একুশে ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু সকাল ৮টায়

ফিচার রিপোর্টার | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

অমর একুশে গ্রন্থমেলা/ছবি: বাংলানিউজ

walton

গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণ থেকে: অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে বাঙালির প্রাণের মেলা শুরু হবে শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে। এ তথ্য জানিয়েছে বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ।

php glass

বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তারা জানান, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) মেলা চলবে সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল সাড়ে ৭টায় একুশে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর।

এদিকে বৃহস্পতিবার একুশের চেতনায় শাণিত গ্রন্থমেলা মূর্ত হয়ে উঠে হাজারো বইপ্রেমীদের পদচারণায়। শিশু থেকে বৃদ্ধ অর্থাৎ আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাদের ঢল নামে বিকেলে থেকে। এদিনের মেলায় সবার হাতে হাতে ছিলো বই। স্টল ও প্যাভিলিয়নে কর্মরতরাও জানালেন বিক্রি ভালো।

মেলায় এদিন নতুন বই এসেছে  ১৩৮টি। এদেও মধ্যে অনুপম এনেছে সৌমেন সাহার অভিধান ‘বিজ্ঞান অভিধান’, অক্ষর এনেছে জান্নাতুল যূথীর গবেষণামূলক প্রবন্ধ ‘দিলারা হাশেমের উপন্যাস বিষয় ও প্রকরণ’, কামাল হোসেন টিপুর উপন্যাস ‘এতো কাছে তুমি তবু এতো দূরে’, নবরাগ এনেছে হাবিবুর রহমান স্বপনের গবেষণাগ্রন্থ ‘বরীন্দ্র ছোট গল্পের রূপ অন্বেষণ’, বেহুলা বাংলা এনেছে জুয়েল মাজহারের কবিতার বই ‘কবিতার ট্রান্সট্রোমার’ ও ইমাম মেহেদীর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়ার নারী’, একাত্তর এনেছে আসাদুল্লাহ্’র ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ ‘ছোটদের ভাষাবীর ও বীরশ্রেষ্ঠ’, সময় এনেছে মুনতাসীর মামুনের প্রবন্ধ ‘কেনো চেয়েছি শেখ হাসিনাকে’, পদক্ষেপ এনেছে রফিকুল রশীদের গল্পগ্রন্থ ‘রাসেলের সবুজ খাতা’, আসলাম সানীর ছড়া ‘শিশুর সনে ফুলের বনে’, পীযূষ কান্তি বড়ুয়ার গল্পগ্রন্থ ‘মুক্তিবীর’, এবং আসাদ চৌধুরীর জীবনী বিষয়ক ‘চিত্রশিল্পী রাফায়েল সেনজিত্ত দ্য আরবিনো’, অনার্য এনেছে তানভীর মোকাম্মেলের চলচিত্র বিষয়ক ‘চলচিত্র নন্দনতত্ত্ব ও বারোজন ডিরেক্টর’, এ পি জে আব্দুল কালামের অনুবাদগ্রন্থ ‘ইগনাইটেড মাইন্ডস, য়ারোয়া থেকে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কাব্যগ্রন্থ ‘সুভাষিত’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘সওগাত পত্রিকার শতবর্ষ: ফিরে দেখা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ইসরাইল খান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. হাবিব আর রহমান এবং ড. আমিনুর রহমান সুলতান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সামাদ।

প্রাবন্ধিক বলেন, সওগাত-যুগের অবসান ঘটেছে বটে, কিন্তু এখনও তার প্রভাব অনুভব করা যায়। সওগাতের প্রগতিবাদী সুচিক্কণ সাহিত্যরুচির অনুসারী পত্রিকা তরুণদের মধ্যে থেকে এখনও বের হচ্ছে। ভুললে চলবেনা আজ বইমেলার লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে তরুণদের যে সাহিত্যিক মহোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে- তারাতো সওগাত-কল্লোল-কালিকলম-প্রগতি-বুলবুল-চতুরঙ্গ-ছায়াবীথি-গুলিস্তাঁরই প্রতিনিধি।

আলোচকরা বলেন, সওগাত পত্রিকা বাঙালি মুসলিম সমাজে প্রগতিশীলতার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। এ পত্রিকা নারী স্বাধীনতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে যেমন ভূমিকা রেখেছে তেমনি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উদার আবহ সৃষ্টিতে এ পত্রিকার ভূমিকা ঐতিহাসিক গুরুত্বের দাবি রাখে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, সওগাত পত্রিকার সামাজিক সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা ঐতিহাসিক। সওগাত পত্রিকার শতবর্ষ তাই আমাদের সাংস্কৃতিক পরিসরে বিশেষ তাৎপর্যের দাবি রাখে।

আলোচনা শেষে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি আসাদ চৌধুরী, নাসির আহমেদ, মারুফুল ইসলাম এবং ওবায়েদ আকাশ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ডালিয়া আহমেদ এবং অলোক বসু।
 
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) মেলা চলবে সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল সাড়ে ৭টায় একুশে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে রয়েছে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। সভাপতিত্ব করবেন কবি অসীম সাহা। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে অমর একুশে বক্তৃতা। একুশে বক্তৃতা প্রদান করবেন ভাষাসংগ্রামী জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। 

সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশ সময়: ২১১৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৯
এইচএমএস/এসএইচ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: বইমেলা
আগের ১৫ সদস্যের ওপরই ভরসা রাখলেন নির্বাচকরা
ধানক্ষেতে আগুনের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছোট পর্দায় ‘অভাগিনী মা’ চম্পা
কমলাপুরে সিএনএসের সার্ভাররুমে দুদকের হানা
লাইফবয় ওয়ার্ল্ডকাপ থিম সং ‘খেলবে টাইগার, জিতবে টাইগার’


দুপুর হতেই কাউন্টার ফাঁকা
আগুয়েরোকে নিয়ে আর্জেন্টিনার দল ঘোষণা, নেই ইকার্দি
ল্যাবএইড গ্রুপে নিয়োগ
পটুয়াখালীতে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট
বোমা মেশিনে নদীর পাড় খুঁড়ে বাঁধ নির্মাণ