শ্রীমঙ্গলের নাহারপুঞ্জি: প্রশ্ন যখন বেঁচে থাকার

10569 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
পাহাড়ের ঘ্রাণ, মাটির পরশ আর পানের চুম্বন তাদের শরীরের প্রতিটি অংশে যেন মাখা। অশান্ত বর্ষণ কিংবা রৌদ্র প্রখরতা অথবা কুয়াশার চাদর সবই যেন তাদের নিজস্ব জীবনের একেকটি মহাকাব্য। বুনোপথের বাঁকে বাঁকে নৈসর্গিক শোভা সেই কাহিনীকেই যেন সযত্নে লালন করছে।

শ্রীমঙ্গল: পাহাড়ের ঘ্রাণ, মাটির পরশ আর পানের চুম্বন তাদের শরীরের প্রতিটি অংশে যেন মাখা। অশান্ত বর্ষণ কিংবা রৌদ্র প্রখরতা অথবা কুয়াশার চাদর সবই যেন তাদের নিজস্ব জীবনের একেকটি মহাকাব্য। বুনোপথের বাঁকে বাঁকে নৈসর্গিক শোভা সেই কাহিনীকেই যেন সযত্নে লালন করছে।

এভাবেই পাহাড়ি আদিবাসীদের জীবন, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির মধ্যে গড়েছে অমলিন সেতুবন্ধন। নাহারপুঞ্জির শেল তালাং নামক যুবকের কণ্ঠ থেকে বড় আশ্চর্যভাবেই বেরিয়ে আসে- ‘আমাদের কী মানুষের মত বাঁচার অধিকার নেই?’

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার এক নম্বর নাহারপুঞ্জির (আসলমপুঞ্জি) আদিবাসীরা বর্তমানে অবরুদ্ধ। চরম উৎকণ্ঠা আর নিরাপত্তাহীনতায় কাটছে তাদের দিন। শুক্রবার দুপুরে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে নাহার চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে বসবাসরত খাসিয়াদের তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উভয়পক্ষের প্রায় জনাবিশেক লোক আহত হন। এরপর থেকে বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। ওই রাস্তা দিয়ে পুঞ্জির লোকজনকে চলাচলে বাধা দিতে থাকে। এতে করে খাসিয়ারা তাদের প্রধান বিক্রয়পণ্য পান ও লেবু শ্রীমঙ্গল বাজারে এনে বিক্রি করতে ব্যর্থ হন। আটকা পড়া পানগুলো পচে যেতে থাকে।



রোববার দুপুর ১২টায় সরেজমিনে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল নাহারপুঞ্জিতে গিয়ে দেখা গেল, খাসিয়া আদিবাসীদের আতঙ্ক কাটছে না কিছুতেই। তাদের চোখে-মুখে হতাশা ও উৎকণ্ঠার ছাপ। দু’দিন (শুক্র ও শনিবার) ধরে নাহারপুঞ্জিতে বন্ধ রয়েছে পান উত্তোলন ও বিক্রি। দ্রুত বাজারজাত না করার ফলে পানের ডাঁটা ও পাতায় পচন ধরতে শুরু করেছে। লেবু হলুদ হয়ে পড়েছে।

৩৪টি পরিবারের প্রায় তিনশো লোকের বসবাস এই পুঞ্জিতে। নাহার চা বাগানের উত্তরে নিরালা পানপুঞ্জি, দক্ষিণে লাংলিয়াছড়া, পূর্বে ভারতীয় সীমানা এবং পশ্চিমে হরিণছড়া চা বাগান। প্রায় দুশো একর জায়গা নিয়ে নাহারপুঞ্জি অবস্থিত।



নাহারপুঞ্জির সহকারী পুঞ্জিপ্রধান (হেডম্যান) ডিবারমিন পতাং বলেন, ঘটনার পর থেকে বাগান কর্তৃপক্ষ আমাদের একমাত্র রাস্তাটি ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। ফলে পান, লেবু আমাদের কাচামালগুলো পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা। আমাদের এখান থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

শেল তালাং বলেন, প্রায়ই বাগান কর্তৃপক্ষ এভাবে আমাদের ভিটে-মাটি জোর করে কেড়ে নিতে চায়। আমরা কোথায় যাবো? কার কাছে যাবো? আমাদের কী মানুষের মত বাঁচার অধিকার নেই?

আদিবাসী নারী লসমি তারিয়াং বলেন, প্রতিদিন পুঞ্জিতে আমাদের ৭০ থেকে ৮০ টুকরি পান বিক্রয় করা হয়। ১৪৪টি পানে এক কান্তা এবং বিশ কান্তায় এক টুকরি। পান বিক্রি না করতে পারার ফলে আমরা আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছি। আমরা খাবো কি? মজুদ খাদ্যও ফুরিয়ে যাচ্ছে।



আন্তপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন কুবরাজের সাধারণ সম্পাদক ও আদিবাসী নেত্রী ফ্লোলা বাবলি তালাং অভিযোগ করে বলেন, শনিবার ‌আমরা নাহারপুঞ্জিতে গিয়ে চা শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ি। ৮/১০ চা শ্রমিক এসে আমাদের গাড়ির গতিরোধ করে আমাদের হুমকি দেয়। 

চা বাগানে গাড়ি আটকানোর সত্যতা পাওয়া গেল ফেরত আসার সময়। বাগানের প্রহরী বীরেন্দ্র রাজভল্লব আমাদের গাড়ি দেখে দৌঁড়ে এসে গাড়ি থামিয়ে জানান, ওসি সাহেবের নির্দেশ আছে এ রাস্তা দিয়ে কোনো গাড়ি যাবে না। 

ঘটনাস্থলে বা এর আশেপাশে অথবা রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পুলিশের প্রহরার কথা থাকলেও তাদের দেখা যায়নি সেখানে। পুলিশদের গিয়ে পাওয়া গেল রুমের অভ্যন্তরে। তারা বেশ আরাম-আয়েশে সময় কাটাচ্ছেন নাহার চা বাগানের বাংলোতে।



বাঙলোতে পুলিশদের বিশ্রামযাপনের বিষয়টি জানতে চাইলে নাহার চা বাগানের ব্যবস্থাপক পীষুষ কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, পুলিশ তো আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। উনারা আমাদের বাংলোতে থাকছেন।

তিনি আরও বলেন, নাহার চা বাগানের মোট আয়তন আটশো ৬৪ দশমিক ৮৫ একর। ২০১০ সালে খাসিয়াদের এ জাগয়া তাদের পুঞ্জিপ্রধান জাবেদা ইসলাম নাহার চা বাগানকে ফেরত দিয়েছেন। খাসিয়ারা যে জায়গা দখল করে আছে সেটি বাগানের জায়গা।

গাড়ি আটকানোর নির্দেশ প্রদান সম্পর্কে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল জলিল বলেন, আমি কোনো প্রহরীকে গাড়ি আটকানোর কথা বলিনি।

পুলিশদের বাংলোতে অবস্থান সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, পুলিশরা বাংলোতে থাকছে বিশ্রামের জন্য। এখন আপনি যেটা ভালো মনে করেন লিখেন দিয়েন।



এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশফাকুল হক চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, আমি বাগান কর্তৃপক্ষকে বলে এসেছি খাসিয়াদের যাতায়াতে কোনোপ্রকার বাধার সৃষ্টি যেন না করা হয়।

ঘড়ির কাটা তখন বিকেল তিনটা। ফেরার পালা। ছোট ছোট শিশুদের ওই নিষ্পাপ হাসিমুখ, দলগত অবাক চাহনি মনের কোণে দাগ কাটে রইল। রাষ্ট্র কী তবে এসব পাহাড়ি শিশুদের নির্ভাবনা হাসির মুহূর্তটুকু অটুট রাখতে পারবে? পারবে কী মৌলিক অধিকারের সার্থকতা দিতে?

বাংলাদেশ সময়: ০১২২ ঘণ্টা, জুন ০৩, ২০১৪

রেলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তাকে বদলি
পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ারকারে আগুন
ঢাকা-সিলেট ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
৯ ঘণ্টা পর কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু
ত্রিপুরা-আসামে এখনই সিএএ চালু না করার নির্দেশ আদালতের


শেষ রক্ষা হলো না অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের
কমছে সবজির দাম
স্বস্তিতে সবজি, চড়া মাছ-মসলা-চালের বাজার
শীতেও মিলছে ইলিশ, ফিরেছে ২০ বছর আগের হারানো মৌসুম
ছোটপর্দায় আজকের খেলা