বন্যপ্রাণীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

মো. রাজীব সরকার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজ

walton

গাজীপুর: মানুষের চলাফেরা না থাকায় প্রাকৃতিকভাবে বন্যপ্রাণীদের অভয়আশ্রম হয়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। প্রাকৃতিক রূপে সেজেছে এ পার্ক। আর অবাধে বিচরণ করছে পাখিসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। যেন বন্যপ্রাণীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে প্রায় দুই মাস যাবত এই পার্কটি বন্ধ রয়েছে। যার ফলে দর্শনার্থীসহ কোন মানুষই পার্কের চলাফেরা করছেন না। আর এ কারণেই পার্কটি প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরে পেয়েছে। গাছে গাছে বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার পাখি ও বন্যপ্রাণীরা বিচরণ করছে। বন্যপ্রাণী ও পাখিদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালায় ঘেরা এই পার্কটি। নানান প্রজাতির পাখিদের মনমুগ্ধকর কলকাকলি ও কিচিরমিচির আওয়াজ। 

ছবি: বাংলানিউজপার্কে অবাধে চলাফেরা করছে নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীরাও। প্রাকৃতিকভাবেই এখানে ডাহুক, তিলা ঘুঘু, ইউরেশিয়ান ঘুঘু, নীলকণ্ঠ, সাধারণ মাছরাঙ্গা, কমলা মাছরাঙ্গা, বিভিন্ন ধরনের মুনিয়া পাখি, জঙ্গল ময়না, বাথ শালিক, গাঙ শালিক, কাঠ শালিক, পানকৌড়ী, চড়ুই, বাবুই, বুলবুলি, কোকিল ও বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির সমাগম অনেক বেড়েছে। পার্কে থাকতে শুরু করেছে এসব পাখিরা। এক কথায় বলা চলে এসব পাখির কলকাকলিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক হয়ে উঠেছে পাখি ও বন্যপ্রাণীদের স্বর্গরাজ্য। 

গত এক মাস আগেও প্রাকৃতিকভাবে এত পাখি এ পার্কে ছিল না। করোনা ভাইরাসের কারণে পার্কটিতে মানুষের চলাফেরা বন্ধ থাকায় বন্যপ্রাণীরা এখানে নিরাপদ আবাসস্থল মনে করছে। বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার পাখির বিচরণে মনে হয় এ যেন পাখিদেরই কলোনি। বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক এখন যেকোনো বন্যপ্রাণীর জন্য উপযুক্ত বলে মনে করছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। বন্যপ্রাণীদের জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত স্থান হয়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক।

ছবি: বাংলানিউজবনের ভেতর অবাধে বিচরণ করছে মায়া হরিণ, বন্যশূকর, মেছো বাঘ, সজারুসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী। এছাড়া বেষ্টনীগুলোতেও বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, জেব্রা, জিরাফ, কুমির, সাপ, বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখিসহ নানা প্রজাতির প্রাণী চলাফেরা করছি। এছাড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে লকডাউনের মধ্যে কিছু কিছু বন্যপ্রাণীর ঘরে এসেছে নতুন অতিথি। 

গত ২০ এপ্রিল একটি ও ২৮ মে একটি জেব্রা শাবক জন্ম নিয়েছে সাফারি পার্কে। এছাড়া গত ১৮ মে একটি কমন ইল্যান্ড ও কিছু ময়ূরের বাচ্চা জন্মেছে। বলা যায়, বন্যপ্রাণীদের জন্য এখন উপযুক্ত স্থান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক।

ছবি: বাংলানিউজপার্কের ভেতর উড়ে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার পাখির ঝাঁক। পার্কে বনের মধ্যে পোকামাকড় ও ফলমূলসহ বন্য প্রাণীদের প্রাকৃতিক খাদ্য রয়েছে। এ সুযোগে গাছের ডালে পাখিরা বাসা বাঁধছে। চির সবুজে ছেয়ে গেছে এ পার্কটি। মানুষের চলাফেরা না থাকলেও পাখি ও বন্যপ্রাণীদের দখলেই এখন এই পার্কটি। সবুজ ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠছে গাছপালাও।

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, দুই মাস আগের তুলনায় এ পার্কের পরিবেশ এখন অনেক ভালো। পার্কে থাকা পাখিসহ বন্যপ্রাণীরা সুস্থ আছে। এসব প্রাণীদের রোগ বালাইও অনেক কমে গেছে। প্রাকৃতিকভাবে অনেক বন্যপ্রাণী এখানে বসবাস করতে শুরু করেছে। তবে পার্কের আয় কমে গেছে। বন্যপ্রাণীদের জন্য যে প্রাকৃতিক পরিবেশ এখানে থাকা প্রয়োজন সেটি এখন হয়ে উঠেছে। আর এটি এখন হয়েছে করোনা ভাইরাসের কারণে দর্শনার্থীসহ মানুষ চলাফেরা না থাকায়।

ছবি: বাংলানিউজতিনি আরো জানান, বন্যপ্রাণীদের প্রাকৃতিক খাবারের জন্য পার্কের খালি জায়গায় নানা জাতের ফলের গাছ লাগানো হয়েছে। এছাড়াও বন্যপ্রাণীদের অভয়াশ্রমের জন্য লাগানো হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা। বর্তমানে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে সেটি সাময়িক সময়ের জন্য। তবে পার্কের কার্যক্রম আগের মতো শুরু হলেই এই পরিবেশটি হয়তো থাকবে না। যে সমস্ত ফলের চারা পার্কের ভেতর লাগানো হয়েছে সেগুলো বড় হলে বন্যপ্রাণীদের খাবারের উত্তম ব্যবস্থা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২১০৩ ঘণ্টা, মে ৩১, ২০২০
আরএস/এমএইচএম

Nagad
নারী ক্রীড়াবিদ সান্ত্বনাকে ১০ লাখ টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
কুড়িগ্রামে সরকারি সেবার তথ্য জানতে ৩৩৩ সার্ভিস
বগুড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ১০
রাজশাহীতে করোনাকালে মেস ভাড়া মওকুফের দাবি ছাত্র মৈত্রীর 
আরিচা পয়েন্টে যমুনার পানি বিপৎসীমার ৫৭ সে.মি. উপরে


লোহাগাড়ায় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
এসোসিয়েটেড অক্সিজেনের আইপিওর অনুমোদন
ওজনে কারচুপি করে ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে ধরা
করোনায় সিলেটে মৃত্যু বেড়ে ১১০
সিলেটে ফ্লাইট বাড়ালো ইউএস-বাংলা