সোনালি ডানার শঙ্খচিল

230 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
সকাল হয়েছে মাত্র। আকাশের বুকে তখন ঘনকালো মেঘের উপস্থিতি। চারদিক জুড়ে আলো-আধারের নীরব খেলা। সেই সাথে বইছে তীব্র বাতাসের উচ্ছ্বাস।

সকাল হয়েছে মাত্র। আকাশের বুকে তখন ঘনকালো মেঘের উপস্থিতি। চারদিক জুড়ে আলো-আধারের নীরব খেলা। সেই সাথে বইছে তীব্র বাতাসের উচ্ছ্বাস। হঠাৎ দেখা গেল এক শঙ্খচিল সেই বাতাসের সাথে অদ্ভুত খেলায় মেতেছে। তখনি মনে পড়লো জীবনানন্দ দাশের কথা। রূপের মাধুর্যে বোধহয় কবি শঙ্খচিল হয়ে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন এই রূপসী বাংলার বুকে।

একটু খেলায় করুন না! তাহলেই দেখবেন কোনো শঙ্খচিল হওয়ায় গা ভাসিয়ে নীরবে ঘুরছে আকাশপানে। দেখতে দেখতে একসময় চলে এলো মাথার সোজাসুজি। আপন মনে বাতাসে সোনালি ডানা মেলে ভেসে বেড়াতে থাকালো এদিক-ওদিক। ডানা ঝাপটানো বন্ধ করে তার বড় ডানা দু’টি বাতাসের মধ্যে মেলে ধরলো অনেকক্ষণ। আর বাতাস তাকে যেন ঠেলে ঠেলে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকলো সামনের দিকে। দৃশ্যটির সঙ্গে যেন পূর্ণতা পেল সেদিন সকালের মেঘাচ্ছন্ন প্রকৃতির এমন সৌন্দর্য।


বাংলাদেশের প্রখ্যাত পাখি ও বন্যপ্রাণী গবেষক শরীফ খান শঙ্খচিল প্রসঙ্গে বাংলানিউজকে বলেন, আজ থেকে ত্রিশ-চল্লিশ বছর আগে আমাদের দেশে শঙ্খচিল পর্যাপ্ত সংখ্যায় ছিল। এখন এদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ খাদ্য ও প্রজনন সংকট। এখন আর আগের মতো প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো নেই। নেই পর্যাপ্ত খাবার। যেখানে তারা দলগতভাবে মাছ শিকার করে বেঁচে থাকতে পারে। বড় বড় গাছের সমাহারও এখন নেই। যেখানে তারা নির্বিঘ্নে বাসা তৈরি করে ছানা উৎপাদন করতে পারবে।
 

তিনি বলেন, এদের বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্য হলো- ওরা ওদের ছানার দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য মাঝে মাঝে হাঁস-মুরগির ছোট বাচ্চা ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে যায়। তবে এমনিতে সাধারণত ওরা নিজের খাবার জন্য হাঁস-মুরগি ছানা তুলে নেয় না। গ্রামাঞ্চলের বাড়ির উঠোন থেকে এভাবে চমৎকার ভঙ্গিতে শিকার ধরতে ভীষণ পটু ওরা। মুহূর্তের মধ্যে মুরগির বাচ্চার ডাকগুলো আকাশে মিলিয়ে যেত।


শরীফ খান আরও বলেন, এক সময় আমাদের গ্রামদেশের বিলে বা পুকুরে মাছ ধরা হলে দেখা যেত দলবেঁধে ১৫-২০ শঙ্খচিল এসে ভিড় করতো। খলিসা, পুঁটি, চেলা, মলা, ঢেলা প্রভৃতি প্রাকৃতিক ছোট মাছ, কাঁকড়া, মেটেসাপ এগুলো খেতে নামতো। মানুষের একেবারে নাকের ডগায় এসে ফেলে দেওয়া মাছগুলো ছোঁ মেরে নিয়ে যেতো। এ দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না।

শঙ্খচিল বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি। সর্বত্রই এর দেখা মেলে। এর ইংরেজি নাম Brahminy Kite এবং বৈজ্ঞানিক নাম Haliastur indus। পৃথিবীতে দুই প্রজাতির মধ্যে বাংলাদেশে এই প্রজাতির দেখা মেলে। ছেলে-মেয়ের চেহারা অভিন্ন। এর দৈর্ঘ্য ৪৮ সেমি এবং ওজন ৬০০ গ্রাম। জলাভূমি, ধানক্ষেত, জলাধার, হাওর-বিল, নদী কিংবা আবর্জনার স্তূপ এলাকায় একা বা জোড়ায় অথবা ছোট ছোট দলে ঘুরে বেড়ায়।


শঙ্খচিল মাঝারি আকারের শিকারি পাখি। ধারালো ঠোঁট ও প্রখর নখ রয়েছে। খাদ্য তালিকায় রয়েছে মাছ, কাঁকড়া, ব্যাঙ, টিকটিকি, মুরগিছানা, পাখিরছানা, ধানিইঁদুর প্রভৃতি। ডিসেম্বর-এপ্রিল মাস এদের প্রজনন মৌসুম। বড় গাছে উপর পুরাতন কাপড়, ডালপালা, পাতা বিছিয়ে বাসা বানায়। দুই থেকে চারটি ডিম পাড়ে। ভারত, নেপাল, মালয়েশিয়া, চীন অর্থাৎ এশিয়া মহাদেশে এদের বিচরণ লক্ষ্য করা যায়।

ছবি: পাখি আলোকচিত্রী ও পর্যবেক্ষক কিরণ খান।


বাংলাদেশ সময়: ০১১১ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০১৪

মেহেরপুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
আশুলিয়ায় জুয়া খেলার সময় আটক ৫
অসহায় তিন পরিবারের পাশে ঈশ্বরদীর ইউএনও   
ইউজিসির নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাবিতে সান্ধ্য কোর্স চালু
রূপগঞ্জে চার প্রতিষ্ঠানে অবৈধ গাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন


অবৈধ বালু উত্তোলন: ড্রেজার মেশিন ধ্বংস-জরিমানা
পুলিশের ভুলে একদিন জেল খাটলেন নিরপরাধ মিজান
মধুপুরে থাই রাষ্ট্রদূতের কৃষি খামার পরিদর্শন
কুষ্টিয়ায় যুবককে কুপিয়ে-পায়ের রগ কেটে হত্যা
ভৈরবে মাদকদ্রব্য অফিসে আগুনের ঘটনায় মামলা