মুখ্য নয়। তারা দুর্বৃত্ত। তাদের বিরুদ্ধে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার করতে পারলে জনমনে শান্তি আসবে।

সভায় বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, নির্বাচনে যারা বাধা দিতে চান তাদের মোকাবেলা করতে হবে। আমাদের কাছে আর মাত্র ১৩দিন সময় আছে। আমরা যদি সমন্বিতভাবে সব‍াই মিলে কাজ করতে পারি তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যাবে। আর নির্বাচনও উৎসবমুখর হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮০০ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২২,২০১৩
সম্পাদনা: তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর।

চৌদ্দগ্রামে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৬
চট্টগ্রামে আগুনে পুড়ে ৮ জনের মৃত্যু
খাশোগি হত্যায় সব তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি তুর্কি
ইউএনওর তৎপরতায় রক্ষা পেলো এক পরিবার
সয়াবিন চাষে বাড়ে জমির উর্বরতা, কমে সারের ব্যবহার


চা বাগানে এখন কুঁড়ির অপেক্ষা
খুলনায় নলকূপে উঠছে না পানি!
ইউরোপীয় আ’লীগের সভাপতি নজরুল, সম্পাদক মুজিব
পেনাল্টি মিস করেও জয়ের নায়ক মেসি
কবিরহাটে ইয়াবাসহ আটক ২