মানচিত্রে ছোট হয়ে আসছে দহগ্রাম!

837 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে দিন দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়ন।

দহগ্রাম, পাটগ্রাম, (লালমনিরহাট) থেকে: বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে দিন দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়ন।

প্রতিনিয়ত তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম। নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে, মানুষের বসত-বাড়িসহ আবাদি জমি।

ইতোমধ্যে, এ ইউনিয়নের মহিমপাড়া এলাকার অনেক কৃষকেরই আবাদি জমি চলে গেছে তিস্তার গর্ভে। সেই সঙ্গে অনেকের বসতভিটাও চলে গেছে ওই নদীতে।

এদিকে, সামনে বর্ষা মৌসুম। তা নিয়ে আবারও মহাচিন্তায় পড়েছেন এ গ্রামের সাধারণ মানুষ।
 
সরেজমিন নদী ভাঙনকবলিত মহিমপাড়া গ্রামে দেখা যায়, নদীর দিকে তাকিয়ে বসে আছেন স্থানীয় কয়েকজন  তরুণ। এদের মধ্যে মমিনুল ইসলাম নামে এক কৃষকের সঙ্গে কথা হয়।

বাংলানিউজকে তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর আগের কথা। এখন বর্তমানে নদীর যে মাঝখান রয়েছে, ওইখানটা এখন ‘কাদেরের চর’ নামে পরিচিত। সেখানে এক সময় আমাদের বাড়ি-ঘর ছিল। সেখানে প্রায় ৪৫টি পরিবার নিয়ে গড়ে উঠেছিল আমাদের গ্রাম।

ওখানে বাড়ির পাশেই আমাদের প্রায় চার বিঘা আবাদি জমি ছিল। ওই জমিগুলোতে বেশ ভালোই আবাদ হচ্ছিল। খুব সুখের সংসার ছিল আমাদের। গ্রামের সবাই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলাম আমরা।

কিন্তু হঠাৎ একদিন তিস্তায় পানি বেড়ে যায়। ভাঙতে শুরু করে নদীর পাড়। এক সময় ভাঙতে ভাঙতে আমাদের গ্রাম পর্যন্ত চলে আসে নদীর ভাঙন। চোখের সামনেই একদিন নদী বিলীন হয়ে গেল আমাদের ঘরবাড়ি।

তিনি বলেন, একইভাবে নদীগর্ভে চলে যায় আমাদের গ্রামের সব বাড়িঘর। সেই সঙ্গে নদীতে চলে যায়, গ্রামের সব আবাদি জমিও।

মমিনুল আরো বলেন, সেখান থেকে আমরা কোনোমতে বেঁচে নদীর আধা কিলোমিটার দূরে বর্তমানে মহিমপাড়া গ্রামে বসবাস শুরু করি। তারপরও বর্তমানে ভাঙন এসে ঠেকেছে মহিমপাড়া পর্যন্ত। আবারও ভাঙনের কবলে পড়েছি আমরা।

তিনি অনেক দুঃখভারাক্রান্ত মনে বলেন, কেন যে ভাঙন আমাদের পিছু ছাড়ছে না! আমরা কি ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবো না!

মমিনুল বলেন, সব কিছু হারিয়ে আমরা এখন নিঃস্ব। আমাদের গ্রামের সবাই এখন অন্যের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কাজ করেন। অথচ এক সময় নিজের জমিতে কাজ করতাম আমরা।

একই অবস্থা ওই গ্রামের দিলদার হোসেনেরও। তারও এক সময় সব কিছু ছিল। কিন্তু এখন তিনি নিঃস্ব। আর কিছুই নেই তার। তখন তার আবাদি জমি ছিল প্রায় তিন বিঘা। খুব সুখেই দিন যাপন করতেন দিলদার। কিন্তু, এখন সব সময় চিন্তায় মগ্ন থাকেন তিনি। কী করবেন, কীভাবে সংসার চালাবেন, পরিবার পরিজনদের মুখে হাসি ফুটাতে পারবে তো! এই চিন্তা শেষ করে দিচ্ছে দিলদারকে।

তার দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তাদের নিয়ে ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেছিলেন দিলদার। কিন্তু, নদী ভাঙণের সঙ্গে সঙ্গে তার সেই স্বপ্নও ভেঙে গেছে।

অন্যদিকে, নদী ভাঙন রোধে কিছুদিন আগেই মাত্র দুইশ মিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু, রক্ষা পেয়েছে, শুধু ওই দুইশ কিলোমিটার এলাকা। কিন্তু আবারও নতুন করে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে পাশের পাড়ে। প্রতিদিন পাড় ভেঙে চলে যাচ্ছে তিস্তায়। এই আতঙ্কে বর্তমানে ঘুমাতে পারছেন না এ এলাকার মানুষ। কখন যে এই এলাকা চলে যাবে নদীতে, এই চিন্তায় কাটছে তাদের সময়।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল হক বাংলানিউজকে বলেন, ভাঙনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তাছাড়া আমি নিজেও ওই ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। আশা করছি, দ্রুত ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

বাংলাদেশ সময়: ০৪০৮ঘণ্টা, মে ২৭, ২০১৪

রূপগঞ্জে চার প্রতিষ্ঠানে অবৈধ গাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন
অবৈধ বালু উত্তোলন: ড্রেজার মেশিন ধ্বংস-জরিমানা
পুলিশের ভুলে একদিন জেল খাটলেন নিরাপরাধ মিজান
মধুপুরে থাই রাষ্ট্রদূতের কৃষি খামার পরিদর্শন
কুষ্টিয়ায় যুবককে কুপিয়ে-পায়ের রগ কেটে হত্যা


ভৈরবে মাদকদ্রব্য অফিসে আগুনের ঘটনায় মামলা 
৯৯৯ ফোন করে বখাটের হাত থেকে রক্ষা পেলো স্কুলছাত্রী
নায়করাজের ৭৯তম জন্মদিন বৃহস্পতিবার
চার কারণে ভোটের নিরাপত্তায় চিন্তার ভাঁজ
রাজাপুরে উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ আটক ২