ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২২ জিলহজ ১৪৪১

উপকূল থেকে উপকূল

উপকূল থেকে উপকূল

প্যাড বাঁচে না, হেরপর ঈদ

শফিকুল ইসলাম খোকন, উপজেলা করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৩৭ ঘণ্টা, জুন ২৮, ২০১৬
প্যাড বাঁচে না, হেরপর ঈদ ছবি:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বলেশ্বর পাড় থেকে ঘুরে: বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদ। এ নদের পশ্চিমে সুন্দরবন আর পূর্ব পাড়েই দক্ষিণের উপকূলীয় উপজেলা পাথরঘাটার চরদুয়ানী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরদুয়ানী গ্রাম।

একটা সময় ছিল এখানকার অধিকাংশ মানুষ মাছ শিকারের পাশাপাশি গাছ, হরিণ, মধু ও সুন্দরবনের মূল্যবান সম্পদ বিক্রি করে জীবনের চাকা ঘুরাতেন।

বল্বেশর নদের পাড়ে গিয়ে দেখা হয় বৃদ্ধ আমেনা খাতুনের (৬৫) সঙ্গে। ছবি তুলতেই নড়েচড়ে বসেন আমেনা খাতুন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ আমেনা সংসারের কাজে ব্যস্ত। এমন একটা সময় ছিল যখন এই আমেনা খাতুন স্বামী আবুল হোসেনের পাশাপাশি সংসারের হাল ধরতে বলেশ্বর নদের পাড়ে জাল টেনে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আজ আগের মতো মাছও নেই আমেনা খাতুনের শক্তিও নেই।

আমেনা খাতুনের বসবাস বলেশ্বর পাড়ের বেড়িবাঁধের উপর। নিজের জমি না থাকায় সরকারি বাঁধের ওপর বসবাসই তার শেষ ভরসা। কুড়ে ঘরের পাশে বসে আমেনা খাতুন হাড়িপাতিল ধোয়ার কাজ করছেন। এমন সময় বাংলানিউজের টিমকে দেখে চমকে উঠলেন। কেমন আছেন জিজ্ঞাসা করতেই আমেনা খাতুন বলেন, ‘ভালো আছি বাবারা’। যে বয়সে একটু শান্তি বা আরামে থাকার কথা, ঠিক সে বয়সেও সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে আমেনা খাতুনকে। সন্তানরা দেখাশুনা করেন না তার। বৃদ্ধ স্বামীকে নিয়েই বাঁধের ওপর বসবাস করছেন। ঈদ কেমন কাটবে এমন প্রশ্ন করা হলে আমেনা খাতুন বলেন, ‘আরে বাবা প্যাড বাঁচে না, ঈদ দিয়া হরমু কি। কোন মতে ভাত খাইয়া বাকি দিন কাটাইতে পারলে অয়। ’

আমেনা খাতুন, ছহেরা বেগম, জাহাঙ্গীর ও মজিবরের মতো বলেশ্বর পাড়ের অসংখ্য বাসিন্দাদের ঈদ করা হবে না। ঈদের আনন্দ তারা উপভোগ করতে পারবেন না। কারণ বাঁধের ওপরে বসবাসকারীদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। আর যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় তারা ঈদের সেমাই-মাংস কি করে জোগার করবেন। এছাড়া এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা মাছের ওপর নির্ভরশীল। সাগরে মাছ না থাকায় এ বছর ঈদের আনন্দ তো দূরের কথা তাদের দিন কাটছে অর্ধাহারে-অনাহারে।

বাঁধের ওপরের বাসিন্দা আব্বাস মিয়া বলেন, ‘জাল-টাল সব উঠাইয়া রাখছি। এহন ইউনিয়ন কাউন্সিলর (ইউনিয়ন পরিষদ) মেম্বর-চেয়ারম্যান ৩০ কেজি চাল দেবে হেইয়্যা আনতে যামু। ঘরে চাল নাই, পোলা-মাইয়া ও বউরে হউর (শ্বশুর) বাড়ি পাডাইয়া দিছি। ’

সিডর বিধ্বস্ত উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেনি। সিডরের পর থেকেই জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে এ অঞ্চলে মাছের অভাব দেখা দিয়েছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া নিজেদের (বাসিন্দাদের) অনেকটা গাফিলতির কারণেও স্বাভাবিক জীবন-যাপন ব্যাহত হচ্ছে তাদের। বরাবরের মতো এ বছরও উপকূলের মানুষের ঘরে ঈদের আনন্দ থাকবে না।

বাংলাদেশ সময়: ১১২৯ ঘণ্টা, জুন ২৮, ২০১৬
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa