ঢাকা, রবিবার, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৮ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

বরগুনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা

উপজেলা করসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮০৮ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০২০
বরগুনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা .

বরগুনা: বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া গ্রামে আব্দুল খালেক চৌকিদার নামের একজনকে পরিকল্পিত হত্যার পর আত্মহত্যা বলে প্রচার চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

মৃতের ভাই মো. মিলন বাদী হয়ে এ বিষয়ে বরগুনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে মামলা নিয়েছে বরগুনা থানার পুলিশ।

লিখিত অভিযোগের বর্ণনায় মৃতের ভাই মো. মিলন উল্লেখ করেন, তার ভাই আব্দুল খালেক চৌকিদারের স্ত্রী সৌদি আরবে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। ছয় বছরের একটি কন্যা সন্তান নিয়ে আব্দুল খালেক বাড়িতে বসবাস করতেন। সৌদি থেকে তার স্ত্রীর পাঠানো টাকা স্থানীয়ভাবে সুদে লাগিয়ে ব্যবসা করতেন আব্দুল খালেক চৌকিদার। তিনি একই গ্রামের আফেজ খা এবং তার স্ত্রী আছিয়া বেগমকে ধর্মের শাশুড়ি হিসেবে আত্মীয়তা করেছিলেন এবং তাদের কাছে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যবসার জন্য বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু ব্যবসার কোন লভ্যাংশ এবং আসল টাকা দীর্ঘদিনেও ফেরত না দিয়ে গড়িমসি করতে থাকেন আফেজ খা এবং তার স্ত্রী আছিয়া বেগম।

মো. মিলন আরও উল্লেখ করেন, গত ৮ জুলাই বুধবার রাতে আফেজ খার স্ত্রী, তার ভাইয়ের স্ত্রীসহ নাতি-নাতনি নিয়ে আব্দুল খালেকের বাড়ি বেড়াতে যান। আব্দুল খালেকের স্ত্রী সৌদি থাকেন সেকারণে আব্দুল খালেক-এর ধর্ম শাশুড়ি আছিয়া বেগম ও তার ভাইয়ের স্ত্রী আব্দুল খালেকের বাড়িতে নিজেরাই রান্নাবান্না করে খাওয়া দাওয়া করেন। পরে তারা নিজেদের বাড়ি গিয়ে অসুস্থতার ভান করেন এবং অভিযোগ তোলেন যে আব্দুল খালেক চৌকিদার তাদের ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বেহুশ এবং অসুস্থ করেছেন। এই অভিযোগে আব্দুল খালেক চৌকিদারকে ধরে এনে আফেজ খা তার বাড়িতে গাছের সাথে বেঁধে রাখেন। একই গ্রামের মো. আতিক হাওলাদারকে সালিশ মনোনীত করে তার নেতৃত্বে সারারাত আব্দুল খালেক চৌকিদারকে নির্মমভাবে মারধর করেন। এ সময় মোহাম্মদ আতিক হাওলাদারের নেতৃত্বে আব্দুল খালেককে মারধর করেন একই গ্রামের নূর হোসেন, আফেজ খা এবং মো. মজনু খা।

পরে আব্দুল খালেকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আতিক হাওলাদারসহ প্রতিপক্ষের লোকজন ওই রাতেই তাকে তার বাড়ি পৌঁছে দেন এবং সেখানেও তাকে মারধর করেন এবং মোবাইল ছিনিয়ে নেন। এ সময় আশে পাশের বাড়ির লোকজন আব্দুল খালেকের বাড়িতে এসে ঘটনা জানতে চাইলে মো. আতিক হাওলাদারসহ প্রতিপক্ষের লোকজন সবাইকে মামলার ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন।  

এরপর মো. আতিক হাওলাদারসহ প্রতিপক্ষের লোকজন জোরপূর্বক আব্দুল খালেক চৌকিদারকে কীটনাশক ওষুধ খাওয়ান। তখন আব্দুল খালেক চৌকিদার বিষক্রিয়ায় মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন এবং উঠানে কাদামাটির ভিতরে গড়াগড়ি খান।

এসময় মুমূর্ষু আব্দুল খালেক চৌকিদার নিজেকে বাঁচানোর জন্য হাসপাতালে নিতে বহু আকুতি-মিনতি করেন কিন্তু তাকে হাসপাতালে না নিয়ে সেখানে চেয়ার নিয়ে বসে থাকেন এবং বাদাম খেতে থাকেন মো. আতিক হাওলাদার ও তার লোকজন। এ সময় পুনরায় আব্দুল খালেক চৌকিদারের আর্তনাদ শুনে আশেপাশের বাড়ির লোকজন উপস্থিত হলে তাদেরকে নানা ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন আতিক হাওলাদার ও তার লোকজন।

চেয়ারম্যান হানিফ মাতবর এসে আব্দুল খালেক চৌকিদারকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। হাসপাতলে আব্দুল খালেক চৌকিদারকে রেখে আতিক হাওলাদারসহ প্রতিপক্ষের লোকজন পালিয়ে যান। পরের দিন ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরের পর বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে আব্দুল খালেক চৌকিদারের মৃত্যু হয়।

পরে মৃতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে তাকে তার নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।  

এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে গত রোববার (১২ জুলাই) বরগুনা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন মৃতের ভাই মো. মিলন।  

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে অভিযুক্ত মো. আতিক হাওলাদার, মো. আফেজ খা, মো. নূর হোসেন এবং মো. মজনু খার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে মামলা নেয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮০৮ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০২০
এমকেআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয় এর সর্বশেষ

Alexa