নাচের ব্যাঙ খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

214 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: সংগৃহীত

walton
মনের আনন্দ প্রকাশের শারীরিক অভিব্যক্তি নাম নৃত্য বা নাচ। কোনো কোনো প্রাণীদের মধ্যেও এমন প্রকাশভঙ্গি বেশ পুরনো। কিন্তু ব্যাঙ? সে কী নৃত্যশৈলী প্রদর্শনে সক্ষম? ব্যাঙের নৃত্য কেউ কী কখনো দেখেছেন? সাম্প্রতিক গবেষণায় এর উত্তর হলো - ‌হ্যাঁ! ভারতীয় বিজ্ঞানীরা নতুন প্রজাতির নৃত্যপ্রিয় ছোট ছোট ব্যাঙের সন্ধান পেয়েছেন। যারা কেবল প্রকৃতির সুষমায় প্রিয় সঙ্গিনীর দৃষ্টি আকর্ষণে বিশেষ এই নৃত্যকলাটি সেরে ফেলতে সক্ষম।

মনের আনন্দ প্রকাশের শারীরিক অভিব্যক্তি নাম নৃত্য বা নাচ। কোনো কোনো প্রাণীদের মধ্যেও এমন প্রকাশভঙ্গি বেশ পুরনো। কিন্তু ব্যাঙ? সে কী নৃত্যশৈলী প্রদর্শনে সক্ষম? ব্যাঙের নৃত্য কেউ কী কখনো দেখেছেন? সাম্প্রতিক গবেষণায় এর উত্তর হলো - ‌হ্যাঁ! ভারতীয় বিজ্ঞানীরা নতুন প্রজাতির নৃত্যপ্রিয় ছোট ছোট ব্যাঙের সন্ধান পেয়েছেন। যারা কেবল প্রকৃতির সুষমায় প্রিয় সঙ্গিনীর দৃষ্টি আকর্ষণে বিশেষ এই নৃত্যকলাটি সেরে ফেলতে সক্ষম।



বর্ষণমুখর পরিবেশ আর বৃষ্টিময় পাহাড়ি ঢল- ব্যাঙদের জীবনে স্বর্গীয় প্রেমের বার্তা বয়ে আনে। তারা প্রিয়তমাকে কাছে পেতে ভীষণ ব্যাকুল হয়। পুরুষ ব্যাঙের ক্লান্তিহীন ভালোবাসার আহ্বান যখন প্রেয়সীর কানে আর পৌঁছায় না, তখন কোনো উপায় না দেখে, তাদের নজর কাড়তেই তারা এমন প্রেমময় নৃত্যকলার নিপুণ ব্যবহার ঘটায়। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়াতে থাকে। প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে কৌশলী অবস্থানের পর সফলতা। ভালোবাসা ফিরে আসে নৃত্যময় অভিসারের স্বর্গীয় মুহূর্ত হয়ে।



বিজ্ঞানীরা এদের নাম দিয়েছেন ‘ড্যান্সিং ফ্রগ’ বা ‘নাচের ব্যাঙ’। এরকম আশ্চর্য ব্যাঙের খোঁজ পাওয়ার পিছনের মূল কারিগর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সত্যভামা দাস বিজু ও তার চার সতীর্থ। প্রায় ১২ বছর ধরে তারা কের‍ালা, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, গোয়া ও মহারাষ্ট্রর ঘন জঙ্গলগুলি ঘুরে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে এই নতুন ১৪ প্রজাতির  ব্যাঙের এর সন্ধান পেয়েছেন। সম্প্রতি তাদের এই আবিষ্কারের কথা প্রকাশিত হয়েছে একটি বিজ্ঞান পত্রিকায়।



ওই গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, শুধু পুরুষ ব্যাঙেরা প্রজননের সময় নাচের এমন বিশেষ ভঙ্গিমা করে। অনেকটা পায়ের ঝিমুনি ধরার মতো। এই ঝিমুনি ধরার তরঙ্গ বায়ু দ্বারা প্রবাহিত হয়ে স্ত্রী ব্যাঙের কানে গিয়ে পৌঁছায়। তখন সে পুরুষ ব্যাঙটির প্রতি আকৃষ্ট হয়। এই প্রজাতির ব্যাঙেরা বেশ ছোট্ট ও দ্রুত চলাফেরায় অভ্যস্ত হয়। ৮৫ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীর বুকে এই বিরল প্রজাতির বিবর্তন হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। আগে প্রায় ১১টি এমন বিরল প্রজাতির ব্যাঙের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল।



দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সত্যভামা দাশ বিজু জানান, বিশ্বকে নতুন এসব প্রজাতির খবর জানাতে পেরে আমরা উচ্ছ্বসিত। এই প্রথম এত বেশি সংখ্যায় বিরল প্রজাতির ব্যাঙের সন্ধান পাওয়া গেল। বিশ্বের কাছে ভারতের এই গবেষণা একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এসব  ব্যাঙের আবাসস্থল গত ১২ বছরে অনেকটাই শুকিয়ে গেছে। ফলে এরকম অনেক প্রজাতির ব্যাঙ খোঁজ পাওয়ার আগেই পৃথিবী থেকে চিরকালের জন্য বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

এ ধরনের ‘নাচের ব্যাঙ’ মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে পাওয়া যায়। তবে ভারতীয় এই প্রজাতি থেকে সেই ব্যাঙগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণ, বাসস্থানের ক্ষতি, জলবায়ু ও তাপমাত্রার পরিবর্তন, অপরিকল্পিত চাষাবাদ, আক্রমণকারী প্রাণী ও কীট দ্বারা ছড়িয়ে পড়া বহিরাগত রোগ, লোহা ও বক্সাইটের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি প্রভৃতির কারণে বিশেষ করে ব্যাঙ জাতীয় এসব উভচর প্রাণীদের অস্তিত্ব একেবারেই হুমকির মুখে বলে উল্লেখ করা হয়।

সূত্র: ভারতীয় গণমাধ্যম

বাংলাদেশ সময়: ০৯৩৩ ঘণ্টা, মে ১৫, ২০১৪

রেলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তাকে বদলি
পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ারকারে আগুন
ঢাকা-সিলেট ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
৯ ঘণ্টা পর কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু
ত্রিপুরা-আসামে এখনই সিএএ চালু না করার নির্দেশ আদালতের


শেষ রক্ষা হলো না অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের
কমছে সবজির দাম
স্বস্তিতে সবজি, চড়া মাছ-মসলা-চালের বাজার
শীতেও মিলছে ইলিশ, ফিরেছে ২০ বছর আগের হারানো মৌসুম
ছোটপর্দায় আজকের খেলা