php glass

নানা চাপে নেতারা দল ছাড়তে পারেন: হাবিব উন নবী 

মহসিন হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ছবি: বাংলানিউজ

walton

ঢাকা: সম্প্রতি বিএনপির সিনিয়র দুইজন নেতা পদত্যাগ করেছেন। আরও কয়েকজনের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এর মাঝে কারান্তরীণ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়া নিয়েও চলছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। 

বিএনপিও বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। সার্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলানিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল। সোহেল দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিবের দায়িত্বেও রয়েছেন। এর আগে দায়িত্ব পালন করেছেন ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবেও। 

সম্প্রতি তার বাসায় এ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলানিউজের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট মহসিন হোসেন। 

বাংলানিউজ: সম্প্রতি বিএনপির দুইজন সিনিয়র নেতা পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে আরও কয়েকজনের দল ছাড়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছে, বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

হাবিব-উন নবী সোহেল: দেখুন, আমরা আগে থেকেই বলে আসছি যে, দেশে এখন স্বৈরশাসন চলছে। এ শাসনের অত্যাচার নির্যাতন অনেকে সইতে পারছেন না। সেজন্য অনেকে রাজনীতি থেকে সরে যেতে চাচ্ছেন। অনেকের মামলা আছে সেগুলোর ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত। সেজন্য দল ছাড়ছেন। এরকম যারা চলে যাবেন, যেতে পারেন। তাতে দলে কোনো প্রভাব পড়বে না। আমাদের নেতাকর্মীরা স্বৈরশাসন মোকাবেলা করে টিকে আছে। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই বয়সে জেল খাটছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে আসতে পারছেন না। সবকিছুর মধ্যেই আমরা টিকে আছি। বাকি সময়ও থাকবো। উনারা ধৈর্যহারা হয়ে দল ছাড়ছেন। অথবা নানা রকম প্রেসারে ((চাপে) দল ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন। যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। বিএনপি একটি বিশাল সমুদ্রের মতো, এখান থেকে কিছু পানি গড়িয়ে পড়লে দলের ক্ষতি হবে না।

বাংলানিউজ: খালেদা জিয়া ১৮ মাসের বেশি সময় কারাগারে। আইনজীবী ও দলের সিনিয়র নেতারা বলছেন- তাকে আইনিভাবে মুক্ত করা সম্ভব নয়। তৃণমূলের নেতারা কর্মসূচি চাইছেন! আসলে দলীয় কর্মসূচি কে কিভাবে ঘোষণা করবেন?

হাবিব উন নবী খান: ম্যাডামের মুক্তি নিয়ে এমন অবস্থার তৈরি হবে এটা আমরা ভাবিনি। টোটাল বিচার প্রক্রিয়াটাই একটা সাজানো গেমের অংশ মনে হয়েছে। এটা আমাদের কাছে প্রত্যাশিত ছিল না। আমরা জানি এর আগে দুই নেত্রী একসঙ্গে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন। আমরা ভেবেছিলাম বর্তমানে যিনি ক্ষমতা ধরে আছেন, এ কাজে তিনি যাবেন না। এ অবস্থায় খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হয়েছে, যারা পাঠিয়েছেন তাদেরও যে ভবিষ্যতে যেতে হবে না এর তো নিশ্চয়তা নেই। বলতে চাই- খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়া মানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর জেলে যাওয়ার একটা অ্যারেজমেন্ট। এটা আওয়ামী লীগই করেছে। নিম্ন আদালতে নেত্রী বিচার পাবেন না সেটা বুঝি, কিন্তু উচ্চ আদালতে এখনও অনেক বিচারপতি রয়েছেন যারা ন্যায় বিচার করতে পারেন। প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু সেটা পূরণ হয়নি। তারাও এক ধরনের প্রেসারের মধ্যে থেকে নেত্রীর ন্যায় বিচার করতে পারছেন না। এখনও যখন জামিন হলো না সেক্ষেত্রে আমরা আন্দোলনের কথা ভাবছি। যখন আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তির আর কোনো রাস্তা থাকবে না তখন ন্যাচারালি আমরা হার্ড লাইনে যাবো। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত দেবেন। উনাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন কর্মীরা। 

বাংলানিউজ: কয়েকদিন আগে আপনাদের একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন- অনেক সময় নেতারা নির্দেশ দিতে পারেন না, কর্মীরা নেমে যান। সে রকম কিছু হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?

হাবিব উন নবী খান: বিষয়টা আসলে অনেকটা সেরকমই। আমাদের কর্মীদেরও ধৈর্যর বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। নেত্রীর প্রতি কর্মীদের ফিলিংস অনেক বেশি। যখনই নানা রকম সংবাদ আসে, নেত্রী মারাত্মকভাবে অসুস্থ, যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তখন তো কর্মীরা বসে থাকতে পারে না। এখন পর্যন্ত কর্মীরা নেতাদের নির্দেশ মানছেন। আশা করি যখন প্রয়োজন তখনই নির্দেশনাটা আসবে। এমন আশঙ্কা করি না যে দলীয় কর্মীরা নেতাদের নির্দেশনা অমান্য করে মাঠে নামবে।

বাংলানিউজ: ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে যদি কিছু বলেন? 

হাবিব উন নবী খান:  সরকার যেভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আছে তাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে একটা জাতীয় ঐক্য দরকার। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই আন্দোলনে শরি করতে হবে। এই কনসেপ্ট থেকেই মূলত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হয়েছিল। তবে ওই সময়টায় আমি জেলখানায় ছিলাম। আশাবাদী ছিলাম যে ঐক্যফ্রন্ট সবাইকে এক করে বড় একটা কিছু করবেন যাতে দেশ মুক্তি পাবে। কিন্তু অনেকদিন হয়ে গেলেও সেরকম কোনো আন্দোলন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে তৈরি হয়নি। আশাবাদী সামনের দিনগুলোতে হয়তো ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ব্যাপকভাবে ড্রাইভ দেবেন। এই সরকারের হাত থেকে জনগণ মুক্তি চায়। একটি জাতীয় ঐক্যের প্রত্যাশা জনগণ করে। আমরা এখনও হতাশ নই।

বাংলানিউজ: ঐক্যফ্রন্টের অনেক নেতা বলেন, ফ্রন্টকে আন্দোলনমুখী করার জন্য বিএনপিরই বড় ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল। সেটা কী পেরেছেন?

হাবিব উন নবী খান: আমাদের পক্ষ থেকে তো চেষ্টার অভাব নাই। আমরা বিগত নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টকে আমাদের সঙ্গে রাখার জন্য ভাইটাল সিটগুলো ছেড়ে দিয়েছি। যদিও ইলেকশন হয়নি। আমরা সহযোগিতা করবো না কেন, আমরাই তো সবচেয়ে বড় ভিকটিম এই সরকারের। আমাদের গ্রাম পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পর্যন্ত এই সরকারের নির্যাতনের শিকার। কত কর্মীর জীবন গেছে। কত কর্মীর ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে গেছে। কত পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা এখান থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যদি তাদের সঙ্গে পাই তাহলে সহযোগিতা করবো না কেন?

বাংলানিউজ: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দাবি করে আসছে-নির্বাচনই হয়নি। তাহলে নির্বাচনের পরদিন থেকে আপনারা চুপসে গেলেন কেন? 

হাবিব উন নবী খান: দেখুন, ওই সময়টায় আমি জেলে ছিলাম। তাই এই প্রশ্নের উত্তরটা আমি দিতে পারবো না।
বাংলানিউজ: একটা কথা বলা হয়ে থাকে- পাবলিক ইস্যুগুলো বিএনপি কাজে লাগাতে পারছে না। জনগণের পক্ষ হয়ে কিছু করতে পারছে না-এই অভিযোগের জবাবে কী বলবেন?

হাবিব উন নবী খান: আমরা একটা সাংগঠনিক প্রসেসের মধ্যে রয়েছি। হুট করে আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা দিলে আমাদের এই কাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারপরও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় দেশব্যাপী জনমত তৈরি করতে পেরেছি। ঘটনা তো প্রতিদিনই ঘটছে। প্রতিদিনই তো আর বড় মুভমেন্ট করা যায় না। একটা বড় মুভমেন্ট করতে গেলে সময় লাগে। পেঁয়াজ ইস্যু নিয়ে আমাদের নেতারা কথাবার্তা বলছেন, পত্রিকায় এসেছে। পাবলিক ইস্যুগুলো নিয়ে আমাদের কর্মসূচি থাকে না সেটা ঠিক না। সবকিছুই পাবলিক ইস্যু। আমরা ফ্রি-ফেয়ার ইলেকশনের জন্য আন্দোলন করছি। এটাই বড় পাবলিক ইস্যু। মানুষ ভোট দিতে পারেনি। যেটা হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়। জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল একটি সরকার থাকলে অনেক পাবলিক ইস্যু সামনে আসে না। এই সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ইস্যু এসেছে, যার ফলশ্রুতিতে মানুষ সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এখন দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ এই সরকারের বিরুদ্ধে। এমন জনসমর্থনহীন অবৈধ সরকার এর আগে কখনও ছিল না।

বাংলানিউজ: আপনারা বলছেন, সরকারের জনসমর্থন নেই। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- তাদের জনসমর্থন রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

হাবিব উন নবী খান: দেখুন, একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। সেই জনগণ  অনেক কিছু দেখে-বুঝে তারপর সিদ্ধান্ত নেয়। জনগণ যখন একবার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় তখন পরিণতি খুবই করুণ হয়। যে পরিণতি পরে যারা আসেন তাদের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকে। আওয়ামী লীগ হয়তো আগামী দিনে পলিটিশিয়ানদের জন্যে শিক্ষা তৈরি করবে। 

বাংলানিউজ: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। 
হাবিব উন নবী খান: বাংলানিউজ ও এর অগণিত পাঠককেও ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৫০ ঘণ্টা, নভেম্বর ২০, ২০১৯
এমএইচ/এমএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: বিএনপি
নওশাবার মামলা: আপিলে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি রোববার
ইরানি নৌবাহিনীর নতুন ড্রোন উন্মোচন
এনটিভির ভিডিও এডিটর আতিক হত্যায় হাইকোর্টের রায় রোববার
সেই বিদ্যালয় ভবনের অনিয়ম পরিদর্শনে নির্বাহী প্রকৌশলী
আপনার প্রিয় এই তারকাকে চিনতে পারছেন তো?


ফেনীতে খাদ্যপণ্য তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ড 
দেশে এখন প্রকাশ্যে লুটপাট চলছে: এলডিপি মহাসচিব
বরিশাল আ’লীগের সম্মেলন রোববার, নজর সভাপতি-সম্পাদক পদে
জনি-উডকে নিয়ে টেস্ট স্কোয়াডে ফিরলেন অ্যান্ডারসন 
রাজশাহী আ’লীগের শীর্ষ দুই পদেই আসছে ‘চমক’