ঘূর্ণিঝড় আম্পান: ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ, আতঙ্কে শরণখোলাবাসী

এস.এস শোহান, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

শরণখোলা বেড়িবাঁধ। ছবি: বাংলানিউজ

walton

বাগেরহাট: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে উপকূল জুড়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়াও বইছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে নদ-নদীর পানি। সময় যত গড়াচ্ছে সিডর ও আইলা বিধ্বস্ত শরণখোলা উপজেলাবাসীর মনেও আতঙ্ক তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

সুন্দরবনের কোলঘেঁষা বলেশ্বর নদীর তীরে এ উপজেলার অবস্থান। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ এর পোল্ডারের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ। দুই মিলে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের খবরে আতঙ্কিত হয় এলাকাবাসী। তবে এবারের শঙ্কা অনেক বেশি। কারণ কয়েকদিন আগে ৩৫/১ পোল্ডারের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের গাবতলা ও বগি অংশের একশ মিটারের উপরে বেড়িবাঁধ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বেড়িবাঁধ সংলগ্ন আশার আলো মসজিদ কাম সাইক্লোন শেল্টারটিও মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকগুন বেশি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

আম্পান আঘাত হানলে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ থেকে পানি ঢুকে সাউথখালী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হবে। গবাদি পশু ও যানমালের ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় নান্টু শেখ, রহিম, লুলু মল্লিক বলেন, বলেশ্বর নদীর পাশে বেড়িবাঁধ না থাকায় সিডরের সময় শরণখোলা উপজেলাবাসী সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার বেড়িবাঁধ থাকার পরও আমরা শঙ্কায় আছি। বেড়িবাঁধের যে অবস্থা একটু জলোচ্ছ্বাস হলেই আমাদের গ্রামসহ কয়েকটি গ্রাম ভেসে যাবে। শুকনো মৌসুমে বার বার বলা সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদের এই ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার করেনি। আর কত যান মাল হারাবো আমরা নদী গর্ভে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াদুল পঞ্চায়েত বলেন, যেকোনো ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বগী, গাবতলা, চালতেবুনিয়াসহ কয়েকটি গ্রাম সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে কয়েকদিন আগে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য দেওয়া বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জীবন বাঁচানোর জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও মূল্যবান জিনিস ও গবাদি পশু রেখে অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে যেত রাজি হয় না। 

এছাড়া আমাদের এইসব এলাকায় মানুষের তুলনায় আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা অনেক কম। সবকিছু মিলিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি যদি তার সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে আঘাত হানে তাহলে সাউথখালী ইউনিয়নবাসীর অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।

শরণখোলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও ইউপি সদস্য হালিম শাহ বলেন, সোমবার বিকেল থেকেই আমরা স্থানীয়দের সতর্ক করতে মাইকিং শুরু করেছি। এলাকার বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া শুরু হয়েছে। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা সব সময় প্রস্তুত রয়েছেন। যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা মানুষের পাশে থাকবে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের নিকটতম আশার আলো মসজিদ কাম সাইক্লোন শেল্টারে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ওই এলাকার মানুষদের জন্য আশপাশের সুবিধাজনক ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে সবার আগে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ এলাকার মানুষদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া হবে। তাদের জন্য আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদুজ্জামান খান বলেন, সম্প্রতি ভেঙে যাওয়া স্থানে আমরা রিং বেড়িবাঁধ দিয়েছি। আম্পানে যদি আবারও ওই স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৬৩০ ঘণ্টা, মে ১৯, ২০২০
আরএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: বাগেরহাট ঘূর্ণিঝড় আম্পান
Nagad
অবশেষে মাস্ক পরলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প!
সুন্দরবনে নিশি যাপন, শোনা যাবে বাঘের গর্জন!
লেজিসলেটিভ-সংসদ বিভাগের সচিব সস্ত্রীক করোনা আক্রান্ত
ঢাকায় ভারতীয় নতুন হাইকমিশনার হচ্ছেন বিক্রম দোরাইস্বামী
গণভবন থেকে সেনাকুঞ্জ কোথায় নেই তারা


ক্রেতাশূন্য দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে বড় পশুর হাট ‘সাতমাইল’
মিরপুরে বিকেল হলেই বসে চোরাই মোবাইলের বাজার
ত্রিপুরায় ফের আসতে পারে লকডাউন: রতন লাল
সিঙ্গাপুরে করোনার মধ্যেও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন
পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে নেহরীন মোস্তফার পিপিই বিতরণ