একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন (বীর প্রতীক) এর কথা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

প্রায় ত্রিশ লাখ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছিলেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধে। এর মধ্যে নাম জানা মুক্তিযোদ্ধা যেমন রয়েছেন, তেমনি নাম না-জানা মুক্তিযোদ্ধাও বহু রয়েছেন।

ঢাকা: প্রায় ত্রিশ লাখ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছিলেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধে। এর মধ্যে নাম জানা মুক্তিযোদ্ধা যেমন রয়েছেন, তেমনি নাম না-জানা মুক্তিযোদ্ধাও বহু রয়েছেন।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার আলোচিত হয়ে আছেন যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের সাহসিকতার জন্য। শহীদ জাকির হোসেন বীর প্রতীক তাদেরই একজন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান ও সাহসিকতার জন্য ১৯৭৩ সালে শহীদ এই মুক্তিযোদ্ধাকে সরকারের পক্ষ থেকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাব দেওয়া হয়।

শহীদ জাকির হোসেন ১৯৫১ সালে ঢাকার ৪২ নম্বর রামকৃষ্ণ মিশন রোডে নিজেদের পৈত্রিক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকালে তিনি রামকৃষ্ণ মিশন স্কুল এবং পরে মুসলিম গভর্নমেন্ট হাই স্কুল থেকে মেট্রিক (এসএসসি) পাস করেন। জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর তিনি লাহোর ইসলামিয়া কলেজে বিএসসিতে ভর্তি হন।

ছেলেবেলা থেকেই জাকির ছিলেন মেধাবী ও দুর্দান্ত সাহসী। খেলাধুলা ও বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক কাজেও তিনি নিজেকে জড়িত রাখতেন সব সময়।

মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন জাকির বিশ বছরের টগবগে যুবক। যুদ্ধ শুরুর আগেই দেশের উত্তাল পরিস্থিতি দেখে ৩ মার্চ তিনি ঢাকায় চলে আসেন।

শহীদ জাকির যুদ্ধ করেন ২ নম্বর সেক্টর’র অধীনে। তিনি এ সেক্টরের ১২ নম্বর গ্রুপের গ্রুপ কমান্ডার ছিলেন। যুদ্ধের অবসরে হাসি-ঠাট্টার মাধ্যমে পুরো ক্যাম্পটাকে মাতিয়ে রাখতেন জাকির। ২ নম্বর সেক্টর’র মেজর এটিএম হায়দার জাকিরকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন।

যুদ্ধের শুরুর দিকে কমান্ডো অপারেশনের জন্য জাকিরকে প্রথম ঢাকায় পাঠানো হয়। এখানে তিনি প্রায় দুয়েক মাস অবস্থান করেন। ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি বিক্ষিপ্তভাবে কিছু অপারেশন পরিচালনা করেন এবং পাশাপাশি বিভিন্ন গোপন তথ্য সরবরাহ করতেন তিনি।

কিন্তু তিনি এতে যেন আত্মতৃপ্তি পাচ্ছিলেন না। তার বিশেষ আগ্রহ ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে। এ বিষয়ে তিনি তার আগ্রহের কথা মেজর এটিএম হায়দারকে জানালে তিনি তার দলটিকে কসবা এলাকার শালদা নদী ও রেল লাইন ক্রস পয়েন্টে সম্মুখ যুদ্ধ করার জন্য পাঠিয়ে দেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, শালদা নদী ও রেল লাইন ক্রস পয়েন্টে ইতিপূর্বে বহু মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছেন। শহীদদের স্মরণে এখানে ‘কুল্লা পাথর শহীদ মিনার’ রয়েছে।

জাকির তাঁর দলবল নিয়ে প্রথমে মন্দভাগ রেল স্টেশনের রগুরামপুর গ্রামের হামিদ মাস্টার সাহেবের বাড়িতে ক্যাম্প করেন। এখানে আগে থেকেই ক্যাম্প স্থাপন করেছিলেন বেঙ্গল রেজিমেন্ট’র ক্যাপ্টেন পাটোয়ারি সাহেব।

জাকিরের মূল লক্ষ্য ছিল শালদা নদীর রেল লাইন ক্রস পয়েন্ট অর্থাৎ সিগন্যাল পয়েন্টের পশ্চিম-উত্তর পাশে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প আক্রমণ।

২৬ আগস্ট সকালে আক্রমণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই অপারেশনে মিত্র বাহিনীর আর্টিলারি গ্রুপ’র সহযোগিতার কথা ছিল। পরিকল্পনা করা হয়, জাকিরের দল পাকিস্তানি ক্যাম্পের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে, বেঙ্গল রেজিমেন্ট’র জোয়ানরা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ও মিত্র বাহিনীর আর্টিলারি গ্রুপ রগুরামপুর গ্রামের পেছনে টিলার পূর্ব দিক থেকে মর্টারে আঘাত হানবে।

আগের দিন রাত থেকে অল্প অল্প বৃষ্টি পড়ছিল। জাকিরের সহযোদ্ধারা তাকে সেদিন অপারেশনে না-যাওয়ার জন্য বাধা দিচ্ছিলেন। কিন্তু  শালদা নদীর রেল লাইন ক্রস পয়েন্টে ইতিপূর্বে বহু মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছেন। সুতরাং, এখানকার পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প যেভাবেই হোক ধ্বংস করতে হবে- এটাই ছিল জাকিরের জেদ।

সহযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, ‘মা-বাবার দোয়া নিয়ে এসেছি, তোদের ভয় কীসের’! এদিন জাকিরের সহযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন সামসুল হুদা, জাহিদ, ইয়াদ আলী, আবু তাহের ইসা, সাদেক হোসেন খোকা, মোস্তাক এবং আরো অনেকে।

শালদা নদীর বুক পানিতে মাথা নিচু করে জাকির তার দল নিয়ে এগোতে থাকেন। এদিকে ত্রিমুখী আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনীর সেনারা অবিরাম গুলি ছুঁড়তে থাকে।

এক সময় সহযোদ্ধা মোস্তাক সামান্য এগিয়ে গিয়ে মাথা তুললে তার গায়ে গুলি লাগে এবং জাকিরের নাম ধরে তাকে বাঁচানোর জন্য চিৎকার দেন তিনি। মোস্তাককে বাঁচাতে জাকির মাথা উঁচু করেন এবং তার গায়েও গুলি লাগে তখন। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রেই শহীদ হন তিনি।

তখন বেলা প্রায় তিনটা। সন্ধ্যায় রগুরামপুর গ্রামের হামিদ মাস্টার সাহেবের জমির টিলার ওপর শহীদ জাকিরকে সমাহিত করা হয়।    
বাংলাদেশ সময় : ২০৫৮ ঘন্টা, ডিসেম্বর ১৪, ২০১১

লালমনিরহাট কারাগারের জেলার আর নেই
খুবির মেডিক্যাল সেন্টারের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন
যশোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত
বানরের খামচি খেয়ে যুব বিশ্বকাপ শেষ অজি ব্যাটসম্যানের
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রাজশাহীবাসী


‘পাহারার নামে সন্ত্রাসীরা ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে’
কারাগারে শূন্যপদে ১১৭ চিকিৎসক নিয়োগে নির্দেশ
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাঠে থাকবে বিজিবি
করোনা ভাইরাস: চীনফেরত বাংলাদেশিদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে
বিএনপি অতীতে কেন এজেন্ট দিতে পারেনি প্রশ্ন কাদেরের