ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ১১ আগস্ট ২০২০, ২০ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

ঘিওরে জমে উঠেছে নৌকার হাট

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৩২ ঘণ্টা, জুলাই ১৩, ২০২০
ঘিওরে জমে উঠেছে নৌকার হাট

মানিকগঞ্জ: বর্ষার আগমনে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় শত বছরে ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। 

জেলার নিম্নাঞ্চলে বর্ষার পানি প্রবেশ করতে শুরু করায় কিছু কিছু এলাকার জনবসতি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ওই সব পানিবন্দি মানুষের চলাচলের জন্য ডিঙি নৌকায় একমাত্র ভরসা।

যে কারণে এসব নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ সাধ্যের মধ্যে নৌকা কিনতে হাটে ছুটে আসছে প্রতিনিয়ত।

মানিকগঞ্জ জেলার চারপাশে বেশ কয়েকটি ছোট বড় নদী বয়ে গেছে। হরিরামপুর উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে উত্তাল পদ্মা, শিবালয়, দৌলতপুর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা, ঘিওর উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কালিগঙ্গা। বর্ষার শুরুতেই এসব উপজেলার নিম্নাঞ্চল হয়। এজন্য এসব নিম্নাঞ্চলের মানুষের মালামাল পরিবহন ও যাতায়াতের একমাত্র বাহন হয়ে উঠেছে নৌকা।  

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘিওর উপজেলার ঐতিহ্য বহন করছে শত বছরের পুরনো নৌকার হাট। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ হাটে নৌকা কিনতে ক্রেতারা ভিড় করছে এবং বিক্রেতারা নৌকা সাজিয়ে বসে আছে। ওই সব পানিবন্দি নিম্নাঞ্চলের মানুষ জন্য উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে টাঙ্গাইলের নাগরপুর, ঢাকার সাভার, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত নৌকা নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। মহামারি করোনার জন্য ক্রেতা-বিক্রেতারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সাধ্যের মধ্যে নৌকার দরদাম নিয়ে ব্যস্ত। নৌকার কাঠামো তৈরিতে মেহগনি, কড়ই, আম চাম্বল এবং রেইন্টি কাঠের ব্যাবহার সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। প্রতিটি নৌকা মান ও আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে। একেকটি নৌকা ৩ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয় তবে এ বছর নৌকার দাম নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে।  

ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট।  ছবি: বাংলানিউজ

উপজেলার জিয়নপুর এলাকা থেকে নৌকার ক্রেতা লতিফ মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিবছর বর্ষার সময় নৌকা ছাড়া চলাচল আমাগো অসুবিধা হয়ে যায়। গত বছর পুরনো ডিঙি দিয়েই চলেছি কিন্তু এ বছর ওই ডিঙি নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে ঘিওরের নৌকার হাটে এসেছি নৌকা কিনতে। তবে এ বছর মনে হয় নৌকার দাম অনেক বেশি। তবুও চেষ্টা করছি স্বাধ্যের মধ্যে একটি ডিঙি নৌকা কিনতে।

ঘিওরের হাটে ডিঙি নৌকা বিক্রেতা মানিক চাঁদ সূত্রধর বাংলানিউজকে বলেন, বর্ষার শুরুতেই নৌকার ব্যাপক চাহিদা বাড়ে। প্রতিদিন ৭-৮টি নৌকা বিক্রি করি তবে এ বছর নৌকা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঠ ও লোহার দাম কিছুটা বেশি। যে কারণে নৌকা তৈরিতে খরচ আগের চেয়ে একটু বেশি পড়ছে আর এ কারণেই নৌকার দাম কিছুটা বেড়েছে।  

নৌকার ব্যাপারী শ্যামল মাঝি বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিবছর আমি সিরাজগঞ্জ ও ঢাকার সাভার থেকে নৌকা অর্ডার দিয়ে তৈরি করে এ হাটে এনে বিক্রি করি। এ বছরও বেশ কয়েকটি নৌকা নিয়ে এসেছি। দশ হাত একটি নৌকা তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রয় করছি এ রকম ১১/৩ সাইজের নৌকা চার হাজার, ১২/৩ সাইজের সাড়ে চার হাজার, ১৩/৩ সাইজের পাঁচ হাজার, ১৪/৩ সাইজের সাড়ে পাঁচ হাজার এবং ১৫/৩ সাইজের নৌকা বিক্রি করি সাত-আট হাজার টাকায়।  

এ নৌকার হাটের সাধারণ সম্পাদক মওলানা আব্দুল মতিন মুসা বাংলানিউজকে বলেন, নৌকার হাটটি শত বছরের পুরনো। এ হাটটি আমাদের উপজেলার ঐতিহ্য বহন করে চলছে এখনো। বর্ষা এলেই এ হাটে শুধু মানিকগঞ্জ জেলা নয় আশেপাশের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ পছন্দ অনুযায়ী নৌকা কিনতে ছুটে আসে। এ বছরও শত শত নৌকা নিয়ে হাজির হয়েছে নৌকা ব্যাবসায়ীরা আর প্রতিদিন ক্রেতা-বিক্রেতাদের মিলন মেলায় মুখরিত হয় ঐতিহ্যবাহী নৌকার এ হাটটি।

বাংলাদেশ সময়: ১৫২৪ ঘণ্টা, জুলাই ১৩, ২০২০
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয় এর সর্বশেষ

Alexa