php glass

আমরা আরেকটা ওয়ান-ইলেভেন চাই না: এম এম আকাশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

আয়োজিত সাংস্কৃতিক উৎসব। ছবি: বাংলানিউজ

walton

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেছেন, ‘আমরা আরেকটা ওয়ান-ইলেভেন চাই না।’

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজিত সাংস্কৃতিক উৎসবে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, ‘বাংলাদেশে ঋণ খেলাপির পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকা। কিছুলোক ব্যাংক থেকে এই অর্থ লুট করেছে। এই টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে।’

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রী-এমপি এবং আমলাদের জিজ্ঞেস করুন, দেশের বাইরে কার কার সম্পদ আছে। মন্ত্রীদের ছেলে-মেয়ের দেশের বাইরে পড়াশোনার খরচ কিভাবে যোগাড় করা হয়?’

গত নির্বাচন প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আকাশ বলেন, ‘গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কাদের কে মনোনয়ন দিয়েছে? আওয়ামী লীগের অনেকে বলেছে, আমরা এত কষ্ট করে আওয়ামী লীগ করেছি, অথচ আমরা মনোনয়ন পাই নাই, মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা ও আমলারা। সরকারের বিশেষ বিশেষ কর্মকর্তাদের আয় এবং ব্যয়ের পার্থক্য কেন এত বেশি? ঢাকা শহরে অনেকের দু’টো-তিনটে বাড়ি থাকে। তাদের আয় অনুযায়ী ঢাকায় দুই-তিনটা বাড়ি থাকার কথা নয়!’

শেয়ার কেলেঙ্কারির কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক আকাশ বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম শেয়ার কেলেঙ্কারির ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিল। সেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো না কেনো? সেই প্রতিবেদনে শেয়ার কেলেঙ্কারির প্রধানকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবুও তিনি কোনো শাস্তির সম্মুখীন হলেন না। বরং তিনি সরকারের উপদেষ্টায় পরিণত হলেন।’

আবরার ফাহাদ হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আবরার ফাহাদের হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, তারা অনেকেই ভালো ও মেধাবী ছাত্র ছিল। এর মধ্যে একজনের বাবা ভ্যানগাড়ি চালিয়ে, মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে তার পড়াশোনার খরচ চালাতেন। সে খুবই ভালো ছেলে ছিল।’

‘আরেকজন ছেলে তার বাবাকে বলতো, আমি তো রাজনীতি করতে চাই না, আমাকে জোর করে বাধ্য করে রাজনীতি করাচ্ছে। আমি মিছিলে না গেলে আমার ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। তাই আমি বাধ্য হয়ে রাজনীতি করছি। সেই ছেলেই রাজনীতিতে জড়িয়ে স্টাম্প নিয়ে পিটিয়ে তারই একজন সহপাঠীকে হত্যা করলো। যেই সহপাঠী কাঁদতে কাঁদতে কত অনুরোধ করেছে, কিন্তু এতটুকু দয়া তার মধ্যে ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) এমন দানব কীভাবে তৈরি হলো? সেটা আমরা জানতে চাই। দুর্বৃত্তায়িত সমাজের গডফাদাররা তাদেরকে দানবে পরিণত করেছে। সেই গডফাদারদেরও ধরতে হবে। তা নাহলে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকবে।’

চলমান বিভিন্ন শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গডফাদারদের ধরার সামান্য একটা লক্ষণ আমরা দেখছি। ক্যাসিনো সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্রাট যখন রাস্তায় বের হতো, তার বাহিনী রাস্তা পরিষ্কার করে দিত। এমনকি অনেক সেনাবাহিনীর সদস্যরাও তাকে ডিঙিয়ে যেতে পারত না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সম্রাটের শাসকশ্রেণীর সঙ্গে কী অন্য কোনো বিষয়ে দ্বন্দ্ব হয়েছিল? কোনো বড় পুলিশ কর্মকর্তা বা কোনো বড় আমলা তার বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়েছিল? সেই কারণেই কি তাকে গ্রেফতার করা হলো?’

‘এই অভিযান শুরুর সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমি যদি এই অভিযান না চালাই, তাহলে ওয়ান-ইলেভেনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আমরা জানি ওয়ান-ইলেভেন কখন, কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং ওয়ান-ইলেভেনের পর কী হয়েছিল। আমরা ওয়ান-ইলেভেন চাই না। আমরা গুন্ডাতন্ত্রও চাই না। অপরাধীদের কোনো দল ও রং দেখলে হবে না। যে দলেরই হোক তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করতে হবে।’

বাংলাদেশের লুটপাটের ধরণ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবীদ আকাশ বলেন, ‘বাংলাদেশে তিনটি ধারায় লুটপাট হচ্ছে। অসৎ ব্যবসায়ীদের লুটপাট, অসৎ আমলাদের লুটপাট এবং অসৎ রাজনীতিবিদদের লুটপাট। এবারের অভিযানে অসৎ রাজনীতিবিদদের লুটপাটে একটি টোকা লেগেছে মাত্র। আমরা এই টোকাকে ধাক্কায় পরিণত করতে হবে।’

আয়োজিত সাংস্কৃতিক উৎসবে সভাপতিত্ব করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহ-সভাপতি বদিউর রহমান, আলোচনা করেন সহ-সভাপতি প্রবীর সরদার, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আফরোজা নাহার রাশেদা, সহ-সাধারণ সম্পাদক জামশেদ নুর তপন, অমিত দে, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ডা. জাকির তালুকদার, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা অনিক রায় প্রমুখ।

আলোচনা সভার প্রথমে প্রতিবাদী গণসঙ্গীত পরিবেশন করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সেই সঙ্গে কবিতা আবৃত্তিও করা হয়। এরপর শুরু হয় উদীচীর আলোচনা সভা।

সভাপতির বক্তব্যে বদিউর রহমান আগামী ১৭ অক্টোবর সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি ১৮ অক্টোবর ঢাকার শাহবাগে সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিবাদ সমাবেশ করে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ২০২০ ঘণ্টা, অক্টোবর ১১, ২০১৯
আরকেআর/এসএ

যুবলীগের সম্মেলনে: ঢাকার পথে চট্টগ্রাম যুবলীগের নেতারা
‘সিন্ডিকেট করে চালের বাজার অস্থিতিশীল করলে ছাড় নয়’
জমে উঠেছে অ্যামেচার ফুটসাল কাপ
কুষ্টিয়ার মিরপুরে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
তারুণ্য জেগেছিল সবার মনে


জিল বাংলা সুগার মিলের আখ মাড়াই শুরু
ফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি সৌম্য-শান্তরা
রোহিতকে বিদায় করলেন এবাদত
মহানগর আ’লীগে বিতর্কিতরা প্রার্থী হয়ে লাভ নেই: কাদের
‘সন্তানের অধিকার আমি ছাড়বো না’