জলের কলতানে ছড়ার বুকে প্রাণ

1544 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
শ্রীমঙ্গল: দূর পাহাড় থেকে নেমে আসা এ যেন জলের কলতান। আপন সুরে মুখরিত প্রকৃতির চারপাশ। যে ছড়াগুলো কিছুদিন আগেও মরে যেতে বসেছিল আজ তা ফিরে পেয়েছে নতুন প্রাণ। বর্ষার নবধারায় প্রাণের স্পন্দন জেগেছে প্রতিটি পাহাড়ি ছড়ার বুকে।

শ্রীমঙ্গল: দূর পাহাড় থেকে নেমে আসা এ যেন জলের কলতান। আপন সুরে মুখরিত প্রকৃতির চারপাশ। যে ছড়াগুলো কিছুদিন আগেও মরে যেতে বসেছিল আজ তা ফিরে পেয়েছে নতুন প্রাণ। বর্ষার নবধারায় প্রাণের স্পন্দন জেগেছে প্রতিটি পাহাড়ি ছড়ার বুকে।

সন্ধ্যে নামার পূর্ব মুহূর্তে ভূরভূরিয়াছড়ার বালির স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তার কলকল ধ্বনিতে ছুঁয়ে গেল মন। আকাশের বুক চিরে নেমে আসা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির নির্মল পরশ যেন হঠাৎই নবজাগরণের গান শোনায় প্রতিটি ছড়ার কানে কানে।
1_1_
এমন অশান্ত বর্ষণ ছড়ার দীর্ঘদিনের আড়ষ্টতা, জীর্ণতাকে মুছে ফেলে নতুনভাবে প্রাণদান করেছে। জলধারার কলস্বরে নেমে আসে বর্ষা প্রকৃতির গভীর গোপন সজীবতা। চারদিকে স্বচ্ছ জলধারার বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। প্রকৃতির এই অদ্ভুত সৌন্দর্যে মিলিয়ে যেতে মন আকুল হয় বারবার। এখানকার চা বাগানঘেরা প্রকৃতি বর্ষায় যেন তার শ্রেষ্ঠত্বকে খুঁজে পায় নতুনভাবে। সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যে কিংবা রাত বৃষ্টিধারায় সে নতুন সৌন্দর্যে নিজেকে মেলে ধরে।
2_2
শান্তি-সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে এখানে ঝিরঝির-শিরশির ছন্দে অবিরাম বইছে অসংখ্য ছড়া। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আসা এ ছড়াগুলো পাহাড়ি মানুষদের হাসি-কান্না, হতাশা-বঞ্চনা, দুঃখ-দরিদ্রতার নানা কথা নীরবে দূর থেকে বয়ে নিয়ে এসেছে। সবুজ পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে কলকল শব্দে বয়ে গেছে অসংখ্য পাহাড়ি ছড়া। কোনো কোনোটি আবার পাহাড় ডিঙিয়ে নিচে নেমে আসার ঝিরঝির শব্দে বিভোর। দূর থেকে ভেসে আসে পানির মৃদু শব্দ।

শুকনো মৌসুমে রাজনৈতিক মদদপুষ্ট বালুখেকোদের ক্রমাগত দৌরাত্ম্য শ্রীমঙ্গলের অসংখ্য পাহাড়ি ছড়াগুলোকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। জরাজীর্ণ হয়ে যে অবশিষ্ট ছড়াগুলো কোনোমতে বেঁচে আছে সেখানেও পয়‍ঃনিষ্কাশনসহ বিভিন্ন কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার। ফলে এই সড়ক জলধারা বা ছড়াকে ঘিরে বেঁচে থাকা ছোট ছোট প্রাণীগুলোও বিপন্ন। ক্রমান্বয়ে ধ্বংস হতে চলেছে শ্রীমঙ্গলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ।
3_13_1
টানা বৃষ্টির ফলে থৈ থৈ পানিতে বিস্তীর্ণ জনপদ জলাশয়ে প্লাবিত হলেও কিছু সময় পর তা অদৃশ্য হয়ে যায়। উজানে পাহাড়ি ঢল দ্রুত নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে পতিত হয় হাইল-হাওরে। এখানেই অবস্থিত মৎস্য-অভয়ারণ্য বাইক্কা বিল। হাইল হাওরটি শুকনো মৌসুমে চার হাজার হেক্টর হলেও বর্ষার সময়ে প্রায় পনের হাজার হেক্টর এলাকায় বিস্তৃত হয়ে পড়ে। এক দশক আগেও প্রায় শতাধিক পাহাড়ি ছড়া গিয়ে হাইল হাওরে পতিত হলেও বর্তমানে পঁচিশ-ত্রিশটি ছড়া জীবিত।

অসংখ্য টিলা বা পাহাড়ি এলাকার গা ঘেঁষে এগিয়ে চলা এ ছড়াগুলোই বেঁচে থাকুক প্রাণের উৎস হয়ে। প্রকৃতির বুকে তার সচল জলধারা প্রাণদান করুক সমতল ভূমির প্রতিটি ছোট-বড় উদ্ভিদ ও নানা প্রাণীকূলকে। এই জলসম্ভারকে কেন্দ্র করেই কৃষণ হাসুক বিষণ্নতা দূরের হাসি। পাহাড়ি ছড়া বারবার কৃতজ্ঞতাময় হোক আষাঢ়ের ঢল বা শ্রাবণ-প্লাবনের কাছে। তার নিজস্ব কলকল ধ্বনি সেই কৃতজ্ঞতাবোধকে সুরের সাথে যেন এভাবেই জানান দিচ্ছে। 

বাংলাদেশ সময়: ১২৩০ ঘণ্টা, জুন ২৮, ২০১৪

রেলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তাকে বদলি
পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ারকারে আগুন
ঢাকা-সিলেট ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
৯ ঘণ্টা পর কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু
ত্রিপুরা-আসামে এখনই সিএএ চালু না করার নির্দেশ আদালতের


শেষ রক্ষা হলো না অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের
কমছে সবজির দাম
স্বস্তিতে সবজি, চড়া মাছ-মসলা-চালের বাজার
শীতেও মিলছে ইলিশ, ফিরেছে ২০ বছর আগের হারানো মৌসুম
ছোটপর্দায় আজকের খেলা