ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২২ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

পদ্মায় তীব্র স্রোত, পাটুরিয়ায় যানবাহনের দীর্ঘ জট

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪৩২ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০২০
পদ্মায় তীব্র স্রোত, পাটুরিয়ায় যানবাহনের দীর্ঘ জট

মানিকগঞ্জ: পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় নৌরুটে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পাটুরিয়া পয়েন্টে যানবাহনের সারি দীর্ঘ হচ্ছে। এতে করে পরিবহনের যাত্রী ও পণ্যবোঝাই ট্রাকের শ্রমিকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ঘটে পারের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় পাঁচ শতাধিক যানবাহ।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর দেড়টার সময় পাটুরিয়া ঘাট পয়েন্টে আড়াই শতাধিক পণ্যবোঝাই ট্রাক, যাত্রীবাহী পরিবহন অর্ধশত যাত্রীবাহী পরিবহন এবং পাটুরিয়া-আরিচা সংযোগ মোড়ে ঘাটে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে আরও আড়াই শতাধিক পণ্যবোঝাই ট্রাক।

>>>পাটুরিয়া ঘাটে পারের অপেক্ষায় সাড়ে তিন শতাধিক যানবাহন

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে।

দুপুর হলেও যানবাহনের চাপ কমেনি। পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত আর লক্কর ঝক্কর ফেরির কারণে এ যানবাহনের চাপ সামাল দিতে কিছুটা হিমসিম খাচ্ছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। নদীতে স্রোতের কারণে ফেরিগুলো চলাচল করতে বেগ পেতে হচ্ছে।

যশোরগামী পরিবহনের যাত্রী কাজল বাংলানিউজকে বলেন, প্রায় ঘণ্টা খানেক পাটুরিয়া ঘাটে ফেরির অপেক্ষায় আছি। এ অপেক্ষার প্রহরটা অনেক কষ্টদায়ক। আমরা যারা বড় তারা এ অপক্ষোর প্রহর মেনে নিতে পারলেও ছোট বাচ্চারা তা মানতে পারছে না । শুনছি ফেরি সংকটের কারণে নাকি এতো সময় লাগচে।  

ওই গাড়ির চালক ইয়াকুর মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, রাস্তায় তেমন যানজট নেই কিন্তু পাটুরিয়া ঘাটে এসে নৌরুট পারের অপেক্ষায় রয়েছি। নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে পারে সময় বেশি ব্যয় হয়, এছাড়া এ নৌরুটে চলাচল করা ফেরিগুলো অনেক পুরনো যে কারণে স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে পারে না।

মাওনা থেকে আসা ফরিদপুর গামী পণ্যবোঝাই ট্রাকের চালক রুবেল শেখ বাংলনিউজকে বলেন, আমি গতকাল দুপুর ১ টার সময় পাটুরিয়া ঘাটে এসেছি এখনো পার হতে পারিনি। কিছু সময় আগে ফেরি পারের টিকিট পেয়েছি কিন্তু পরিবহনের চাপ না কমলে ফেরির দেখা পাবো না।

ট্রাক ট্রার্মিনালে আবস্থানকারী আরও এক কাভার্ডভ্যান চালক সুমন বলেন, মধ্যরাতে এসেছি, এখনো টিকিট কাটতে পারি নাই। টিকিট দেওয়া আপাতত বন্ধ রেখেছে। পরিবহনের চাপ না কমলে টিকিট দেবে না টিকিট কাউন্টার থেকে। আমরা যদি মানুষ হতাম তবে পরিবহনের পাশাপাশি দু-একটি করে পণ্যবোঝাই ট্রাক তারা পার করতো।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ফেরি চালক বাংলানিউজকে বলেন, নদীতে স্রোতের কারণে ফেরিগুলো চলতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এ নৌরুটের চলাচলকারী অধিকাংশ ফেরি পুরানো, বর্ষার সময় এ লক্কর-ঝক্কর ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার অনেকটাই ঝুঁকির্পূণ। যেকোনো সময় এ লক্কর-ঝক্কর ফেরিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা সেক্টরের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ রয়েছে, পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি তীব্র স্রোত থাকায় ফেরি চলাচলে বেশ বেগ পৌহাতে হচ্ছে। আগের চেয়ে কিছু সময় বাড়তি ব্যয় হওয়ায় ফেরির ট্রিপের সংখ্যা কমে গেছে যার কারণে পাটুরিয়া পয়েন্টে যানবাহনের সারি দীর্ঘ হচ্ছে। র্বতমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৩টি ফেরি চলাচল করলেও বাকি তিনটি ফেরির মধ্যে একটি নদীতে চলাচল করতে পারছে না এবং বাকি দুটি ভাসমান কারখানা মধুমতিতে মেরামতের জন্য রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৩০ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০২০
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয় এর সর্বশেষ

Alexa