সবুজে মিশে থাকে সুমিষ্ট ‘সোনা-কপালি হরবোলা’

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ফুলের মধুপ্রেমী ‘সোনা-কপালি হরবোলা’। ছবি: আবু বকর সিদ্দিক

walton

মৌলভীবাজার: চা বাগানের বাংলোগুলো গাছগাছালিতে পূর্ণ। তার কোনো একটিতে দুপুর নির্জনতা। উত্তাপ নিয়ে দীর্ঘতর হচ্ছে দুপুর। ধেয়ে আসা বাতাসের দেখা নেই। গরম তার সীমাকে অতিক্রম করেছে তখন।

একটু স্বস্তির জন্য খোলা বারান্দায় আসতে অদূরের ডাল কেঁপে কেঁপে ওঠে। সেই সঙ্গে মধুর ডাকও। কৌতূহলী চোখ ওদিকে তাকাতেই কিছুই তেমন দেখা যায় না; কেবল গাছের পাতা-ডালগুলো নড়ে ওঠা ছাড়া। রহস্যে ঢাকা সময় গড়ায়। বস্তুটিকে দেখার আগ্রহ ক্রমশই অদম্য হচ্ছে!

কিছুক্ষণ পরে ঘনপাতাময় স্থান থেকে শুকনো ডালে গিয়ে বসতেই রহস্য উন্মোচন হলো। সে আর কেউ নয়; সবুজের মধ্যে মিশে থাকা এক সবুজময় পাখি। তার নাম ‘সোনা-কপালি হরবোলা’। অবশ্য তাকে ‘পাতা বুলবুলি’ও বলা হয়ে থাকে। ইংরেজিতে তাকে Golden-fronted Leafbird এবং তার বৈজ্ঞানিক নাম Chloropsis aurifrons

এরা আমাদের দেশের ‘সুলভ আবাসিক পাখি’ ঠিকই। তবে প্রায়শই পাতার সবুজে মিশে থাকে বলে তাকে গাছের ডালে শনাক্ত করা কঠিন। 

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক বলেন, এরা Chloropsis গণের পাখি। পৃথিবীতে ৮ প্রজাতির মধ্যে আমাদের দেশে যে ৩টি প্রজাতির পাওয়া যায়, তার মধ্যে ‘Golden-fronted Leafbird’ একটি। এরা ছোট আকারে বৃক্ষচারী পাখি। দেহ প্রধানত সবুজ। ঠোঁট সরু ও বাঁকা।

তিনি আরো বলেন, তাদের ঠোঁটের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- ফুলের মধু সহজে খাওয়ার জন্য তাদের ঠোঁটের আগায় খাঁজ থাকে। তাদের নাকের ছিদ্র ডিম্বাকার। ডানাগুলো গোলাকার ও পা ছোট।  

পাখিটির স্বভাব ও খাদ্য তালিকা সম্পর্কে ইনাম আল হক বলেন, ‘Golden-fronted Leafbird’ গুলো চিরসবুজ ও পাতাঝরা বন এবং বৃক্ষবহুল অঞ্চলে বিচরণ করে। এর একা থাকে না; তবে জোড়া বা ছোট দলে বিচরণ করে। গাছের ঘন পাতা বা উঁচু বনে এরা খাবার খায়। তাদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে- নানান জাতের পোকা, ফুলের মধু ও রসালো ফল।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো- তাদের গলায় সুমিষ্ট সুর রয়েছে। এরা মাঝে মধ্যে অন্যপাখির ডাক অনুকরণ করে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, চীনসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।

জানুয়ারি-আগস্ট ‘Golden-fronted Leafbird’দের প্রজনন মৌসুম। তখন এরা বনের সুবিধাজনক গাছগুলোর ডালে ঘাস, পাতা ও শেওলা-মাকড়সার জাল দিয়ে বেঁধে হালকা বাটির মতো বাসা বানিয়ে দু’টি থেকে তিনটি ডিম পাড়ে বলে জানান এ প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক।
  
বাংলাদেশ সময়: ১০২২ ঘণ্টা, জুলাই ১৯, ২০১৯
বিবিবি/আরবি/

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: মৌলভীবাজার
Nagad
শোরুমে ডাকাতি: সুমনের স্বীকারোক্তি, রানা কারাগারে
‘বিএনপি আমলে সাহেদ হাওয়া ভবনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন’
করোনা: ঢাকাসহ চার জেলায় পশুর হাট না বসানোর প্রস্তাব
নোবেলজয়ী কবি পাবলো নেরুদার জন্ম
ঢাকার পথে সাহারা খাতুনের মরদেহ


ভিয়েতনামে মানবপাচারের ঘটনায় আটক তিনজন রিমান্ডে
পল্লবীতে ভুয়া চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানে অভিযান, আটক ৩
রাজশাহীতে বাসচাপায় অটোরিকশার চালকসহ নিহত ২
‘আদিম’ মুক্তির আগেই নির্মিত হচ্ছে সিক্যুয়েল
লকডাউনে ভিডিওচিত্র বানিয়ে খুদে শিক্ষার্থী প্রিয়তির রোবট জয়