শ্রীমঙ্গলে পাহাড় কাটা-১

কেউ শোনে না পাহাড়ের কান্না

328 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
একটি পাহাড় জীববৈচিত্র্যের আলাদা একটি পৃথিবী। নানা প্রজাতির গাছগাছালি, লতাগুল্ম আর পাখপাখালিসহ ছোটবড় প্রাণীদের আবাসস্থল। পাহাড় বা টিলার ছোটবড় প্রকারভেদে এসব উদ্ভিদ ও প্রাণীর উপস্থিতি নির্ভর করে।

শ্রীমঙ্গল থেকে: একটি পাহাড় জীববৈচিত্র্যের আলাদা একটি পৃথিবী। নানা প্রজাতির গাছগাছালি, লতাগুল্ম আর পাখপাখালিসহ ছোটবড় প্রাণীদের আবাসস্থল। পাহাড় বা টিলার ছোটবড় প্রকারভেদে এসব উদ্ভিদ ও প্রাণীর উপস্থিতি নির্ভর করে। তারা এখানে বিচরণ করে ছোট থেকে বড় হয়। একসময় পরবর্তী বংশধর রেখে বিদায় নেই পৃথিবী থেকে। এভাবেই জীববৈচিত্র্য নিজে টিকে থেকে বাঁচিয়ে রাখে আমাদের পৃথিবীকে।

পাহাড় কাটার ফলে ধ্বংস হয়ে যায় জীববৈচিত্র্য। ধ্বংস হয়ে যায় প্রাণের উপস্থিতি। পাহাড় কাটার খবর পাওয়া মাত্রই প্রকৃতির ধ্বংসলীলার কথা মনে পড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গেই ছুটলাম ঘটনাস্থলের দিকে। আশীদ্রোন ইউনিয়ন পরিষদের মহাজিরাবাদ পশ্চিমপাড়া এলাকায় গিয়ে পৌঁছলাম প্রায় দুপুর ১২টায়। আমার সঙ্গে রয়েছেন নিসর্গপ্রেমী ও পরিবেশবাদী সালাহ উদ্দিন আহমেদ।

দেখলাম পাহাড়ের পেছনের অংশটি কেটে রাস্তা তৈরি করছেন ৭/৮ শ্রমিক। পুরো পাহাড়টির গাছগাছালি পরিষ্কার করে আগুন দিয়ে আবর্জনাগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। কর্মরত শ্রমিকদের একজন হৃদয় মিয়া। কথা হলো তার সঙ্গে।

তিনি জানান, প্রায় ১৫-২০ দিন ধরে তারা শফিক মিয়ার নেতৃত্বে এই কাজ করছেন। এখানে একটি রিসোর্ট নির্মাণ করার কথা শুনেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এলাকাবাসী আমাকে জানান।

পাহাড়ের উঁচু টিলা বেয়ে নেমে পাহাড়ের তত্ত্বাবধানে থাকা শফিক মিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, প্রায় ৮ একর জায়গার এ পাহাড়টি ছিল শ্রীমঙ্গলের পারভীন ডাক্তারের বাবার। তিনি মারা যাওয়ার পর জায়গাটি এ বছর কিনে নেন দীপন ইনফাসট্রাকচার নামে ঢাকার একটি আবাসন কোম্পানি। ওই কোম্পানি আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে পাহাড়টি পরিষ্কার করে রাস্তা তৈরি করতে।

মোবাইল ফোনে দীপন ইনফাসট্রাকচার কোম্পানি লিমিটেডের লিগ্যাল এডভাইজার রথীন্দ্রনাথ সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‌এখানের আগাছাগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে লেবু বাগান করা হবে বলে।‌ সামান্য মাটি কেটে রাস্তার তৈরি করা হচ্ছে।

পাহাড় কাটার বিষয়টি তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করে নিজেকে পরিবেশবাদী বলেও দাবি করতে থাকেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশফাকুল হক চৌধুরী বলেন, এটি সরকারি জাগয়া হলে এ ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নিতাম। তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গেযোগাযোগের পরামর্শ দেন।

পরিবেশবাদী সংগঠন পাহাড় রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি মো. সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন,  শ্রীমঙ্গলে আগে এভাবে পাহাড়-টিলা কাটা হতো না। একটি বেসরকারি পাঁচতারকা আবাসন গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ এসে প্রথম পরিবেশ ধ্বংস করে বিলাসবহুল আবাসন নির্মাণ করে। এরপর থেকে তাদের দেখাদেখি অনেকেই পাহাড়-টিলা কেটে রিসোর্ট, গেস্ট হাউজ এগুলো নির্মাণ করছে। এগুলো বন্ধের ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ সময়: ০৩৪০ ঘণ্টা, মে ২২, ২০১৪

পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ারকারে আগুন
ঢাকা-সিলেট ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
৯ ঘণ্টা পর কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু
ত্রিপুরা-আসামে এখনই সিএএ চালু না করার নির্দেশ আদালতের
শেষ রক্ষা হলো না অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের


কমছে সবজির দাম
স্বস্তিতে সবজি, চড়া মাছ-মসলা-চালের বাজার
শীতেও মিলছে ইলিশ, ফিরেছে ২০ বছর আগের হারানো মৌসুম
ছোটপর্দায় আজকের খেলা
আমন-আউশের মধ্যবর্তী সময়ে সরিষা চাষে কৃষকের বাড়তি আয়