ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ আগস্ট ২০২০, ২৩ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

মেডিক্যাল ও করোনা বর্জ্যে মানুষ ও পরিবেশ উভয় বিপদগ্রস্ত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৪০ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০২০
মেডিক্যাল ও করোনা বর্জ্যে মানুষ ও পরিবেশ উভয় বিপদগ্রস্ত পবা’র অনলাইন সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

ঢাকা: করোনাকালে মেডিক্যাল বর্জ্য ও কোভিড বর্জের সমন্বয়ে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের স্বাস্থ্য দুটোই বিপদগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১১টায় পবা আয়োজিত ‘করোনাকালে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী।

সভাপতিত্ব করেন পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খান। সঞ্চালনা করেন  পবা সম্পাদক মেসবাহ সুমন।

অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ সভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব, প্রথিতযশা চিকিৎসা বিজ্ঞান লেখক অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী, পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক প্রকৌশলী আবদুস সোবহান, হেলথ এন্ড হোপ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. পংকজ কান্তি সূত্রধর।

বক্তারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মানুষের অসুস্থতাজনিত এবং তার চিকিৎসায় মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্টের কারণে উৎপাদিত অপ্রয়োজনীয় বস্তু ও তরল পদার্থসমূহ যেগুলো ফেলে দেয়া হয়, সাধারণভাবে সেগুলোই হলো মেডিক্যাল বর্জ্য। হাসপাতাল, ক্লিনিক, নার্সিং হোম, ডাক্তারের চেম্বারে এই বর্জ্য সাধারণত উৎপন্ন হয়। বাড়িতে অবস্থানরত রোগীর চিকিৎসাতেও মেডিক্যাল বর্জ্য তৈরি হয়। কোভিড-১৯ মহামারির কালে  মেডিক্যাল বর্জ্যের সাথে যুক্ত হয়েছে কোভিড বর্জ্য। একজন মানুষ কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়া ও তার চিকিৎসার কারণে কোভিড বর্জ্য তৈরি হয়। মেডিক্যাল বর্জ্য ও কোভিড বর্জের সমন্বয়ে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের স্বাস্থ্য দুটোই বিপদগ্রস্ত হচ্ছে।

মেডিক্যাল বর্জ্যের কারণে মানুষের যেমন ক্ষতি হয় তেমনি পরিবেশেরও ক্ষতি হয়। সংক্রামক রোগব্যাধি ছড়ানোর একটি অন্যতম উৎস হচ্ছে মেডিক্যাল বর্জ্য। এই বর্জ্যের দ্রবণীয় ক্ষতিকর পদার্থ নানাভাবে মানুষের, স্থলচর ও জলচর প্রাণীর খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে। পুরো ব্যাপারটিই মানুষের অসুস্থতা এবং পরিবেশের দূষণের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। সাধারণ মেডিক্যাল বর্জ্যের সাথে করোনাকালে যুক্ত হয়েছে কোভিড বর্জ্য। সঠিক ব্যবস্থাপনার আওতায় না আনলে এগুলো করোনা ভাইরাস  ছড়ানোর উৎস হয়ে উঠবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ৫ দফা সুপারিশমালা প্রস্তাব করা হয়:

১. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের পরিবেশ কার্যক্রমের নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরিভিত্তিতে একটি ‘জাতীয় মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ গাইডলাইন তৈরি করা। এই গাইডলাইন মেনে চলতে প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করা এবং জনসাধারণকেও উদ্বুদ্ধ ও বাধ্য করা।

২. মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সাথে স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য অফিস ও পরিবেশ অফিস অবশ্যই যুক্ত থাকবে। উপজেলা/জেলা পর্যায়ে ‘আইনশৃংখলা রক্ষা কমিটি’ মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার তত্ত্বাবধানে থাকবে।

৩. মেডিক্যাল বর্জ্য নদীনালা, খালবিল, পুকুর, ডোবা, ড্রেন, রাস্তার পাশে, খোলা জায়গা ইত্যাদি স্থানে ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। এটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

৪. উপজেলা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত মেডিক্যাল বর্জ্যের জন্য 'ডাম্পিং স্থান' এবং 'ইনসেনিটার বা বিজ্ঞানসম্মত চুল্লী' স্থাপন করা জরুরি।

৫. মেডিক্যাল বর্জ্য বিশেষ করে এই করোনাকালে সংক্রামক কোভিড বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে গণমাধ্যমকে কাজে লাগাতে হবে। এজন্য জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মাঠ পর্যায়ের সকল সরকারি ও এনজিও কর্মীদের এই কাজে যুক্ত করতে হবে।

বাংলাদেশে সময়: ১৫৩৯ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০২০
আরকেআর/এমকেআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয় এর সর্বশেষ

Alexa