ব্যাঙের নতুন দুই প্রজাতির সন্ধান

355 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
প্রকৃতিবান্ধব নিরীহ প্রাণী ব্যাঙ। একদিকে যেমন ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে তেমনি প্রকৃতির জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় তার জুড়ি নেই। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাসও দেয়। অনেক জীবজন্তুর মতো এই মানুষবান্ধব প্রাণীর অনেক প্রজাতিই আজ বিলুপ্তির পথে।

প্রকৃতিবান্ধব নিরীহ প্রাণী ব্যাঙ। একদিকে যেমন ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে তেমনি প্রকৃতির জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় তার জুড়ি নেই। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাসও দেয়। অনেক জীবজন্তুর মতো এই মানুষবান্ধব প্রাণীর অনেক প্রজাতিই আজ বিলুপ্তির পথে।

দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য ব্যাঙ-গবেষণা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে ঊনচল্লিশটি প্রজাতির উভচর প্রাণীর মধ্যে ব্যাঙ রয়েছে প্রায় সাতচল্লিশ প্রজাতির।
আশার কথা, বাংলাদেশের উভচরপ্রাণীর তালিকায় যোগ হলো ‘মাইক্রোহিলা মোখলেসুরি’ এবং ‘মাইক্রোহিলা মাইমেনসিংহেসিস’ নামের দু’টি ব্যাঙ। প্রথমটির নামকরণ করা হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের প্রয়াত অধ্যাপক ড. মো. মোখলেসুর রহমানের নামের প্রতি সম্মান জানিয়ে। তিনিই বাকৃবি এবং হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি ‘যৌথ গবেষণা’ চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। যার ফলে বাংলাদেশের অবহেলিত আম্ফিবিয়া ধীরে ধীরে বিশ্ব হারপেটোলজিস্টদের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছে। বাকৃবি ক্যম্পাসে ব্যাঙটিকে সর্বপ্রথম পাওয়া গেছে বলে দ্বিতীয়টির নামকরণ হয়েছে ময়মনসিংহের নামানুসারে।

এই নতুন দুই প্রজাতি আবিষ্কারক জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী মো. মাহমুদুল হাছান। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে স্নাতক শেষ করে ২০০৬ সালে ব্যাঙ নিয়ে গবষেণা শুরু করেন তরুণ এ বিজ্ঞানী। বাকৃবির প্রয়াত শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. মোখলেছুর রহমান খানের অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশে পাওয়া অজানা প্রজাতির ব্যাঙ নিয়ে গবেষণার জন্য যান জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে এম্পিবিয়ান বায়োলোজিতে প্রায় ৭ বছর নিরলস গবেষণার পর তার কাছে এই সফলতা ধরা দেয়।

বিজ্ঞানী মাহমুদুল হাছান জানান, ব্যাঙের ডাক ও ডিএনএ বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই প্রজাতি দু’টির শনাক্তকরণ হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি নিয়ে ব্যাঙগুলোর পায়ের নখের নমুনা জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে বিশ্লেষণ করে এদের জাত নির্ধারণ করা হয়েছে। অনেক ব্যাঙ আছে, যেগুলো দেখতে একই রকমের হলেও তারা ভিন্ন প্রজাতির। একমাত্র ডিএনএ ও ডাক বিশ্লেষণ করেই এই প্রজাতিগুলোর বৈশিষ্ট্য বোঝা যায়।
দেশে একটি ‘ব্যাঙ-গবেষণাগার’ তৈরি করার পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় ব্যাঙ প্রজাতিগুলোকে যথাযথভাবে সংরক্ষণের দাবিও জানান তিনি।

‘মাইক্রোহিলা মোখলেসুরি’ ব্যাঙটি বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলসহ রাউজান ও চট্টগ্রাম এলাকায় পাওয়া যায়। একে তার সহোদর থেকে আলাদা করে চেনার উপায় হলো- এটির আঙুলের অগ্রভাগ স্ফীত নয়। একটি উল্টো “ট” চিহ্ন পায়ুর ঠিক ওপরে আছে। তাছাড়া দেহের পিঠের ওপরে রয়েছে “ঢ” আকৃতির দাগ। ‘মাইক্রোহিলা মাইমেনসিংহেসিস’ ব্যাঙটিকে মধ্য ও মধ্য-পূর্বাঞ্চলসহ ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জ এলাকায় পাওয়া যায়। এদের পেছনের পা অনেক লম্বা বলে এরা বহুদূর পর্যন্ত দ্রুত লাফ দিতে সক্ষম। পায়ুর ওপরে অর্ধচন্দ্রাকৃতির একটি দাগও রয়েছে।

মাহমুদুল হাছান বর্তমানে গবেষক হিসেবে হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাঙ নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি তার নিরলস গবেষণায় আমাদের দেশের সুনাম ও মর্যাদাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন পৃথিবীময়। চলতি বছর আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য বিষয়ক স্বনামধন্য জার্নাল জুয়োলজিক্যাল সায়েন্স ও জুটেক্সা এই দুই প্রজাতির ব্যাঙ নিয়ে ইতোমধ্যে গবেষণা প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান প্রকাশনা ইনোভেশও এর প্রচ্ছদ প্রতিবেদন গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হয়।

পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য পাতায় লেখা পাঠান এই মেইলে: [email protected]

বাংলাদেশ সময়: ০৬০৬ ঘণ্টা, মে ২৫, ২০১৪

টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
আশুলিয়ায় বাসচাপায় নির্মাণ শ্রমিক নিহত
সেরেনার হতাশাজনক বিদায়, চতুর্থ রাউন্ডে শীর্ষ বাছাই বার্টি 
রাতের আঁধারে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে কীর্তনখোলায়
ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, বাড়ছে দুর্ঘটনা


বাহুবলে বাস উল্টে ৩ জন নিহত
ড্রেজার মেশিন বিকল, বরিশাল নদীবন্দর এলাকায় খনন বন্ধ
দেউলিয়া আ’লীগ বিএন‌পির বিজয় বাধাগ্রস্ত করতে চায়: ফখরুল
শতভাগ দেশি কর্মীর হাতে তৈরি সিম্ফনি মোবাইল, লক্ষ্য রফতানি
লবণ যেভাবে রক্তচাপ বাড়ায়