টাঙ্গুয়ার হাওরে আরো নজরদারী প্রয়োজন

204 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ডালপালা কাটা করচ গাছের সারি । ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
সোলেমানপুর বাজার থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্দেশ্যে নৌকা ছাড়ার পর নির্জনতা আরো জাঁকিয়ে বসলো। আশপাশে কোনো লোকালয় নেই। থাকার সুযোগও নেই। কারণ বর্ষায় এখানে অথৈ জলের সাগর। হঠাৎ দুচারটি কার্গো লঞ্চের দেখা মেলে।

সোলেমানপুর বাজার থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্দেশ্যে নৌকা ছাড়ার পর নির্জনতা আরো জাঁকিয়ে বসলো। আশপাশে কোনো লোকালয় নেই। থাকার সুযোগও নেই। কারণ বর্ষায় এখানে অথৈ জলের সাগর। হঠাৎ দুচারটি কার্গো লঞ্চের দেখা মেলে। ধীরে ধীরে নৌকা ঢুকলো পাটলাই নদীতে। নদীর পানিও এখানকার নির্জনতার মতোই মায়াবী।
tangua_03
নদীর পাড় ও বিলের ধারে সারিবদ্ধ করচে’র সৌন্দর্য উপমাহীন। হাওর এলাকার এসব হিজল-করচ লাগিয়েছেন হাওরের সাবেক ইজারাদার হাজী জয়নাল আবেদীন। তিনি এখন বেঁচে নেই। এই অঞ্চলে তিনি ওয়াটার লর্ড হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কোথাও কোথাও আছে হিজলের বন। বনের ছায়া পড়েছে নদীর স্বচ্ছ টলটলে জলে। কিন্তু নদীর পাড়ের অধিকাংশ করচের ডালপালা কাটা। কোনো কোনো গাছ একেবারেই ন্যাড়া। খোঁজ নিয়ে জানা গেল বর্ষায় নৌকা ভিড়িয়ে আশপাশের মানুষ লাকড়ির জন্য হিজল করচের ডাল কাটে। খুবই জঘন্য অপরাধ। যেখানে হাওরের ভেতর গাছ লাগিয়ে বাঁচিয়ে রাখাই কষ্টকর, সেখানে গাছের ক্ষতি করা মোটেও কাম্য নয়। আরো খানিকটা এগিয়ে চোখে পড়লো কয়েক ঘরের ছোট্ট একটি গ্রাম। গ্রাম লাগোয়া একটি আনসার ক্যাম্প। জায়গাটি গোলাবাড়ি ক্যাম্প নামেই পরিচিত। ক্যাম্পটি হাওর পাহারায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের। তবে একাধিকবার গিয়েও আনসারদের ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় দেখা যায়নি। এখানে ওরা অনেকটা গ্রামের মানুষের অংশ হয়ে উঠেছে! বেশ আয়েশি জীবন। ক্যাম্পের ডানপাশে টাঙ্গুয়ার হাওরের মূল অংশ আর বাঁপাশে কাউজ্জাউরি বিল।
tangua_04
ক্যাম্প ছাড়িয়ে কিছুটা সামনে গিয়ে নৌকা থামাই। বাঁধের পাশে নৌকা বেঁধে আমরা পাড় ঘেঁষে হাঁটতে থাকি। এদিকে হিজল, করচ, বরুনের ঘন বাগান। বিস্তীর্ণ হাওরের কিনারা ঘেঁষে বন বিভাগ এসব গাছ লাগিয়েছে। গাছতলায় অসংখ্য তৃণগুল্মের আচ্ছাদন। বনগোলাপ, স্ট্রবেরি, লতাপটকা, দুধিয়ালতা, নলখাগড়া, হুড়হুড়ি, ঘাগড়া, বিষকাটালি ইত্যাদি। কিন্তু হাওরের স্থায়ী বাসিন্দা নলখাগড়া প্রায় বিলুপ্তির পথে। স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষ জ্বালানীর প্রয়োজনে প্রতিনিয়তই নলখাগড়া কাটছে। নলখাগড়া কমে যাওয়ায় দুধিয়ালতাসহ অনেক পাখি-পতঙ্গ নিজেদের আবাস হারাচ্ছে। হাওরের সমুদয় প্রাণসম্পদ একটির উপর অন্যটি নানাভাবে নির্ভরশীল। এখানে কোনো একটি প্রজাতি বিলুপ্ত বা বিপদাপন্ন হলে অন্যরাও তার কুফল ভোগ করে।
tangua_05
আমাদের জীববৈচিত্রের প্রাণকেন্দ্র টাঙ্গুয়ার হাওর এক সময় ইজারা পদ্ধতিতে পরিচালিত হতো। ইজারাদাররা বছরের নির্দিষ্ট একটি সময়ে হাওরের সব মাছ ধরে নিত। এখন ব্যবস্থাপনা সরকারিভাবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনে আর্ন্তজাতিক সংস্থা আইইউসিএন হাওরের পরিবেশ সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। আবার আইইউসিএন হাওর তত্ত্বাবধানের কাজে সিএনআরএসকে দায়িত্ব অর্পণ করেছে। তবে সব কিছুর অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় প্রশাসনের হাতে। হাওরের প্রায় সব কাজেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে হাওরে একাধিক কর্তৃপক্ষের নজরদারি। কিন্তু কৃর্তপক্ষ একাধিক হলেও স্থানীয়রা মনে করেন হাওরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।
tangua_06
স্থানীয় একাধিক সূত্রমতে, শুকনো মৌসুমে হাওরের মৎস সম্পদ নানাভাবে লুন্ঠিত হয়। রাতে গোপনে মাছ ধরে পাচার করা হয়। শুধু তা-ই নয়, চোরা শিকারিরা ফাঁদ পেতে অতিথি পাখিও শিকার করে। জানতে চাইলে পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক বলেন, ‘অন্যান্য হাওরের তুলনায় টাঙ্গুয়ার হাওরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক বেশি শক্তিশালী। এখানে খুব বেশি অনিয়মের সুযোগ নেই।’

আসলে সব কিছুর আগে সচেতনতা দরকার। হাওর বা প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি আমাদের মনোভাব কেমন হবে তা আগে শিখতে হবে। তাছাড়া এই হাওরে অতিরিক্ত পর্যটকের আগমনও কাম্য নয়। অতিরিক্ত মানুষ এখানকার জীববৈচিত্রের জন্য হুমকি।   

ছবির ক্যাপশন :
১.    ডালপালা কাটা করচ গাছের সারি
২.    হাওরের পথে এমন সুন্দর দৃশ্য চোখে পড়বেই
৩.    নলখাগড়ার বন
৪.    মূল টাঙ্গুয়ার হাওর
৫.    কেটে নেওয়া গাছের গোড়া     

বাংলাদেশ সময়: ১৩৪১ ঘণ্টা, মে ১১, ২০১৪

‘ই-পাসপোর্ট ডিজিটাল জগতে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে’
সিএএ স্থগিত করতে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের অস্বীকৃতি
ঝালকাঠিতে ২ ‘মাদক ব্যবসায়ী’ আটক
কাউন্সিলর প্রার্থী সারোয়ারের প্রার্থিতা বাতিল চান তাবিথ
৬ মাসের মধ্যে শেষ হবে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ


ধানের দামের অজুহাতে ফের বাড়ালো চালের দাম
সিআরবি জোড়াখুন মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার
দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে যা করবেন 
ভিকি কৌশল ও ক্যাটরিনা কাইফের লুকোচুরি
কর বাড়ানো নয়, সমন্বয় করা হবে: তাপস