বিদ্যুৎ সংযোগের সময় শেষ, অথচ অগ্রগতি নেই অর্ধেকও

মফিজুল সাদিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

প্রতীকী ছবি

walton

ঢাকা: দেশের চারটি বিভাগে ১৩ লাখ ৩০ হাজার নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া প্রকল্পের সময় শেষ হয়ে গেছে। অথচ প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। এর পাশাপাশি ভৌত অগ্রগতি মাত্র ৪৮ শতাংশ।

আর এমন ঘটনা ঘটেছে ‘শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ’ (রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায়। প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০১৭ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ মেয়াদে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও অর্ধেকও বাস্তবায়ন হয়নি। আর এ অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ডিসেম্বর ২০২১ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে।

শুধু তাই নয় প্রকল্পের আওতায় ১০৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একজনও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। মূলত মামলাজনিত কারণে প্রকল্পের আওতায় কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ৭৭৬ কোটি ৯১ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৬ হাজার ৭৬০ কোটি ৮৩ হাজার টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার তহবিল থেকে ১৬ কোটি ৯০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে। এখন এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ২৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াচ্ছে ৮ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা। চার বিভাগের ২২১টি উপজেলার মধ্যে ১৬০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে। আরো ৬১টি জেলায় জুন ২০২০ মেয়াদে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো)। প্রকল্পের ধীর অগ্রগতির কারণ জানতে চাইলে উপ-প্রকল্প পরিচালক অসীত কুমার ভৌমিক বাংলানিউজকে বলেন, নতুন উপকেন্দ্রগুলোর জন্য ভূমি অধিগ্রহণ বিলম্ব হওয়ায় এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে চাহিদামতো বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়েছে। এ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির আওতায় এডিপিতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে পরামর্শক দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন গতি বাড়বে।

বাপবিবো সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় নতুন নতুন কাজ যোগ হচ্ছে। ১৩ লাখ ৩০ হাজার গ্রহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত আরো ৩ লাখ ৬০ হাজার নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। ফলে মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬ লাখ ৯০ হাজার। নতুন সংযোগের ফলে পরামর্শক খাতেও ব্যয় বাড়ছে ১৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় অতিরিক্ত ১০ হাজার ২৪৫ কিলোমিটার বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন, অতিরিক্ত সাতটি নতুন উপ-কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ৫৬টি বিদ্যমান উপ-কেন্দ্রের ক্ষমতা অতিরিক্ত ১৬০ এমভিএ বৃদ্ধি করা হবে।

সূত্র আরো জানায়, মূল প্রকল্পের আওতায় ৩৮ হাজার ১০ কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন স্থাপন করার কথা ছিলো। এছাড়া ৪৮টি নতুন ৩৩/১১ কেভি উপ-কেন্দ্র নির্মাণ, বিদ্যমান ৫৬টি ৩৩/১১ কেভি উপ-কেন্দ্রের ৩৭৫ এমভিএ ক্ষমতা বাড়ানো, নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জন্য একটি সুইচিং স্টেশন নির্মাণ, ৬২ সেট রিভার ক্রসিং টাওয়ার নির্মাণ এবং ১৯ দশমিক ২০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রকল্পভুক্ত ৩৬টি পল্লী বিদ্যুতের আওতায় ১৩ লাখ ৩০ হাজার নতুন গ্রাহককে সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ হয়েছিল।

প্রকল্পের আওতায় ৬২ সেট রিভার ক্রসিং টাওয়ার নির্মাণ, ১৯ দশমিক ২০ একর ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্রয়, একটি সুইচ স্টেশন নির্মাণ করার কথা। প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সরকার দেশব্যাপী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম গ্রামাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ সরকার রূপকল্প ২০২১ অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নতুন নতুন কর্মসংস্থানের জন্য বিদ্যুতের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ব্যয় সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জন দুরূহ হবে। তাই নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাস্তবায়ন কম হওয়া প্রসঙ্গে প্রকল্পের উপ-পরিচালক অসিত কুমার ভৌমিক বাংলানিউজকে বলেন, ‘কিছু কিছু উপ-কেন্দ্রের কাজ সম্পন্ন হয়েছে কিন্তু অগ্রগতিতে যোগ হয়নি। বাস্তব অগ্রগতি ভালো হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২১ সালে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। আশা করছি এর আগেই প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হবে। প্রকল্পের আওতায় নতুন নতুন কিছু কাজ যোগ হবে। ফলে সময়-ব্যয় বাড়বে প্রকল্পের।’

তিনি আরো বলেন, ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন কাজ ২০২০ সালের জুন মাসে সম্পন্ন হবে। এরপরে প্রকল্পের কাজ বাকি থাকবে না।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্ষমতা ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া প্রন্তিক এলাকায় বিদ্যুতের সুবিধা নিয়ে কুটির, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পের বিকাশ ঘটবে, সেচের মাধ্যমে অধিক খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এ খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের মাধ্যমে শহর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য হ্রাস পাবে।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৩৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯
এমআইএস/জেডএস

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: বিদ্যুৎ
ঘন কুয়াশায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ
সিলেটে কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
কেশবপুরে নেওয়া হচ্ছে ইসমাত আরা সাদেকের মরদেহ 
যৌন হয়রানির অভিযোগে কলেজশিক্ষক বরখাস্ত
নীলফামারীতে ফের মৃদু শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত


কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়, ফসল-সড়কের ক্ষতি
ঈশ্বরগঞ্জে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত
কেরানীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪
আক্কেলপুরে ট্রেনের ধাক্কায় ব্যবসায়ী নিহত