ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২২ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

পঞ্চগড়ে মাছ শিকারের ধুম

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪১৪ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০২০
পঞ্চগড়ে মাছ শিকারের ধুম

পঞ্চগড়: সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯), এর প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষ। ঠিক সে সময় করোনাকে উপেক্ষা করে বর্ষা মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন খাল-বিল ও নদ-নদীতে মাছ শিকারের ধুম পড়েছে। খাল, বিল, নদী নালাসহ বিভিন্ন জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানিয়রা।

মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবীরা দির্ঘদিন ধরে অলস সময় পার করছিলেন। সেসময় বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় জলাশয় ও নদী খালে মাছ শিকার করছেন স্থানীয়রা।

দিন রাত ধরে এ মাছ শিকার করে স্থানীয় হাটবাজারে চড়া দামে বিক্রি করছেন বলে জানান জেলেরা।  

এ মৌসুমে মাছ শিকার করেই দিনযাপন করছে শত শত জেলে পরিবার। অন্যদিকে কেউ বা আনন্দের সঙ্গে পরিবার পরিজনদের নিয়ে শখের বশে মাছ ধরছে। কেউ বড়শি দিয়ে, কেউ জাল টেনে, কেউ দাঁড়কি দিয়ে, কেউবা কারেন্ট জাল পেতে মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।  

বর্ষার পানিতে মাছ ধরতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন গ্রামের খাল-বিল ও নদ-নদীতে। গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে পঞ্চগড়ের করতোয়া, মহানন্দা, চাওয়াই, তালমাসহ জেলার ৩৩টি নদ- নদীসহ বিভিন্ন খাল-বিলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দেখাও মিলছে ওই সব নদ-নদী ও খাল বিলে। তাই উৎসবমুখর পরিবেশে মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে এলাকার তরুণ-তরুণীসহ পেশাজীবী মৎসজীবীরা। অনেকে সারাদিন মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। আবার অনেকে সখের বসেও নদীতে মাছ শিকারে নেমেছে।  

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, করোনায় মানুষের কর্ম সংস্থান ও আয়ের উৎস কমে যাওয়ায় অধিকাংশ মানুষ বর্ষার নতুন পানিতে মাছ শিকারে নেমে পড়েছে। নদী এলাকার গ্রামগুলোতে জাল তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে। তবে মাছ ধরার প্রাচীন উপকরণের মধ্যে রয়েছে দাঁড়কী ও জাল। তাই বর্ষায় দাঁড়কীর ও জালের কদরও অনেকটা বেড়ে গেছে।  

তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর এলাকার স্থানীয় মৎসজীবী আনারুল বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের পৈত্রিক পেশা মাছ শিকার করা। আগের দিনে প্রায় পুরো বছর খাল বিলে পানি থাকতো। তাই পুরো বছর মাছ ধরা এবং বিক্রি হতো। কিন্তু বর্তমানে বছরের ৮/১০ মাসই খাল-বিলে পানি থাকে না। শুধু বর্ষা মৌসুমেই খাল-বিলে নতুন পানি হলে আমরা মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।

স্থানীয় বাবুল হোসেন বলেন, করোনায় কাজ কাম বন্ধ রয়েছে তাই মাছ শিকার করে দিন অতিবাহিত করছি।

স্থানীয় সিদ্দিক হোসেন বলেন, দেশি জাতের ছোট মাছ আগের দিনে কেউ কিনতেই চাইতো না। কিন্তু বর্তমানে পুকুরে চাষ করা রুই-কাতলা, সিলভারকার্প ও পাঙ্গাশের চেয়ে দেশি জাতের টেংরা, পুঁটি, শিং, মাগুর, কৈ ও শাটি মাছের দাম অনেক বেশি। তাই আমাদের পক্ষে কেনা সম্ভব হয় না। আমরা বাজার থেকে দাড়কী জাল কিনে নিয়ে নদীতে মাছ ধরি।

বাংলাদেশ সময়: ১৪১২ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০২০
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয় এর সর্বশেষ

Alexa