ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ আগস্ট ২০২০, ২৩ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

তিস্তাপাড়ে বন্যার উন্নতি হলেও অবনতি হয়েছে ধরলা পাড়ে

206 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৩৯ ঘণ্টা, জুলাই ১৪, ২০২০
তিস্তাপাড়ে বন্যার উন্নতি হলেও অবনতি হয়েছে ধরলা পাড়ে

লালমনিরহাট: উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তা ও ধরলা নদীর তীরবর্তী জনপদ লালমনিরহাটে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় তিস্তাপাড়ে বন্যার উন্নতি হলেও অবনতি ঘটেছে ধরলা পাড়ে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৪২ সেন্টিমিটার। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ফলে বন্যার উন্নতি ঘটতে শুরু করেছে।  

অপরদিকে ধরলা নদীর পানি শিমুলবাড়িয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৩১ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার। যা (স্বাভাবিক ৩১ দশমিক ০৯ সেন্টিমিটার) বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লালমনিরহাটের ধরলা পাড়ে বন্যার অবনতি ঘটেছে।  

এর আগে শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর থেকে বিপৎসীমা অতিক্রম করে টানা তিন দিন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তিস্তার পানি। রোববার রাতে বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তাপাড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া শাখা। তবে তা সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় কমতে শুরু করলে লোকজন ঘরে ফিরতে শুরু করে।

জানা গেছে, লালমনিরহাট জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া তিস্তা আর ধরলা নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ায় উজানের সামান্য ঢলেই ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে এ জেলার মানুষ। কয়েকদিনের টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। ওই দিন দুপুর থেকে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হয়। তা অব্যাহত থেকে রোববার (১০ জুলাই) রাতে আরো বেড়ে গিয়ে বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে জেলার ৫টি উপজেলার ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। তাই ব্যারেজ রক্ষার্থে ফ্লাড বাইপাসের উপর দিয়ে পানি প্রবাহের আশঙ্কায় তিস্তা পাড়ে রেড এলার্ট জারি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং শুরু করে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এর একদিন পর সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে তিস্তা নদীর পানি কমে গিয়ে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। টানা ৩ দিন পরে উন্নতি ঘটে তিস্তাপাড়ের বন্যা পরিস্থিতি। মুক্তি পেতে শুরু করেছে পানিবন্দি পরিবারগুলো। নিরাপদ স্থলে আশ্রয় নেওয়া মানুষজন ঘরে ফিরতে শুরু করেছে।  

তবে এ পানি পুরোপুরি নেমে যেতে আরো ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগবে বলে স্থানীয়দের দাবি। টানা পানিবন্দি থাকায় বন্যাকবলিতদের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার স্রোতে ভেঙে গেছে ঘর বাড়ির বেড়াসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র। পানির প্রচণ্ড স্রোতে অনেকের ঘর বাড়ির ভেতরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব মেরামত করতেও এক সপ্তাহ কেটে যাবে। পানি কমলেও ভাঙন আতঙ্কে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ। তিস্তার বাম তীরের প্রতিটি গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে তিস্তাপাড়ের মানুষের। ত্রাণ নয়, নদী খনন করে দুই পাড়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি তিস্তাপাড়ের মানুষের। তারা স্থায়ী ভাবে ভালোবাসার নীড়ে আপন ঘরে থাকার নিশ্চয়তা চান।

পাটগ্রামের দহগ্রামের ছকিনা বেগম বলেন, কত কষ্ট করি ঘর বানাইছি। বানের পানিত সেই ঘর ভাঙ্গি গেইছে। ঘরে বড় বড় খাইল (গর্ত) হইছে। এবারের মত বান (বন্যা) ৪০ বছরেও দেখি নাই। হামার খবর কায়ো নেয় না বাহে।

অপরদিকে ধরলা নদীর পানি মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে শিমুলবাড়িয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সদর উপজেলার মোগলহাট, কুলাঘাট ও বড়বাড়ি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে ধরলা পাড়ে। বন্যা কবলিতদের দুর্ভোগ চরম পর্যয়ে পৌঁছেছে। শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন বন্যা দুর্গতরা।  

সোমবার(১৩ জুলাই) সকালে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার নিজ গড্ডিমারী গ্রামে ঘুমন্ত মায়ের কোল থেকে বন্যার পানিতে পড়ে ৮ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্য হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রুপ বৃদ্ধি পেয়েছে।  

তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, তিস্তার পানি টানা ৩ দিন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় কমতে শুরু করে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে নেমে এসেছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। আশ্রয় কেন্দ্র থেকে মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তবে আগামী এক/দুই দিন উজানের ঢলে তিস্তায় পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তিনি।  

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বাংলানিউজকে বলেন, তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে আসায় বন্যার উন্নতি ঘটেছে। তবুও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জিআর ও ভিজিএফ মিলে এক হাজার ১৯০ মেট্রিকটন চাল, ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও নগদ ২২ লাখ ২৫ হাজার ৭শ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা বিতরণ শুরু হয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে তিস্তাপাড়ে। এ পর্যন্ত প্রায় ২০২টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

** তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে, রেড অ্যালার্ট জারি

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩২ ঘণ্টা, জুলাই ১৪, ২০২০
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয় এর সর্বশেষ

Alexa