ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ১১ আগস্ট ২০২০, ২০ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

করোনায় নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১২৬ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২০
করোনায় নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

ঢাকা: করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিকালে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা পরিস্থিতি ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির বিষয়ে অনলাইনে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। করোনা সংকটে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বাড়া, বাল্যবিয়ে বেড়ে যাওয়া এবং নারী ও কন্যাশিশুর নির্যাতন বাড়ার কারণে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

বুধবার (১৫ জুলাই) পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে অনলাইনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।  

এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

 

সংবাদ সম্মেলন বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ডিরেক্টর লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড লবি অ্যাডভোকেট মাকছুদা আখতার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, করোনা সংকটকালীন সময়ে নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা, বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্যাতনের এক ভিন্ন মাত্রা ধারণ করেছে। ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, বাল্যবিয়ে, বৈবাহিক ধর্ষণ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, সাইবার ক্রাইম ও পাচারের ঘটনা ঘটছে। লকডাউনে শিশু ও প্রতিবন্ধী নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, গণধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে।

লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সংরক্ষিত ১৩টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত নারী নির্যাতনের ঘটনার পেপার ক্লিপিং এর ভিত্তিতে জানুয়ারি-জুন, ২০২০ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনার তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে করোনা রোধের সঙ্গে সঙ্গে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য পরিষদ থেকে দেশের সরকার প্রধান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বেশিকিছু  সুপারিশ করা হয়।

এগুলো হলো- করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য জরুরিভাবে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ ও বিনিয়োগ করা, নারী ও শিশুর প্রতি সংবেদনশীলতায় গুরুত্বারোপ করে সব থানায় নারী ডিউটি অফিসারের কার্যক্রম নিশ্চিত করা, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবার পরিধি বাড়ানো, নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকাসহ সব বিভাগীয় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারগুলো বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের সময় পর্যন্ত আশ্রয়সহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, নির্যাতনের শিকার নারীর দ্রুততম সময়ে অভিযোগ করার জন্য হট লাইনের কার্যক্রম আরও জোরদার করাসহ সেবার পরিধি বাড়ানো, বাল্যবিয়ে রোধে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো, শিক্ষায় ঝরে পড়া বন্ধের লক্ষ্যে সবার জন্য উপবৃত্তি নিশ্চিত করা ইত্যাদি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করতে হবে। নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য নিশ্চিতের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ভার্চ্যুয়াল কোর্টের এখতিয়ার বাড়ানো কথা বলা হয়েছিল যা ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে। সীমিত পরিসরে হলেও গুরুত্বপূর্ণ পুরানো মামলার শুনানি ভার্চ্যুয়াল কোর্টে হতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে নারী ও কন্যাশিশুর জীবন অনেকক্ষেত্রে দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বর্তমান সংকটে পারিবারিক ক্ষেত্রে নারীর কাজের সঙ্গে সঙ্গে অন্য কাজের বোঝাও বেড়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে নারীর প্রতি সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে দূর করতে হলে আলাদাভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে রয়েছে। এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে হলে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করতে হবে।

সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক সাহানা কবির, অর্থ সম্পাদক দিল আফরোজ বেগম, সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের সদস্য ও আইনজীবীসহ বিশিষ্ট জনেরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ০১২৬ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২০
এইচএমএস/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয় এর সর্বশেষ

Alexa