বিফলে মুশফিকের লড়াই, খুলনাকে হারিয়ে শীর্ষে ঢাকা

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজ

walton

বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুর ধাক্কা সামলে খুলনা টাইগার্সকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন মুশফিকুর রহিম। বাকিদের ব্যর্থতার মাঝেও হাসছিল তার ব্যাট। তুলে নিয়েছিলেন দারুণ এক ফিফটিও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিফলে গেল তার লড়াই। ঢাকা প্লাটুনের কাছে ১২ রানে হেরে গেল তার দল খুলনা।

শুরুতে ব্যাট করতে নেমে তামিম-এনামুলদের ধীরগতি আর শেষে আসিফ আলীর আগ্রাসী ব্যাটিং পারফরম্যান্সে ভর করে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান সংগ্রহ করে ঢাকা প্লাটুন। জবাবে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রানে শেষ হয় খুলনার ইনিংস। 

ঢাকার ছুড়ে দেওয়া ১৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৪ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় খুলনা। তবে দলের বিপদে দাঁড়িয়ে যান মুশফিকুর রহিম। দারুণ ফর্মে থাকা এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ফিফটি তুলে নিয়ে দলকে জয়ের দিশা দেখান। তাকে দারুণ সঙ্গ দেওয়ার পর রান আউটের শিকার হয়ে বিদায় নেন নজিবুল্লাহ জাদরান (৩১)। 

জাদরান বিদায় নিলে খুলনার জয়ের সব সম্ভাবনার চাপ নেন মুশফিক। বিশাল বিশাল সব ছক্কা হাঁকিয়ে ঢাকার বোলারদের ছন্নছাড়া করে দেন এই ডানহাতি। মাঝে রোবি ফ্রাইলিংক ৬ রান করে বিদায় নিলেও একাই আক্রমণ চালিয়ে যান তিনি। একসময় জেতার জন্য শেষ দুই ওভারে খুলনার দরকার ছিল ৩৬ রান। 

হাসান মাহমুদের করা ১৯তম ওভারের প্রথম তিন বলে ১২ রান (১ চার, ১ ছক্কা ও ডাবল) নিয়ে লক্ষ্যটা কমিয়ে আনেন মুশি। কিন্তু পঞ্চম বলে শাদাব খানের হাতে ক্যাচ তুলে দিলে শেষ হয় ৩৩ বলে ৬৪ রানের লড়াকু ইনিংসটি। দারুণ এই ইনিংসটি ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো। 

শেষ ৬ বলে খুলনার দরকার ছিল ২২ রান। কিন্তু খুলনার মোহাম্মদ আমির ও শহিদুল ইসলাম নিতে পারেন ৯ রান। এর মধ্যে শেষ বলে পেরেরার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন আমির।

বল হাতে ৪ উইকেট নিয়েছেন ঢাকার হাসান মাহমুদ। ১টি করে উইকেট গেছে মাশরাফি বিন মর্তুজা, থিসারা পেরেরা এবং শাদাব খানের দখলে।

এর আগে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সিলেট পর্বের তৃতীয় ম্যাচে শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টসে জিতে ফিল্ডিং বেছে নেয় খুলনা।

খুলনার আমন্ত্রণে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালোই হয়েছিল ঢাকার। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও এনামুল হকের ব্যাটে আসে ৪৫ রানের জুটি। কিন্তু ৭ রানের ব্যবধানে দুই ওপেনার বিদায় নিলে ঢাকার ইনিংস জোর ধাক্কা খায়। মোহাম্মদ আমিরের বলে রোবি ফ্রাইলিংকের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে তামিমের ব্যাট থেকে আসে ২৩ বলে ২৫ রান। আর এনামুল বিদায় নেন ১৩ বলে ১৫ রান করে।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর মেহেদী হাসান (১) দ্রুত বিদায় নেওয়ার পর মুমিনুল হক ও আরিফুলের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় ঢাকা। তবে দুজনেই ব্যাট করেন ধীরগতিতে। পাকিস্তানি পেসার আমিরের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে বাঁহাতি মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ বলে ৩৮ রান। তবে এরপর আরিফুলকে দারুণ সঙ্গ দেন আসিফ আলী।

আরিফুলের ধীরগতির ব্যাটিং ছাপিয়ে ব্যাট হাতে শেষদিকে তাণ্ডব চালান আসিফ। একের পর এক ছক্কা আর চারের মার দিয়ে দলকে এনে দেন লড়াই করার মতো পুঁজি। শেষ পর্যন্ত ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩৭ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন আরিফুল। আর আসিফের ১৩ বলে অপরাজিত ৩৯ রানের ঝড়ো ইনিংসটি ২ চার ও ৪ ছক্কায় সাজানো।

বল হাতে খুলনার আমির ২ উইকেট আর আমিনুল ইসলাম ও শফিউল ইসলাম নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা প্লাটুনের হাসান মাহমুদ।

এই জয়ে ৯ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে পৌঁছে গেল ঢাকা। আর ৮ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে চারে খুলনা।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৩, ২০২০
এমএইচএম

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: বঙ্গবন্ধু বিপিএল ২০১৯
সারা দেশ কি সরকার গোরস্থান বানাতে চায়: রিজভী
পঞ্চগড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইজিবাইকচালকের মৃত্যু
সাইকেলের ধাক্কায় পড়ে গেলেন বাইকের চালক
যাত্রী স্বল্পতায় মঙ্গলবারের সব ফ্লাইট বাতিল বিমানের
আসামে ভূমিধসে ২০ জন নিহত


বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে দিনাজপুরে মানববন্ধন
কোহলি-রোহিত জুটিকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন সাঙ্গাকারা
আবরার হত্যা: জিয়নের জামিন নামঞ্জুর
গাজীপুরে দেশীয় অস্ত্রসহ দুই ডাকাত আটক
হাতিয়ায় নদীর পাড় থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার