ঢাকার পাখি-১

বেঁচে থাকুক ঢাকার কোকিলেরা

727 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
কোকিলের কণ্ঠ যে বেশ শ্রুতিমধুর তা স্বীকার করেন সবাই। শীত থাকতেই বসন্তের এই অধৈর্য দূতের ডাকাডাকি শুরু হয়। আর একেবারে বর্ষার শেষ পর্যন্ত সরব থাকে সে।

কোকিলের কণ্ঠ যে বেশ শ্রুতিমধুর তা স্বীকার করেন সবাই। শীত থাকতেই বসন্তের এই অধৈর্য দূতের ডাকাডাকি শুরু হয়। আর একেবারে বর্ষার শেষ পর্যন্ত সরব থাকে সে।

এ পাখিটির পক্ষে অনেক ভালো ভালো কথা বলা যায়। মানুষের কাজে পাখিটি কখনও বাগড়া দেয় না। এ পাখি কারও খেতের ফসল খায় না, সাবাড় করে না কারও বাগানের ফল। আমাদের দৃষ্টির আড়ালে থাকতেই এরা পছন্দ করে। কাকের মতো গায়ে পড়ে মানুষের সাথে ভাব করতে আসে না। এক গাছ থেকে অন্য গাছে উড়ে যাওয়ার সময় কোকিলের তাড়াহুড়ো দেখলে বোঝা যায়, দর্শন দিতে এর কত অনীহা। কাক, চিল আর শালিকের মতো মানুষের সামনে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরার কথা পাখিটি চিন্তাও করে না। 

কাক আর শালিকের মতো শহুরে পাখিরা সর্বভুক। আমাদের উচ্ছিষ্ট খেয়ে এরা বেঁচে থাকে। কিন্তু, কোকিল মূলত ফলাহারী। তবে এ পাখিকে কালেভদ্রে দু’একটা শুঁয়োপোকা ভোজন করতে দেখা গেছে। ওই পদস্খলনটুকু বাদ দিলে এদের শুদ্ধ নিরামিষাশী বলা যায়। আহারে, আচরণে কাক আর কোকিলের মধ্যে কোনো মিল নেই। তবু, কাকের বাসাতেই অধিকাংশ কোকিলের জন্ম। বাসা বেঁধে, ডিমে ‘তা’ দিয়ে, বাচ্চা পালতে রাজি নয় কোনো কোকিল। কোকিল ডিম পাড়ে কাকের বাসায়, কখনো বা শালিকের বাসায়। কাক ও শালিকই পালক মা-বাবা হয়ে কোকিলের ডিমে ‘তা’ দেয় ও ছানা পালে। বিনিময়ে পালক মা-বাবারা হয়তো শিশু-পালনের নির্মল আনন্দটুকু পায়। এটা করতে যেয়ে নিজ-বংশ রক্ষার কাজটা কিন্তু এদের ব্যাহত হয় না। হলে তো পৃথিবী থেকে কাকের বংশ কবেই ধ্বংস হয়ে যেত; এবং সেই সাথে ধ্বংস হতো কোকিলের বংশও।

কাক ও শালিকের মতো ছাপোষা পাখিদের পুরুষ ও স্ত্রীর চেহারায় কোনো তফাত নাই। কিন্তু পুরুষ আর স্ত্রী-কোকিলের রঙে অনেক পার্থক্য। শিশুকালেও সে পার্থক্যগুলো থাকে। একটি কাকের বাসায় তাই তিন রঙের ছানা থাকতে পারে- হালকা-কালো কাক, ব্লু-ব্ল্যাক পুরুষ-কোকিল আর ডোরা-কাটা স্ত্রী-কোকিল। কাক-ছানাদের পাশে প্রকাশ্যে বসে, কাকের কুড়ানো ছাইপাশ খেয়ে, তৃপ্তিভরে কা-কা ডেকে কোকিল-ছানাদের শিশুকাল কাটে। তারপর একদিন কি করে যেন কোকিল-ছানা তার আত্ম-পরিচয় আবিষ্কার করে। সেদিনই সে কাকের সংসার ছেড়ে চলে যায় পাতার আড়ালে। শুরু হয় ফলাহার, নিভৃত জীবন আর সংগীত সাধনা।

শিশু-কোকিলের সেই সর্বভুক, সর্বত্রগামী দিনের সঙ্গে বয়‍ঃসন্ধিক্ষণের এই নিরামিষাশী, নিভৃতচারী জীবনের আর কোনো মিল থাকে না।


কোকিল, কোকিলা, কুবো, মালকোহা, কোয়া আর আনি পাখিরা সবাই নিকটাত্মীয়। পৃথিবীতে এমন ১৩৮ জাতের পাখি আছে। আমাদের কোকিলের ভালো নাম ‘এশীয় কোকিল’। এর ইংরেজি নাম Asian Koel এবং বৈজ্ঞানিক নাম Eudynamys scolopacea। ভারতবর্ষের বাইরে মুষ্টিমেয় যে সব দেশে এর দেখা মেলে তা হলো মায়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ফিলিপাইন, নিউগিনি আর সলোমন দ্বীপ। আমাদের এই এশীয় কোকিল ছাড়া পৃথিবীতে আরও পাঁচ জাতের কোকিল আছে। সে পাখিগুলোর নাম অস্ট্রেলীয় কোকিল, ধলাটুপি কোকিল, কালাঠুঁটো কোকিল, বামন কোকিল ও ল্যাঞ্জা কোকিল।


ঢাকা নগরীতে এখনও অনেক কোকিলের ডাক শোনা যায়, যদিও আমাদের এই কংক্রিটের শহরে কোকিলের টিকে থাকার সমস্যা অনেক। কোকিলের প্রিয় বট, পাকুড়, ডুমুর ইত্যাকার ফলদ গাছ ঢাকা নগরীতে নেই বললেই চলে। অগুনতি কাকের বাসাই হয়তো এ নগরীতে কোকিল-কূলের আগমনের প্রধান কারণ। ঢাকার রাস্তায় আবর্জনা যত বাড়ছে কাকের বংশও তত বাড়ছে। আর কাকের বাসা বাড়ছে বলে কোকিলের প্রজননের সুযোগও বাড়ছে। ভয়ংকর এই নগরীতে তাই আমরা আজও কোকিলের ডাকাডাকি শোনার ভাগ্য হয়। দেখতে পাচ্ছি, নগরীর যত্র-তত্র আবর্জনা ফেলার একটা ভালো ফলও আছে। তবে, নগরীর দুর্বল আবর্জনা-ব্যবস্থাপনার এই একটিই মাত্র ভালো ফল হওয়া সম্ভব।

Enam_al_haq

 

ইনাম আল হক: বিশিষ্ট পাখি বিশেষজ্ঞ, প্রকৃতিপ্রেমী। বাংলাদেশের পাখি ও প্রকৃতি রক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য প্রকৃতি ও  জীবন ফাউন্ডেশন-চ্যানেল আই 'প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক-২০১৩' প্রাপ্ত।


বাংলাদেশ সময়: ০৩০০ঘণ্টা, মে ২০, ২০১৪

বিএনপির ভোট করার অভ্যাস নেই: আইনমন্ত্রী 
পিকআপভ্যানের মুরগির খাঁচা থেকে গাঁজা জব্দ, আটক ৩
ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নেমে শাস্তি পেলেন ফিল্যান্ডার
‘নির্দেশ মানতে গিয়ে মার খেতে হয়েছে’
সিলেটে বাসচাপায় বৃদ্ধ নিহত


ওয়ারীতে শ্রমিকদল নেতা গুলিবিদ্ধ
মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা মামলায় ৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ
‘করোনা ভাইরাস রোধে প্রবেশদ্বারে স্ক্যানার বসানো হয়েছে’
‘ধর্ম ব্যবহার করে কেউ যেনো সাম্প্রদায়িকতা না ছড়ায়’
সেরা স্টল বিভাগে পুরস্কার পেল গ্রীন ডেল্টা