ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ১১ আগস্ট ২০২০, ২০ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

সিলেটে আরো দুদিন বৃষ্টি, সুনামগঞ্জে বন্যার অবনতি

343 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৩৫ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০২০
সিলেটে আরো দুদিন বৃষ্টি, সুনামগঞ্জে বন্যার অবনতি ফাইল ছবি

মৌলভীবাজার: সিলেট অঞ্চলে চলমান বৃষ্টিপাত আরও দুই দিন অব্যাহত থাকবে। এতে সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

১০ জুলাই সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিলেট শহরে ১১ দশমিক ৮ মিলিমিটার এবং ৯ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ১০ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সিলেট আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাইদ আহমেদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিপাত চলছে।

আগামীকাল বৃষ্টিপাত বেশি থাকবে, বিশেষত সিলেট জেলার জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট এবং কানাইঘাট; সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা, ছাতক উপজেলা এবং তাহিরপুর উপজেলায়। তবে মৌভীবাজার জেলাসহ সিলেট সদরে খুব বেশি বৃষ্টি হবে না। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হবে জৈন্তাপুর উপজেলায়।

গত কয়দিন ধরে সিলেটের জেলাগুলোতে অল্প অল্প বৃষ্টিপাত অর্থাৎ ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার হয়ে শুক্রবার থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে রূপ নিয়েছে।

এ আবহাওয়াবিদ আরো বলেন, সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত বেশি হচ্ছে। এই জেলার কিছু অংশ, ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের কিছু অংশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী দশ দিনের ভেতর আসাম ও মেঘালয়ে প্রায় ৮০০/৯০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত আছে এবং সুনামগঞ্জের দিকে আছে ৫০০ / ৫৫০ মিলিমিটার। এই ১৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের বেশিরভাগই আসবে সুনামগঞ্জ দিয়ে। সুনামগঞ্জে যে বন্যা পরিস্থিতি তার আরো অবনতি হবে। আজ ও আগামীকালের ভারী বৃষ্টিপাতে শহর পর্যন্ত বন্যার পানিতে তলিয়ে যাবে।

কম বৃষ্টিপাতের উপজেলা সম্পর্কে সাইদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, আগাম বর্ষা মৌসুমে বৃহত্তর সিলেটের মাঝে মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গলে মার্চ-এপ্রিল-মে মাসেই বেশি বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলা এবং কুলাউড়া উপজেলা। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে বৃহত্তর সিলেটের মাঝে শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজারে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়। হবিগঞ্জ আরো কম বৃষ্টিপাত হয়। আসামের দিকে বৃষ্টিপাত বেশি হলে মৌলভীবাজারের মনু-ধলাই নদীর পানি বাড়ে।

আবহাওয়াবিদ সাইদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে চলমান বৃষ্টি দু’দিন পর কমে যাবে। এই বৃষ্টিপাত খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে আগামী ১৮ থেকে ২০ জুলাই বেশি বৃষ্টিপাত হবে। সিলেট এবং সুনামগঞ্জের কোনো কোনো উপজেলা ভারতীয় সীমান্ত এলাকা সংলগ্ন হওয়ায় তাদের ভারী বৃষ্টিপাতের ধাক্কাটা আমাদের নদীগুলো দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এলাকায় বন্যার সৃষ্টি করে।

গত জুন মাসের ২৫-২৬ তারিখের দিকে সুনামগঞ্জে বন্যা হয়েছিল। এ বন্যার যে মোট বৃষ্টিপাত আমাদের জুন মাসে যে সাধারণ বৃষ্টিপাত অর্থাৎ ৮৮৬ মিলিমিটার হওয়া কথা; কিন্তু সাধারণ থেকে ১৮ মিলিমিটার কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাধারণ বৃষ্টিপাত হলেও কিন্তু বন্যা হওয়ার কথা না। কিন্তু দেখা গেছে বন্যা হয়েছে। এর মানে শুধু বৃষ্টিপাতই বন্যার প্রধান কারণ নয়; আমাদের এলাকায় যদি আপারের (উজান) বৃষ্টি আসে তবেই সমস্যা, বলেন আবহাওয়াবিদ সাইদ আহমেদ চৌধুরী।

বাংলাদেশ সময়: ১৩২৭ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০২০
বিবিবি/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয় এর সর্বশেষ

Alexa